
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ১১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ড. হাসান মাহমুদ।
মার্কিন কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউস, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সকল মহলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে সমৃদ্ধির পথে ধাবিত বাংলাদেশের তথ্য অবহিত করার জন্যে প্রবাসীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানালেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ। তিনি আরো বললেন, এখন সবাই আওয়ামী লীগ করতে চায়। উল্টা-পাল্টা মানুষ যাতে নৌকায় উঠতে না পারে সেজন্য সকলকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।
৩০ মে সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এক মতবিনিময় সমাবেশে হাসান মাহমুদ আরো বলেন, উদ্ভট কথাবার্তা ছড়িয়ে গত নির্বাচনকেও বানচালে সক্ষম না হয়ে বিএনপি এবং জামায়াত এখন বিভিন্ন দেশে এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ঐ এজেন্টদের কাজ কি? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্ত ছড়ানো। এখানকার সরকারের কাছে কিংবা আইন প্রণেতাদের কাছে নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক খবর পাঠায়। এবং এভাবে তাদেরকে (কংগ্রেসসহ স্টেট ডিপার্টমেন্ট) বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়। সেটার বিপরীতে আমাদের পক্ষ থেকে যদি সঠিক খবরটা পৌঁছানো না হয় তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই অনেকে বিভ্রান্ত হয়। সুতরাং সেই কাজটি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীগণকে করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্নমুখী কোন্দলের প্রতি ইঙ্গিত করে হাসান মাহমুদ বলেন, নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এই কাজগুলো করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
হাসান মাহমুদ বলেন, গত নির্বাচনের পরে বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা বসেছিল, বিশ্ব সম্প্রদায় এখন নতুন সরকারকে কী বলে। সে নিয়ে চাতক পাখিরমতো তাকিয়ে ছিল যে, কী বলে। এ পর্যন্ত ৮০টি দেশের রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ইউএন, ওআইসি, কমনওয়েলথ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-সহ ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এবং এই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে তিনি আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ককে আরো উচুতে নিয়ে যাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। এবং আমরাও সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করতে কাজ করছি।
গত নির্বাচনটি বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কারণ বিএনপি দেশের মানুষের কাছে যায়না। বিএনপির ঠিকানা কই, ঠিকানা নয়া পল্টন, আর রাতে বিভিন্ন অ্যাম্বাসী। আর দেশের মানুষের সাথে তাদের কোন দেন-দরবার নেই। ক্ষমতার মালিক দেশের জনগণ, ক্ষমতার মালিক কোন বিদেশি রাষ্ট্র নয়, কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা নয়। বাংলাদেশের ক্ষমতার মালিক দেশের জনগণ। তারা (বিএনপি) দেশের জনগণের কাছে না গিয়ে তারা বিদেশীদের দোয়ারে দোয়ারে সন্ধ্যার পরে ঘোরাঘুরি করতো। দাওয়াত না দিলেও বলতো-আমরা একটু আসতে চাই। এবং তারা চেষ্টা করেছিল নির্বাচনটাকে ভন্ডুল করার জন্যে। হাসান মাহমুদ বলেন, তারা বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টাকে নিয়ে হাজির করলো ২৮ অক্টোবর। ঐ ভূয়া উপদেষ্টা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কথিত সংবাদ সম্মেলনে শুধু ইংরেজি বলে। পুলিশ যখন ধরে নিয়ে গেল তখন দেখি গড়গড়িয়ে বাংলা বলে। এর আগে ৬ কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করেছিল। সই জাল করে বিএনপির পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিল। তারপওে যেটি করলো, বললো যে অমিত শাহ (ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা) ফোন করেছিল। পরে অমিত শাহ্ও অফিস থেকে বলা হলো যে, ঐ কন্ঠ অমিত শাহর নয়, আর অমিত শাহ্ও অফিস থেকে কোন ফোন করা হয়নি।
হাসান মাহমুদ বলেন, পরপর চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অনেকে বিরোধী দলের যাতনা দেখেনি। বিরোধী দলে থাকাকালিন কী প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দল করতে হয়েছে তা অনেকে জানে না। এখন সবাই আওয়ামী লীগ করতে চায়। আওয়ামী লীগ একটি গণসংগঠন। অবশ্যই সবার জন্য দুয়ার খোলা। কিন্তু নৌকায় যদি বেশি যাত্রী উঠে, তা কিন্তু ভালো না। সেজন্য আমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে। যেন উল্টা-পাল্টা মানুষ নৌকায় না উঠে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বৈঠকের আগে শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য প্রদানের জন্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২৯ মে রাতে নিউইয়র্কে এসেছেন। ৩১ মে শুক্রবার তার দেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা। এই ঝটিকা সফরের মধ্যেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন গুলশান টেরেসের মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান, নিজাম চৌধুরী প্রমুখ। সমাবেশে বস্টন থেকে নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফম ওয়াশিংটন ডিসি আওয়ামী লীগের নেতা মাহমুদুন্নবী বাকি, কানেকটিকাট স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হুমায়ূন চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্টেট ও সিটির নেতৃবৃন্দও ছিলেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ইমরান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল নাজমুল হুদা, ডেপুটি কন্সাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসানসহ পদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন সমাবেশে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুসহ মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মার মাগফেরাত এবং শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে।



