
প্রতিদিন ডেস্ক | সোমবার, ২০ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ৭৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকার সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে গরিবদের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। দরিদ্র অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে তাদেরকে সর্বস্বান্ত করেছে। সরকার দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরকে লুটপাট করে শেষ করে দিয়েছে।’
সোমবার (২০ মে) ‘আন্তর্জাতিক চা দিবস ও মুলুক চলো দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রমিক দল আয়োজিত মানববন্ধনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিন চালিত অটোরিকশা চালকদের ওপর সরকার স্টিম রোলার চালাচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘অটোরিকশা বন্ধের মধ্য দিয়ে গরিবের আহার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা-ভ্যান বন্ধ করে দিলেন ওবায়দুল কাদের। উনি নিজেই বলেছেন তার হাতের যে ঘড়ি এই ঘড়ির দাম অনেক টাকা। অনেক মানুষ বলে ৫০ লাখ টাকা, তিনি যে সানগ্লাস পড়েন সেটারও অনেক দাম, লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যার সানগ্লাসের দাম এত, ঘড়ির দাম ৫০ লাখ টাকার উপরে তিনি এই ব্যাটারি চালিত রিক্সাচালকদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন, তিনি কিভাবে এদের মর্ম বুঝবেন। উনি কি জানেন এরা একবেলা খায় নাকি দুই বেলা খায়। ওবায়দুল কাদের কি জানেন তারা যে পরিশ্রম করে রিক্সা চালায় সেই টাকা দিয়ে সেই উপার্জন দিয়ে তার সন্তানদেরকে স্কুলে পাঠাতে পারে কিনা।’
শেয়ার বাজারে নতুন করে ধস নামায় তরুণ-যুবক সহ বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ফতুর হয়ে গেছেন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘তরুণ শিক্ষিত যুবক ও অল্প আয়ের মানুষেরা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে থাকেন, সেই শেয়ার বাজারে আবার নতুন করে দরপতন হচ্ছে। এতে করে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। ফলে বেকার হচ্ছে তরুণ-যুবকরা। তারা এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন, ফতুর হয়ে গেছেন।’
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের সন্তানরা তো বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে। কেউ বলে দুবাইয়ে, কেউ বলে কানাডায়, কেউ বলে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম এবং বিভিন্ন ধরনের বাড়ি তারা সেখানে নির্মাণ করেছেন। তারা তো সাধারণ মানুষের বিষয়ে জানেন না যে, তারা এক বেলা চাল কিনতে পারছে না। যে দেশে আলুর দাম সিজনেও ৫০ টাকা, সেখানে ওবায়দুল কাদের সাহেব কি করে জানবেন? ওবায়দুল কাদের সাহেব জানেন না, উনার নেত্রী শেখ হাসিনাও জানেন না। কারণ ওনাদের প্রত্যেকটি নেতা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন বিদ্যুৎ খাত থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে গেছে। বিভিন্ন উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন। শুধু টাকা পাচারের এই আরব্য উপন্যাসের কাহিনী প্রতিদিন আমরা সংবাদপত্রের পাতায় পড়ছি। সুতরাং তারা কি করে ওই ব্যাটারি চালিত রিক্সাওয়ালাদের করুন কাহিনী জানবেন। কি করে জানবেন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা।’
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘এই ব্যাটারি চালিত রিকশা অবশ্যই কোন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে, এই আমদানি করার লাইসেন্স কে দিল? ঢাকা সহ প্রতিটি শহরেই আমি দেখেছি এই ব্যাটারি চালিত যান চলাচল করে। তাদেরকে এই রোড পারমিশন কারা দিল?আপনার সরকারই দিয়েছে এগুলো, যারা ইমপোর্ট করেছে তারা তো আওয়ামী লীগের লোক।তারা তো আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী। আর যারা ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছে তাদেরই দোষ হয়ে গেল?আপনাদের পেট ভরে বদ হজম হবে তারপরও আপনাদের টাকা দরকার।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, সহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



