
প্রতিদিন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নাহিদা সোবহান
জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানকে কানাডায় বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আগাম রিপোর্ট হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, জর্ডানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি বিশেষত দেশটিতে কর্মরত নারী কর্মীদের জীবন-মানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছেন মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত মিজ সোবহান। করোনা মহামারিকালে জর্ডানের ফ্যাক্টরি এবং ডরমিটরিগুলোতে বাংলাদেশি নারীকর্মীরা বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিলেন। যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সহায়ক কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে জর্ডানের বাদশাহ’র দপ্তরসহ দেশটির সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মনোযোগ নিবিড় করতে দিনরাত খেটেছেন তিনি এবং অপ্রতূল জনবল নিয়ে চলা তার নেতৃত্বাধীন আম্মান মিশন।
একনিষ্ঠ সেইসব কাজের ‘পুরস্কার’ হিসেবে এ গ্রেড মিশন অটোয়ায় পোস্টিং পেয়েছেন তিনি। সেগুনবাগিচার রেকর্ড বলছে, গত ৫৩ বছরে এবারই প্রথম কানাডায় কোনো নারী হাইকমিশনার পাঠানো হচ্ছে।
স্মরণ করা যায়, বাংলাদেশের দুর্দিনের বন্ধু কানাডা। মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন ট্রুডো সরকার, জনগণ এবং দেশটির মিডিয়ার অবদান অনস্বীকার্য।
১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী কানাডায় ওই বছরের মে মাসে রাষ্ট্রদূত পাঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর ‘৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রদূতসহ ঢাকায় পূর্ণাঙ্গ মিশন খুলে কানাডা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন, উদ্বাস্তু, যুদ্ধাহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, গ্রামীণ উন্নয়ন; বিশেষত কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নানাবিধ সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে কানাডা।
যা কৃতজ্ঞতা চিত্তে মনে রেখেছে ঢাকা। যুদ্ধবন্ধু কানাডা বরাবরই বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন- মোটাদাগে এই চার মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ঢাকা-অটোয়া সম্পর্ক। তবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উন্নয়নমূলক সহযোগিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসন প্রভৃতি বিষয়ে ফোকাস রয়েছে আমাদের অন্যতম বৃহৎ সহযোগী কানাডার। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে অটোয়ায় পরবর্তী দূত হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত নাহিদা সোবহান বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ১৯৯৫ সালে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্ডানে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন পাশাপাশি কনকারেন্ট অ্যাম্বাসেডর বা সম-দূরবর্তী
রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ওই কূটনীতিক বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে জেনেভা, রোম ও কলকাতা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অ্যসাইনমেন্ট করেছেন। জর্ডানে দায়িত্ব নেয়ার আগে হেডকোয়ার্টারে জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিষয়াবলি দেখভাল করেছেন। ব্যাক টু ব্যাক ওই দুই অনুবিভাগের প্রধান তথা মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী নাহিদা সোবহান দেশ-বিদেশে বেশ কিছু পেশাগত প্রশিক্ষণ কোর্স করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত, তার জীবনসঙ্গী নজরুল ইসলামও একজন পেশাদার কূটনীতিক। তিনি বর্তমানে কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। কাতারের আমীরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর এবং তারও আগে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক সফর বাস্তবায়নে তার ভূমিকা রয়েছে। নাহিদা-নজরুল দম্পতির এক মেয়ে, এক ছেলে। তারাও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে।



