শনিবার ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রবাসে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি প্রবাহিত রাখার সংকল্পে নিউইয়র্কে বইমেলা শুরু

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ২৫ মে ২০২৪ | প্রিন্ট  

প্রবাসে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি প্রবাহিত রাখার সংকল্পে নিউইয়র্কে বইমেলা শুরু

‘যত বই তত প্রাণ’ স্লোগানে চারদিনব্যাপী ‘নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’র উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা বলেন, জয় শুভ সময়, জয় বঙ্গময়, জয় বিশ্বময়। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি বিশ্বব্রহ্মান্ডের এক মর্মমূলে, আমাদের পরিচয় আমরা মানুষ, আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি সারা পৃথিবীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে। আমরা বলছি যত বই তত প্রাণ, যত বই তত শব্দ, যত শব্দ তত ধ্বনি, যত ধ্বনি তত অর্থ। এই সব নিয়ে বাঙালিরা যাত্রা করেছে হাজার বছর আগে নয়, প্রায় ৬/৭ হাজার বছর আগে যেদিন বাংলা ভাষায় ‘স্থান’ শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে। বলা যেতে পারে এশিয়া মহাদেশের মধ্যস্থানে তির্গিকস্থানের পাশে কাজাকিগস্থান, তার পাশে জানবেন স্থানের অনেক প্রকারভেদ। এই স্থান সাত বার বিষদভাবে পরিবর্তিত হয়েছে বলে বাংলা ভাষার ইতিহাস-পরিবার বলে। স্থান যুক্ত না থাকলেও দুটি রাষ্ট্রের কথা বলবো। তা হচ্ছে ইরাক ও ইরান। ইরাকের অপর নাম পারস্যস্থান। পারস্যস্থানের পর যেখানে আসবেন সেখানে দেখবেন ‘স্থান’ বিশেষভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। আফগানিস্থান , তারপর বেলুচিস্থান, তারপর যাকে দক্ষিণ এশিয়া বলছি-হিন্দুস্থান, তারপরে এসেছে আমাদের বাংলাদেশ। এভাবেই বাংলা ভাষা পরিবার ৭ হাজার বছর ধরে বিবর্তিত হচ্ছে।

কবি নুরুল হুদা উল্লেখ করেন, বর্তমানে লিখিতাকারে আমরা যে বাংলা ভাষাকে পাচ্ছি, তা হাজার বছর ধরে লিখিতাকারে বিবর্তিত হয়ে এসেছে উচ্চারিতভাবে, প্রামাণ্যভাবে; আর আমাদের যে ইন্টেঞ্জিবল কালচারের হেরিটেজ অপরিমেয় সাংস্কৃতির ঐতিহ্য, যা প্রথম উপকরণ ভাষা, যে ভাষার নাম আমাদের জন্য বাংলা ভাষা, তা বিবর্তিত হয়েছে এবং তার মাধ্যমেই আমাদের জাতিস্বত্তা, আমাদের ব্যক্তিস্বত্ত্বা, আমাদের ধ্বনিস্বত্ত্বা বিবর্তিত হয়েছে। তারই চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতিরপিতা, তিনি যখন বললেন-এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।

ny boimela opening-2

উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বাঙালির যাপিত জীবনের ফল্গুধারা প্রবাসের প্রজন্মে প্রবাহিত রাখার সংকল্পে ৪দিনব্যাপী এই বইমেলার উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্যের শুরুতেই আমি একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় ৪ নেতাকে স্মরণ করতে চাই। কারণ আমাদের শেকড় মুক্তিযুুদ্ধ। নিউইয়র্কের মুক্তধারা যে অনুষ্ঠানটি ৩৩ বছর ধরে করছে তা কিন্তু খুব স্বাভাবিক বিষয় নয়। ৩৩ বছর যাবত ধরে রাখা এবং প্রথম প্রজন্মের সাথে নতুন প্রজন্মকে একইসূত্রে বেধে রাখার এই যে প্রয়াস, তা অবশ্যই সময়ের প্রয়োজনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই যুগসূত্র আমার দেশ, আমার সংস্কৃতি, আমার বই, আমার সাহিত্য সবকিছুতে। ফরিদা ইয়াসমিন এমপি আরো বলেন, অনেকে মনে করি যে, নতুন প্রজন্ম হয়তো দেশের সংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে পড়ছে অথবা দূরে সরে যাচ্ছে। প্রকৃত অর্থে তারা সরে যাচ্ছে না। এই বইমেলার উপস্থিতিতে তা দৃশ্যমান হয়েছে।

২৪ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এই মেলা শুরু হয়েছে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্ট সেন্টারে। এ সময় অতিথির মধ্যে আরো বক্তব্য দেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ইমরান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আরেফিন সিদ্দিকী, ফরিদুর রেজা সাগর (কথা সাহিত্যিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই), সৌমিত্র শেখর দে (উপাচার্য, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখ। পাফর্মিং আর্ট সেন্টারের প্রবেশদ্বারে সকল অতিথি, কবি-সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক সংগঠকগণকে পাশে নিয়ে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরই মিলনায়তনের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র প্রদর্শনী পর্বেরও উদ্বোধন করেন ডা. সারোয়ার আলী ( ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একাত্তরে পাক হায়েনাদের হত্যাযজ্ঞের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। তাহলে বিশ্বশান্তির যে অঙ্গিকার জাতিসংঘসহ বিশ্ব ফোরামে উচ্চারিত হচ্ছেস তার বাস্তবায়ন ঘটবে কীভাবে। তিনি আমেরিকা প্রবাসীদেরকে বাংলাদেশে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এ ধরনের সভা-সমাবেশ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। এ সময় তার পাশে ছিলেন সারা যাকের (ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা)।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে গোটা এলাকা মুখরিত করে অতিথিগণকে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেয়ার পর ৩৩ বছরের ধারাক্রমে ৩৩ জন অতিথি মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ৪দিনের অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হয়। এ সময় সকলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন মেলা কমিটির আহবায়ক লেখক-সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. নুরুন্নবী এবং সিইও বিশ্বজিৎ সাহা।

পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন লেখক-সাংবাদিক শামিম আল আমিন। উদ্বোধনী পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতন, সঙ্গীত পরিষদ, আড্ডা এবং উদীচীর শিল্পীরা। এ মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, লন্ডন, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখকগণের সদ্য প্রকাশিত ১০ হাজার বই নিয়ে ৪০টি স্টল দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৪৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar