Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে সেরা হালাল রেস্টুরেন্টের পুরস্কার পেল নূর থাই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১০০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে সেরা হালাল রেস্টুরেন্টের পুরস্কার পেল নূর থাই

নিউইয়র্কে সেরা হালাল রেস্টুরেন্টের পুরস্কার নিচ্ছেন কুইন্স চেম্বার অব কমার্সের স্ট্র্যাটেজিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জর্জ হ্যাডজি কন্সট্যান্টেটিনোর কাছে থেকে নূর থাই’র কর্ণধার রাজিব হাসান ও সাজ্জাদ হোসেন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নিউইয়র্কে সেরা হালাল রেস্টুরেন্টের পুরস্কার জিতেছে জনপ্রিয় থাই ফিউশন ‘‘নূর থাই’’ । সম্প্রতি ভোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে কুইন্স চেম্বার অব কমার্স পরিচালিত এক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘নূর থাই’ এই সম্মানজনক পুরস্কারের প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সেরা রেস্টুরেন্টের মুকুট জয় করেছে যথাক্রমে এস্টোরিয়ার ২৫-৪৫ স্টাইনওয়ের মি. চ্যাঙ হালাল চাইনিজ এবং জ্যামাইকার ১৬৭-২০ হিলসাইডের খলিল বিরিয়ানি হাউজ। ১০ ভোটের ব্যবধানে তারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই রেস্টুরেন্টটি চলতি সামারে অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় হালাল কোরিয়ান বারবিকিউ এর আরেকটি শাখা উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। যা হবে কোরিয়ান বারবিকিউ এর ক্ষেত্রে এই সিটিতে হালাল কোন রেস্টুরেন্টের অন্যতম সংযোজন। উল্লেখ্য, কুইন্স চেম্বার অফ কমার্স ‘‘সেরা হালাল রেষ্টুরেন্ট’’ নামে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ভোজনপ্রিয়রা কুইন্সে তাদের প্রিয় হালাল রেস্টুরেন্টের জন্য ভোট দেয়। কুইন্স চেম্বার অব কমার্স আরো জানিরয়েছে, এই প্রতিযোগিতায় দেড় হাজারেরও বেশি ভোজনরসিক ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন।
বিজয়ী নূর থাই এর দুটি শাখাই সেরা রেস্টুরেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়। রেস্টুরেন্টের দুটি শাখা ৩১-০১ ৩৪ এভিনিউ, এস্টোরিয়া এবং ৬২-৩২ উডহ্যাভেন বুলেভার্ডে (রিগোপার্ক) অবস্থিত।
আয়োজক সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট এবং সিইও টম গ্রেচ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “কুইন্সে দেওয়া হালাল খাবারের বৈচিত্র নিউইয়র্কের পাশাপাশি স্টেটের বাইরের ভোজনপ্রিয়দের কুইন্স বরোতে টেনে নিয়ে আসে। এটি আমাদের জন্য আনন্দ ও সম্মানের।”
নুর থাই রেস্টুরেন্টের পরিচালনাকারী আমানি হসপিটালিটি গ্রুপের ডিরেক্টর এবং সিওও সাজ্জাদ হোসেন এই অর্জনের জন্য নিউইয়র্কের, বিশেষ করে কুইন্স বরোর ভোজনপ্রিয় মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে সাজ্জাদ বলেন, “এই অর্জন আমাদের ব্যতিক্রমী গুণমান এবং আমাদের পরিবেশন করা প্রতিটি খাবারের সেরা স্বাদ নিশ্চিত করতে আমাদের দলের প্রতিটি সদস্যের প্রচেষ্টার প্রমাণ। আমরা আমাদের প্রতিভাবান শেফ, দক্ষ ওয়েটিং স্টাফ এবং পরিশ্রমী কিচেন স্টাফ টিমসহ নিবেদিত কর্মীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি অটুট অবদান রাখার জন্য।”
সাজ্জাদ হোসাইন ছাড়াও আমানি হসপিটালিটি গ্রুপের অপর উদ্যোক্তারা হলেন রাজীব হাসান, জসিম উল্লাহ ও আকমল হুসাইন। তাদের প্রত্যেকেই বিশ্বের বিভিন্ন স্বাদের জনপ্রিয় খাবার (সেরা মান ও স্বাদ অটুট রেখে) সমূহ হালাল খাদ্য পরিবেশনে নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছেন।
এদিকে, এ আয়োজন প্রসঙ্গে কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনাভ্যান রিচার্ডস বলেন, বিশ্ব বরো হিসেবে পরিচিত কুইন্স আজ আরো গৌরববোধ করছে যে, এখানে ধর্মীয় রীতি সমুন্নত রেখে অনেক ভালো রেস্টুরেন্টও রয়েছে। মুসলিম রীতি অনুযায়ী তারা রুচিসম্মত খাদ্য প্রস্তুত এবং পরিবেশন করছে। তবে এতসবের মধ্যে কেবলমাত্র একটিকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বলতে হচ্ছে। এজন্যে আমি নূর থাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি কুইন্স চেম্বার অব কমার্সের ‘সেরা হালাল রেস্টুরেন্ট’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারের জন্যে। আমি আশা করছি সকলের সাথে সেই রেস্টুরেন্টে শীঘ্রই মধ্যাহ্নভোজে যাবো।

এ প্রসঙ্গে স্টেট সিনেটর ক্রিস্টিন গঞ্জালেজ বলেন, এলাকার সিনেটর হিসেবে আমি আনন্দিত ও অভিভূত যে, কুইন্স চেম্বার অব কমার্স কুইন্সের হালাল রেস্টুরেন্টসমূহকে পুরস্কৃত করছে। এরমধ্য দিয়ে হালাল খাদ্য বলতে কী বুঝায় এবং কেন তা হালাল সে কৌতুহলেরও অবসান ঘটাবে। একইসাথে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ক্রেতা সাধারণের আস্থা বৃদ্ধি করবে। অভিনন্দন নূর থাইকে।
স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান যোহরান মামদানি বলেন, বেশ কিছু হালাল রেস্টুরেন্ট রয়েছে কুইন্সে। তার মধ্যে নূর থাই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় আমি এর সাথে যুক্ত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিশ্ব বরোতে অবস্থিত হালাল রেস্টুরেন্টসমূহকে জনসমক্ষে আরো উজ্জ্বলভাবে উদভাসিত করার জন্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় কুইন্স চেম্বার অব কমার্সকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সিটি কাউন্সিলওম্যান টিফ্যানি ক্যাবান বলেন, এলাকার মুসলিম কম্যুনিটিতে সত্যিকারের হালাল খাদ্য পরিবেশনের মধ্যদিয়ে নূর থাই-সহ অন্যগুলো বহুজাতিক এই সমাজের বৈচিত্রকে আরো মহিমান্বিত করছে। চলতি সময়ে মুসলিম সম্প্রদায় নানাবিধ শংকা এবং ভীতির মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এমন সময়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকে তৈরী খাদ্য গ্রহণের সুযোগ লাভে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তিবোধ করছেন। এবং এক্ষেত্রে হালাল খাদ্য অপিরসীম ভূমিকা রাখবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার