
বিশেষ সংবাদদাতা | বুধবার, ১২ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জুরিবোর্ড কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করার পর আদালত ত্যাগ করেন হান্টার বাইডেন। ছবি-সংগ্রহ।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতায় থাকা একজন প্রেসিডেন্টের সন্তান কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন। যৌন কেলেংকারির তথ্য গোপন রাখতে পর্ণতারকাকে ঘুষ প্রদানের মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত ঘটনাটিও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। অর্থাৎ মার্কিন রাজনীতির টালমাটাল অবস্থায় একের পর ইতিহাস সৃষ্টিকারি কান্ড ঘটছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন বন্দুক কেনার সময় নিজে মাদকাসক্ত হওয়া সত্বেও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ডেলাওয়ার স্টেট আদালতের জুরিরা মঙ্গলবার এই ফৌজদারি মামলার তিনটি অভিযোগেই হান্টারকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতায় থাকা একজন প্রেসিডেন্টের সন্তান কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন। বিচারক হান্টার বাইডেনের সাজা ঘোষণার কোনও দিন নির্ধারণ করেননি। তবে সাধারণত ১২০ দিনের মধ্যে সাজা ঘোষণা করা হয়ে থাকে বলে জানান এটর্নীরা। ৩ জুন ডেলাওয়ারের ফেডারেল আদালতে জজ ম্যারিয়েলেন নরেইকার এজলাসে হান্টারের বিচার শুরু হয়। আগ্নেয়াস্ত্র কেনার সময় মিথ্যা বলা এবং মাদকাসক্ত হয়েও আগ্নেয়াস্ত্র রাখা সংক্রান্ত তিন অপরাধে গতবছর অভিযুক্ত হয়েছিলেন হান্টার। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদনে হান্টার বলেছিলেন, তিনি আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারকারী নন। কোনও মাদক বা উত্তেজক দ্রব্যেও আসক্ত নন। অথচ তিনি জানতেন, এর সবই মিথ্যা।
২০১৮ সালের অক্টোবরে ডেলাওয়ারের বন্দুকের দোকানে কোল্ট রিভলবার কেনার সময় হান্টার ওই মিথ্যা তথ্য দেন। তিনি ১১ দিন বন্দুকটি নিজের কাছে রেখেছিলেন। তবে হান্টার আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন।
মঙ্গলবার আদালত হান্টারকে দোষী সাব্যস্ত করার পর তার বাবা জো বাইডেন একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, তিনি মামলার রায় মেনে নিয়েছেন এবং বিচার প্রক্রিয়াকে সম্মান করবেন। হান্টার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছেন বলেও জানান প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তবে কদিন আগেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শাস্তি পেলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুত্র হান্টারকে ক্ষমা প্রদর্শন করবেন না। উল্লেখ্য, বিচার চলাকালে ফার্স্টলেডি ড. জিল বাইডেনসহ হান্টারের স্ত্রী-সন্তানেরাও এজলাসে ছিলেন।
৮১ বছর বয়সী জো বাইডেন যখন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণ চালাচ্ছেন, ঠিক সে সময়ই তার ছেলের বিচারের এই রায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও বিষয়টিকে কাজে লাগাতে পারে ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির। তারা এর ফলে ট্রাম্পের ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।



