
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৬ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কানাডা পার্লামেন্টের অনেক সদস্য বিদেশীদের স্বার্থে কাজ করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে কারা বিদেশী স্বার্থে কানাডা প্রশাসনকে ব্যবহার করছেন-তা স্পষ্ট করা হচ্ছে না। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এবং শীঘ্রই কানাডার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মত এহেন অপকর্ম বন্ধে কানাডা পার্লামেন্টে একটি আইন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ঘনিষ্ঠজনেরা।
এহেন মনোভাবকে কানাডার রাজনীতিতে বিদেশী হস্তক্ষেপের সামিল বলেও মনে করা হচ্ছে। জেনে শুনে যারা বিদেশের পারপাস সার্ভ করছেন তাদের দেশপ্রেম নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। লিবারেল পার্টির সরকার ইতিমধ্যেই তদন্তে নামলেও কেউ নাম প্রকাশ করছে না। জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, নির্বাচিত এমপিরা বিদেশী ক্ষমতাকে পুঁজি করছেন বিদেশের স্বার্থে কানাডা প্রশাসন ব্যবহারে। লিবারেল পার্টি থেকে সংসদীয় গোয়েন্দা কমিটির চেয়ার ডেভিড ম্যাকগুইন্টির ক্ষমতা রয়েছে বিদেশী এজেন্ট হিসেবে সক্রিয় এমপিদের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের। আর এহেন অপকর্ম বন্ধে যে বিধি তৈরী হতে যাচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ নয়, তবে শুরুটাকে স্বাগত জানাতেই হবে। আমরা অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং ব্রিটিশের সিস্টেম অবলোকন করছি, তারা কীভাবে এ ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধ করে তা দেখছি। সে অনুযায়ী বাস্তবতার আলোকে করণীয় নির্দ্ধারণ করা হবে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই থেকে দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাতে বিদেশী হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকে সে ব্যবস্থা করতে চাই। অনেক কিছুই করা যেতে পারে, এ নিয়ে কালক্ষেপণের অবকাশ নেই।
বুধবার কানাডা পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি বিল (Countering Foreign Interference Act,or C-70 ) উঠেছে। সে প্রসঙ্গে কুইন্স ইউনিভার্সিটি এবং রয়েল মিলিটারি কলেজের অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান লিউপ্রেস্ট বলেন, বিদেশী হস্তক্ষেপ অথবা বিদেশী প্রভাব প্রতিরোধে এটা একেবারেই নগন্য ভূমিকা রাখবে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্ণ্যান্স ইনোভেশনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ওয়েসলি ওয়ার্ক মনে করছেন যে, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়, যত নগন্যভাবেই শুরু হউক, কানাডার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে বহুল প্রত্যাশিত একটি প্রক্রিয়া। সামনের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিদেশী হস্তক্ষেপ ঠেকানো বা বিদেশী প্রভাব দূর করার ক্ষেত্রে এই বিল খুব ভূমিকা রাখতে সক্ষম না হলেও সংশ্লিষ্টরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন পরবর্তীতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে। এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে দিক-নির্দেশনা পাবেন।
সংসদীয় গোয়েন্দা কমিটির চেয়ার ডেভিড ম্যাকগুইন্টি গত সোমবার যখোন কানাডার রাজনীতিতে বিদেশী হস্তক্ষেপ সম্বলিত একটি গোয়েন্দা-প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তখোন থেকেই তোলপাড় শুরু হয়েছে অটোয়াস্থ পার্লামেন্ট ভবন থেকে ট্রুডো প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে। ঐ প্রতিবেদন অনুযায়ী কানাডার গোয়েন্দারা অন্তত: ৫টি সেক্টরকে চিহ্নিত করেছে যেখানে দেখা গেছে যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অজ্ঞাতসারে বিদেশের স্বার্থে কাজ করছেন। এসব এমপিরা বিদেশের স্বার্থ রক্ষায় অভ্যন্তরীন ভাবে ভূমিকা রাখছেন।
কানাডার খ্যাতনামা থিঙ্কট্যাংক ‘দ্য এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন’র গবেষনা এবং স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কিত ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ভিনা নাডজিবুল্লাহ গভীর হতাশার সুরে বুধবার গণমাধ্যমে বলেছেন, এটা খুবই দু:খজনক অভিযোগ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের বিরুদ্ধে। তবে এই গোয়েন্দা রিপোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে সকলকে মনোযোগী হওয়া দরকার যে, ঐসব এমপিরা কী ধরনের তথ্য বিদেশী রাষ্ট্রের কাছে সরবরাহ করেছেন। চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণের দরকার রয়েছে এমন অভিযোগের। আর এটা জরুরী জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই। ভিনা নাডজিবুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, এমপিরা এমন আচরণে লিপ্ত হলে তা হবে তাদের শপথের পরিপন্থি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।



