
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | শনিবার, ১১ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ৭৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ প্রদানে সিকিউরিটি কাউন্সিলের ওপর চাপ প্রদানের অভিপ্রায়ে ১০ মে শুক্রবার সাধারণ পরিষদ আবারো ভোটে অবতীর্ণ হয়েছিল। গাজা সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এক জরুরি বিশেষ সভায় মিলিত হয়। সে সময় ফিলিস্তিনকে এই বিশ্বসভার পূর্ণ সদস্য পদ না দিয়েও পর্যবেক্ষক-সদস্য হিসেবে কথা বলার পূর্ণ অধিকারের প্রশ্নে এই ভোটের পক্ষে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৩ টি এবং যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি, আরজেন্টিনা, পাপুয়া নিউগিনি, মাইক্রোনেসিয়া এবং নাউরোসহ মাত্র ৯টি রাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দেয়। অনুপস্থিত ছিল ২৫ রাষ্ট্র। উল্লেখ্য, সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন ব্যতিত ফিলিস্তিন পূর্ণ সদস্যের মর্যাদা পাবে না। এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র এদিনও বলেছে যে, ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্য পদ প্রদানের ব্যাপারটির নিষ্পত্তি মধ্যপ্রাচ্যেই হতে হবে। সর্বশেষ এ ভোটে জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সিংহভাগের মনোভাব আবারো সিকিউরিটি কাউন্সিলে প্রেরণ করা হবে তাদের সিদ্ধান্ত বিবেচনার জন্যে। ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন-সহ বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম মন্তব্য করেছে যে, গত এপ্রিলের পর সর্বশেষ এই ভোটের মধ্যদিয়ে ইসরায়েলিদের বর্বরতার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন জোরালো হবারই প্রকাশ ঘটলো। ৭০টি সদস্য রাষ্ট্রের কো-স্পন্সরে এই রেজ্যুলেশন উত্থাপন করেছিল ইউএন আরব গ্রুপের বর্তমান চেয়ার সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এদিকে, জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, আসছে সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া সাধারণ অধিবেশনের শীর্ষ বৈঠকে ফিলিস্তিন বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা পাবে পর্যবেক্ষক হিসেবেও। এগুলো হচ্ছে, ১. অ্যালফাবেটিক্যাল অর্ডারে ফিলিস্তিনও অন্য সদস্যরাষ্ট্রের মত অধিবেশন কক্ষে বসবে, ২. গ্রুপভিত্তিক বিবৃতিও প্রদান করতে পারবে, ৩. যে কোনো ইস্যুতে প্রস্তাব কিংবা সংশোধনী উত্থাপন করতে পারবে, ৪. প্রস্তাব এবং সংশোধনীতে কো-স্পন্সর হতে পারবে ৫. নিয়মিত অথবা বিশেষ অধিবেশনে প্রস্তাব পেশ করতে পারবে এবং একইভাবে যে কোন বিষয় প্রস্তাবসমূহে সংযোজনের অধিকারও পাবে, ৬. সাধারণ অধিবেশনের মূল কমিটি অথবা প্লেনারি সেশনের অফিসার নিয়োগের অধিকার পাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ডেলিগেট-সদস্য হিসেবে এবং ৭. জাতিসংঘ সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের অধিকার পাবে এবং সাধারণ অধিবেশনসহ জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সভা আহবানের সুযোগও পাবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন বর্তমানে নন-মেম্বার পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। ২০১২ সালে সাধারণ পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সাধারণ পরিষদে তাদের ভোট প্রদানের অধিকার নেই।



