
বিশেষ সংবাদদাতা | বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৬৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জেএফকে এয়ারপোর্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা নেতা-কর্মীগণের। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিয়ো গুতেরেসের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণের সাথে নানা ইস্যুতে মতবিনিময়ের জন্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ ২৯ মে বুধবার রাত ৯টায় আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জেএফকে অবতরণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এয়ারপোর্টে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগানের পাশাপাশি লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানান। উল্লেখ্য, এ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডার সেন্ট জোন্সে স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটের চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের পর সেখান থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে এলেন ৩ দিনের সফরে।
এ সময় এয়ারপোর্টে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ইমরান, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি তৌফিক ইসলাম শাতিলসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নানাবিধ অসাংগঠনিক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর যাবত সংগঠনের বড় একটি অংশ নয়া কমিটির দাবি জানাচ্ছেন। তার প্রতিফলন জেএফকে এয়ারপোর্টেও দৃশ্যমান হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদকে বিপুলভাবে অভ্যর্থনা জানাতে সমবেতরা সুশৃঙ্খলভাবেই লাইনে ছিলেন। কিন্তু ড. হাসান মাহমুদ ভেতর থেকে বেড়িয়ে আসার সাথে সাথে সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েকজন গোটা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা চালান। এ নিয়ে ঠেলা ধাক্কা, গালিগালাজ শুরু হয়। মুহূর্তে পাল্টে যায় ৮ নম্বর টার্মিনালের চেহারা। অন্য যাত্রীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।
নেতা-কর্মীদের মারমুখো আচরণে বিব্রতবোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত মো. ইমরানসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও চন্দন দত্ত, কামাল হোসেন মিঠুসহ কয়েকজন নেতার সহযোগিতায় ড. হাসান মাহমুদকে দূতাবাসের গাড়িতে উঠানো সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, ২০ মে বৃহস্পতিবার রাতে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল) নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে গুলশান টেরেসে নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ড. হাসান মাহমুদের সাথে মতবিনিময় সমাবেশের যে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে তা নিয়ে কথা বলেছেন এ সংগঠনের সভাপতি মজিবর রহমান মিয়া এবং সেক্রেটারি শাহীন আজমল। সে সময় সেখানে ছিলেন ড. প্রদীপ কর, খোরশেদ খন্দকার, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল বাশার ভূইয়া ও জাফরউল্লাহ সহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রি পরিষদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবার পর এটাই ড. হাসান মাহমুদের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। এজন্যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্র্মীরা প্রচন্ড আগ্রহ সহকারে এয়ারপোর্টে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু কতিপয় কর্মীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অনেকেই সেই ফুল হাতে নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বাসায় ফিরেছেন।
এদিকে, ক’টনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে ৩০ মে বৃহস্প্রতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরের অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন হাসান মাহমুদ। এ সময় বিশ্বশান্তির জন্যে নিজেদের জীবন উৎসর্গকারি সৈন্যদের জন্যে গোল্ড মেডেল বিতরণ কর্মসূচিতেও থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও উন্নয়ন অভিযাত্রায় জাতিসংঘের আরো সহযোগিতা কামনা করবেন হাসান মাহমুদ।



