
বিশেষ সংবাদদাতা | বুধবার, ১৫ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় সিটি রাফায় বেসামরিক নাগরিক হত্যাযজ্ঞে ইসরায়েলি হামলায় ব্যবহৃত হবে বিধায় গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০০০ পাউন্ড বোমা-বিস্ফোরক ইসরায়েলে প্রেরণ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
এমনি অবস্থায় ১৪ মে মঙ্গলবার বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেসনাল কমিটিকে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলকে আরো এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্রেরণের চুক্তিতে আবদ্ধ হতে চাচ্ছে হোয়াইট হাউস। এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির সাথে জড়িত হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাগনের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টসহ শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবে রয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ট্যাঙ্ক-অ্যামুনিশন, ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ট্যাক্টিক্যাল ভেহিক্যল (স্থলপথে হামলার কৌশলী যুদ্ধ যান) এবং ৬০ মিলিয়ন ডলারের মর্টারের শেল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউজের সূত্র গণমাধ্যমে আরো বলেছেন যে, রাফায় নির্বিচার গণহত্যায় ব্যবহৃত হবার আশংকায় বাইডেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলের কাছে আর কোন সমরাস্ত্র প্রেরণে অনীহা প্রকাশের পর ডেমক্র্যাটিক পার্টির নীতি-নির্ধারণে থাকা সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
এর প্রভাব সামনের নির্বাচনে পড়বে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বন করায় নতুন প্রজন্মের আমেরিকানদের মধ্যে সৃষ্ঠ অসন্তোষের জের হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মুসলিম আমেরিকানরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেনকে ভোট প্রদানে বিরত থাকার। তাই ইসরায়েলের মত ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্রকে হাতছাড়া করার অর্থ হবে হাত-পা বেধে গভীর সমুদ্রে ঝাপ দেয়ার সামিল। এমন আশংকা প্রকাশকারিরা কদিন থেকে কংগ্রেসে বাইডেনের সমালোচনা করছেন। তারা ইসরায়েলের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অবস্থান পরিবর্তনকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না। এসব কারণেই হোয়াইট হাউজ ইসরায়েলকে আরো এক বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র প্রদানে সম্মত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইসরায়েলের সাথে ইতিপূর্বেকার চুক্তি অনুযায়ী সামরিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক স্যূলিভান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
তবে মানবিকতাসম্পন্ন আমেরিকানরা মনে করছেন বাইডেন প্রশাসনের সর্বশেষ এ মনোভাবে লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সাথে সাংঘর্ষিক। একদিকে লেবাননে বেসামরিক নাগরিক হত্যার জন্যে ইসরায়েলের সমালোচনা, অপরদিকে আরো অস্ত্র প্রদানের মনোভাবকে ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনার সামিল বলেও সমালোচকরা উল্লেখ করছেন। রাফার সীমান্ত সিটিতে হামাসের চার ব্যাটেলিয়ন জঙ্গির আস্তানা চিরতরে গুড়িয়ে দিতে ইসরায়েল গাজার দক্ষিনাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই সে এলাকার সাড়ে ৪ লাখ বাসিন্দাকে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। রাফায় মানবেতর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ত্রাণবাহি যান প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না। চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। গাজায় ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য প্রশাসন জানিয়েছে যে, দুর্ভিক্ষে অনেক শিশুর প্রাণহানী ঘটেছে। রাফাকে এখন ভুতুরে শহর মনে হচ্ছে বলে জাতিসংঘ ত্রাণ কর্মীরা মঙ্গলবার জানান। দিন-রাত অতিবাহিত হচ্ছে অনাহার-অর্দ্ধাহারে বলে উদ্বেগের সাথে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের উদ্ভাস্তু বিষয়ক কর্মকর্তা লুইস ওয়াটারিস।



