Advertisement Placeholder

খসরুর ঘাতক গ্রেফতার না হওয়ায় নিউইয়র্কে প্রবাসীদের বিক্ষোভ

বিশেষ সংবাদদাতা   |   সোমবার, ১৩ মে ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৬৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

খসরুর ঘাতক গ্রেফতার না হওয়ায় নিউইয়র্কে প্রবাসীদের বিক্ষোভ

জাকির হোসেন খসরুর ঘাতক গ্রেফতার এবং কম্যুনিটির নিরাপত্তা দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে নারী ও শিশুরাও ছিলেন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

প্রকাশ্য দিবালোকে ধাক্কা দিয়ে আহত করার ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী মো, জাকির হোসেন খসরু (৭৪)’র ঘাতক গ্রেফতার না হওয়ায় ১২ মে বিক্ষোভ-সমাবেশ হলো নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায়। শেরপুর জেলা সমিতি এবং জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সাথে ছিলো নতুন প্রজন্মের সদস্যরাও। কম্যুনিটির নিরাপত্তা এবং অবিলম্বে খসরুর ঘাতকের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে স্লোগান উঠেছিল ১৬৭ স্ট্রিট এবং হিলসাইড এভিনিউর কর্ণারের সেই স্থানে যেখানে খসরুকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছিল ৫ এপ্রিল অপরাহ্নে।

জামালপুরের সন্তান খসরুর সন্দেহভাজন কৃষ্ণাঙ্গ ঘাতকের ব্যাপারে পুলিশ পুরোপুরি নিশ্চিত হতে না পারলেও যে কোন সময় তার গ্রেফতারের সংবাদ পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারি পুলিশ স্টেশনের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন টিস্যাঙ জানান এই সমাবেশে বক্তব্যকালে। তিনি খসরুর স্ত্রী শামিমা আকতার শিউলিকেও একই আশ্বাস দিয়েছেন বিক্ষোভ-সমাবেশে। কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্তটি মাস্ক পরিহিত থাকায় আজ অবধি সুনির্দিষ্টভাবে তাকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভ সমাবেশের সঞ্চালনা করেন জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এবং শেরপুর জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান। সার্বিক পরিস্থিতির আলোকপাত করেন শেরপুর জেলা সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা আর কোন প্রবাসীকে এভাবে হারাতে চাই না। আমরা নিরাপত্তা চাই চলতি পথে। একইদাবিতে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন কম্যুনিটি লিডার ওসমান গণি, যুক্তরাষ্ট্র সফররত শেরপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া লিটন, বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন-বাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রিন্স আলম, সেক্রেটারি রাশেকুল মালিক এবং জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পেশ ইমাম মীর্জা আবু জাফর বেগ।

সমাবেশের সঞ্চালক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এ সময় উল্লেখ করেন যে, ২০২২ সালের ১১ মে এই একইস্থানে ভর দুপুরে ছিনতাইকারি এক দুর্বৃত্তের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ভ’ইয়া। তারও আগে প্রায় একই এলাকায় আরো কয়েকজন প্রবাসী আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্যে এ এলাকার পথচারিগণের নিরাপত্তা জোরদারের বিকল্প নেই। আমি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী বরাবরে আকুল আহবান জানাচ্ছি অবিলম্বে খসরু সাহেবের ঘাতক গ্রেফতারের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে।
বাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন প্রিন্স আলম প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, খসরুকে ধাক্কা দেয়া দৃর্বৃত্তের সন্ধান নিকটস্থ পুলিশকে দিতে কার্পণ্য করবেন না। যে কোন অন্যায়-অপকর্ম চোখে পড়লেই পুলিশের গোচরে আনতে হবে। তাহলেই দুর্বৃত্ত দমনে চলমান অভিযান শতভাগ সফল হবে।
বিক্ষোভ-সমাবেশের শেষে মাওলানা আবু জাফর বেগের নেতৃত্বে বিশেষ মোনাজাতে মো. জাকির হোসেন খসরুর আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং প্রয়াত খসরুর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করা হয়।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, গত ৮ মে সকালে নিউইয়র্ক সিটি হলের বারান্দায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৭ মার্চ দুপুরে ওজোনপার্কে নিজ বাসায় মা ও ছোট ভাইয়ের সামনে উইন রোজারিও (১৯) নামক এক বাংলাদেশী তরুণকে দুই পুলিশ অফিসার গুলি করে হত্যার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি জানানো হয়। সেই সংবাদ সম্মেলনে কম্যুনিটির সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারি ছাড়াও কথা বলেছেন সিটি কাউন্সিলের কয়েকজন মেম্বার এবং মানবাধিকার সংস্থার নেতৃবৃন্দ। উইন রোজারিও হত্যাকান্ডের তদন্ত চালাচ্ছে নিউইয়র্ক স্টেটের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত পুুলিশ অফিসারদের বডি ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশিত হলেও তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়নি কেন-এ প্রশ্নের অবতারণা করেন বক্তারা।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার