Advertisement Placeholder
মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসন

বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততায় ‘রাইজিং আপ নিউইয়র্ক’র সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ২১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততায়  ‘রাইজিং আপ নিউইয়র্ক’র সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা

জ্যামাইকা বাংলা উৎসবে প্রবাসীদের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া কেন জরুরি তা ব্যাখ্যা করতে স্টল দিয়েছিলেন শামসুল হক। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সংখ্যাগতভাবে সমৃদ্ধি ঘটলেও সিটি, স্টেট, ফেডারেল প্রশাসনে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সম্পৃক্ততা একেবারেই নগণ্য। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে প্রতিটি সিটিজেনেরই ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া জরুরি, তা যে দলের সমর্থক হিসেবেই হোন না কেন।

একইভাবে প্রতিটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনেও সক্রিয় থাকতে হবে। তাহলেই গুরুত্ব বাড়বে কম্যুনিটি হিসেবে। এমন একটি সংকল্প নিয়েই ২০২১ সাল থেকে মাঠে নেমেছে ‘রাইজিং আপ নিউইয়র্ক’ নামক একটি সংগঠন। এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট শামসুল হক জানালেন, আমার প্রত্যাশা হচ্ছে আজ থেকে ৫/১০ বছর পর আমাদের সন্তানেরা সিটি, স্টেট, ফেডারেল পর্যায়ের বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের ভোটার সংখ্যা বাড়াতে হবে। চলতি মাসে আমরা ৫টি ইভেন্ট করলাম সে অভিপ্রায়ে। ইচ্ছা আছে চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটিতে ১০০টি ইভেন্ট করবো। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ল্যাফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে কর্মরত শামসুল হক আরো বললেন, এটা রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, অসীম ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ, সিটিজেনশিপ নেয়ার পর কম্যুনিটির অনেকেই মনে করেন যে, পারিবারিক কোটায় আত্মীয়-স্বজনকে যুক্তরাষ্ট্রে আনাই একমাত্র দায়িত্ব। এর বাইরে নিজের এবং প্রিয়-পরিচিত কম্যুনিটির সকলের অধিকার ও মর্যাদা সুসংহত করতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া যে খুবই জরুরী-তা জানার চেষ্টা করেন না। এই অবস্থার অবসানে সকলকে সচেতন করার দায়িত্বটি পালনের চেষ্টা করছি। এযাবত কেমন সাড়া পেলেন? জবাবে নিরব সমাজকর্মী শামসুল হক বললেন, আমি হতাশ নই। ধীরে ধীরে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। এজন্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে মূধারায় জোরালোভাবে সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই-তা প্রথম প্রজন্মকে অনুধাবনে সক্ষম করা গেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে আমাদের বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এক্ষেত্রে সকলকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশি রাজনীতির বিভাজনকে এক্ষেত্রে পরিহার করাই শ্রেয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত বাংলাদেশি আমেরিকানদের সংগঠন ‘বাপা’র প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডেন্ট শামসুল হক উল্লেখ করলেন, ডেমক্র্যাট অথবা রিপাবলিকান-যে পার্টিতে খুশি তালিকাভুক্ত হোন। সেটি বড় কথা। ভোটারের সংখ্যানুপাতে ফেডারেল, সিটি ও স্টেটের সুযোগ-সুবিধা বন্টন করা হয়।
শামসুল হক জানালেন, বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান কন্ঠকে বলিষ্ঠকরণ ও আপনার পছন্দের প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির অনন্য সেবার সুযোগ প্রদানে আজই আপনার নাম ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করুন এবং আসন্ন নির্বাচনে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে কমিউনিটির সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করুন। নিউইয়র্ক সিটির বৈচিত্রময় দৃশ্যচিত্রে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি তার অনন্য অবস্থানকে দৃশ্যমান করে নিজেদেও পৃথক একটি অবস্থান গড়েছেন। আমাদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সিটির প্রধান খাতগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পরেও সরকারের উচ্চতর পর্যায়ে আমাদের প্রতিনিধিত্বের দৃশ্যমান একটি অভাব রয়েছে। এই অভাব কেবল প্রতীকী নয়; এটা প্রমাণ করে যে আমাদের কমিউনিটির প্রয়োজনগুলো সাধারণত উপেক্ষিত হয়ে আসছে। এর একটি প্রধান কারণ হলো অন্যান্য কমিউনিটির তুলনায় আমাদের কমিউনিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলবেধে বিপুলভোট প্রদানের মাধ্যমে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে খুব একটা আগ্রহী হচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ থেকে সামাজিক সংগঠনগুলোর জন্য প্রায় অর্দ্ধ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়। বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান সমাজ তুলনামূলকভাবে অনেক কম পরিমাণের অনুদান পায়। নির্বাচনে সাধারণত যেসব কমিউনিটি থেকে ভোট বেশি দেওয়া হয়, তাদেরকে প্রাধান্য দেন নির্বাচিতরা। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই আমাদেরকে অবহেলা করা হচ্ছে।
এছাড়াও এনওয়াইপিডি, এমটিএ, টিএলসি সহ অন্যান্য সরকারী সংস্থাগুলোর সবচেয়ে প্রভাবশালী পদগুলোতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অভাব এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। এই খাতগুলিতে আমাদের অনেকেই কাজ করলেও উচ্চতর অবস্থানগুলোতে প্রতিনিধিত্বের অভাব আমাদের কমিউনিটির জন্য কাজ করার সুযোগকে সীমিত করে রেখেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে এবং আমাদের সামগ্রিক কন্ঠস্বর জোরালো করতে অবশ্যই ভোটার নিবন্ধন ও ভোট প্রদানকে প্রাধান্য দিতে হবে। এর মধ্যে ভোটার নিবন্ধন হলো শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপ, যা আমাদেরকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে জবাবদিহি এবং আমাদের প্রাপ্য সম্পদ দাবি করার শক্তি দেবে। অধিক সংখ্যায় ভোটার নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আমরা রাজনীতিবিদদেরকে একটা পরিষ্কার বার্তা পাঠাতে পারবো যে আমাদের সমাজও সক্রিয় এবং আমরা তাদের মনোযোগ দাবি করছি।
এছাড়াও, ভোটার নিবন্ধন বাড়াতে পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাবে। আমাদের সমাজের মানুষদেরকে সরকারি চাকরি করতে ও সেখানে উন্নতি করতে যদি আমরা উদ্বুদ্ধ করি, তাহলে আমাদেরকে শুধু গুরুত্বই দেওয়া হবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তার প্রতিফলন হবে।
কামসুল হক জানান, একটি ন্যায়সঙ্গত নিউইয়র্ক শহর গড়ার কাজ শুরু হবে আমাদের নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। ভোটার নিবন্ধন ও অংশগ্রহণ করা শুধু আমাদের অধিকারই না, এগুলো আমাদের কমিউনিটির ভবিষ্যৎ উন্নত করার শক্তিশালী হাতিয়ার। আসুন সবাই একসাথে এগিয়ে আসি, বিপুলসংখ্যায় ভোটার নিবন্ধন করি, এবং ব্যালট যুদ্ধে আমাদের উপস্থিতির জানান দেই। এর মাধ্যমেই আমরা নিউইয়র্ক শহরে এবং এর বাইরে আরও সফল ও উন্নত একটা বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান সমাজ গড়তে পারব।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার