Advertisement Placeholder

মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীদের এসাইলাম নিষিদ্ধ করে বাইডেনের নির্বাহী আদেশ

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   বুধবার, ০৫ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১২৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীদের এসাইলাম নিষিদ্ধ করে বাইডেনের নির্বাহী আদেশ

মেক্সিকো সীমান্ত বেআইনীভাবে পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পদার্পণের পরই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার বিদ্যমান রীতি রহিত করা হলো। গত ৪ জুন মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিশেষ এক নির্বাহী আদেশ জারি করলেন যেখানে ঢালাওভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার সুযোগ রহিত করা হলো। এমন বিদেশিদেরকে গ্রেফতারের পরই নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তবে বেআইনিভাবে দক্ষিণের  সীমান্ত অতিক্রমকারীর সংখ্যা দৈনিক গড়ে ১৫০০ জনের কম হলে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এসাইলাম অফিসার সংশ্লিষ্ট বিদেশির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।

হোয়াইট হাউজের আহবানে এ বছরের শুরুতে, এমনকি গত সপ্তাহেও কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি বিল রিপাবলিকানদের বিরোধিতায় নাকচ হয়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট এমন নির্দেশ জারি করলেন। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২১২(এফ) সেকশনে প্রশাসনকে এই এখতিয়ার দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে। কারণ সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশসমূহ থেকে প্রতিদিন যে হারে মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ছে তা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দৈনিক এ সংখ্যা ১০ হাজারেরও অধিক বলে সীমান্ত রক্ষীরা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন। এরফলে এসাইলামের আবেদন প্রসেসিং করা যেমন বিলম্বিত হচ্ছে, তেমনিভাবে ডিটেনশন সেন্টারে জায়গা হচ্ছে না। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসাইলামের আবেদন পেন্ডিং রেখে সংশ্লিষ্টদের প্যারলে মুক্তি দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। গত দু’বছরে এ ধরনের ২০ লক্ষাধিক বিদেশীকে মুক্তি দিয়েছে অভিবাসন দফতর-যার খেসারত দিতে হচ্ছে টেক্সাসের মত সীমান্তবর্তী স্টেটসমূহকে। দক্ষিণের সীমান্ত সুরক্ষায় রিপাবলিকানরা বাইডেনের কঠোর সমালোচনা করছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, বাইডেন সীমান্ত খুলে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের স্বাগত জানাতে। নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে সীমান্তকে একেবারে বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতির জের পড়তে পারে নভেম্বরের নির্বাচনে-সে আশংকা থেকেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিশেষ এই নির্দেশ জারি করলেন বলে ডেমক্র্যাটিক পার্টির নীতি-নির্ধারকেরা মনে করছেন। এ নির্দেশ অনুযায়ী জোরপূর্বক অথবা চোরাই পথে সীমান্ত অতিক্রম ঠেকাতে বিশেষ পদক্ষেপের পাশাপাশি গ্রেফতারের পরই সংশ্লিষ্টদেরকে বহিষ্কার করা হবে। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করা হবে না। উল্লেখ্য, বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারির সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও সর্বশেষ রোববার ৫ হাজারের অধিক বিদেশি ঢুকেছে এবং তাদেরকে সীমান্ত রক্ষীরা আটকের পরই তারা রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে। এর ফলে তাদেরকে পরবর্তীতে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন কোর্টে/অফিসে হাজিরার নোটিশ ধরিয়ে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় দৈনিক ১৪৫০ জনের বেশী আবেদনের শুনানি করা যাচ্ছে না। এভাবে লাখ লাখ আবেদন পেন্ডিং রাখতে হচ্ছে-যেগুলোর অপেক্ষার সময় কয়েক বছর পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। আর পেন্ডিং থাকা ব্যক্তিরা ওয়ার্ক পারমিট না পেয়ে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাতে বাধ্য হচ্ছেন, অথচ নিরাপদ জীবন-যাপনের অভিপ্রায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিও দালালের মাধ্যমে বহুদেশ ঘুরে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন। অনেকের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি এখনো।

বাইডেনের সর্বশেষ এই নির্দেশ অনুযায়ী ঢালাওভাবে প্রবেশকারিদের জন্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা একেবারেই অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় ঝুলে থাকা আবেদনের নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন। ৫ জুন থেকেই নয়া এ বিধি কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, সীমান্ত সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অভিপ্রায়ে এই নির্দেশ জারি উপলক্ষে সীমান্তবর্তী সিটিসমূহের মেয়রগণকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তাদের পাশে নিয়েই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তবে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাবার হুমকি দিয়েছেন মানবাধিকার নিয়ে কর্মরতরা। তারা বলছেন, এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ দেশে নিরাপত্তাহীনতায় নিপতিতদের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হবে-যা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পছন্দ করে না, আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থি। সুপ্রিম কোর্ট যদি এই বিধিকে কার্যকরে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার সুফলও বাইডেনের পক্ষেই আসবে বলে মনে করছেন ডেমক্র্যাটরা। তখোন তারা ভোটারদের অবহিত করতে পারবেন যে, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি’। ‘এখন কংগ্রেসের দায়িত্ব সংবিধান অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার’।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার