Advertisement Placeholder

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ধারেকাছেও যেতে পারিনি : জাতিসংঘ

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১০০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ধারেকাছেও যেতে পারিনি : জাতিসংঘ

জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং সাধারণ অধিবেশনে বেশ কবার রেজ্যুলেশন পাসের পরও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আজ অবধি কোনো অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এরফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরনার্থী ইস্যুটি শুধু বাংলাদেশকেই নানা ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত করেনি, একইসাথে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিকেও ভয়ংকর হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এহেন অবস্থার অবসানে জাতিসংঘের সর্বশেষ অবস্থান কী তা বাংলাদেশ প্রতিদিনের এ সংবাদদাতা জানতে চাইলে ২০ জুন দুপুরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংকালে মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসতভিটায় ফিরে যাবার পরিবেশ তৈরীর জন্যে যা করা দরকার তা জাতিসংঘ করছে। এই সমস্যার সাথে জড়িত সকল রাষ্ট্র ও সরকারের সাথে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে নিরাপদে যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে পারে। তবে এই পরিবেশ তৈরীর আশেপাশে এখনো আমরা পৌঁছতে পারিনি। আপনি জানেন যে, মিয়ানমার বিষয়ে কাজের জন্যে জুলি বিশপ নামে নয়া একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করেছেন মহাসচিব। তিনি ইতিমধ্যেই ঐ অঞ্চলের বিভিন্ন অংশীজনের সাথে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। দেখা যাক কী ঘটে।’

উল্লেখ্য, ২০ জুন ছিল বিশ্ব রিফ্যুজি দিবস। সে আলোকে বাংলাদেশে ১৪ লাখের মত রোহিঙ্গা শরনার্থীর ইস্যুটি উপস্থাপন করা হয়েছিল।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিদিন’র স্থায়ী সংবাদদাতার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ (জিসিএফ) তথা ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ নিয়ে। এটি বাংলাদেশের মত জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যতম ভিকটিম হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিলের বৃহত্তম বৈশ্বিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, যার লক্ষ্য উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের অভিপ্রায়ে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রদেয় অর্থ ব্যবহার করা। তবে উন্নত দেশগুলো থেকে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি থাকলেও গত বছর পর্যন্ত বার্ষিক গড়ে ২ বিলিয়ন থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের মত পাওয়া গেছে। পক্ষান্তরে ভিকটিম দেশসমূহের অগ্রাধিকারকে বাইপাস করে এবং তার লক্ষ্যগুলোকে অগ্রাহ্য করে জিসিএফ অভিযোজনের চেয়ে প্রশমনের জন্য বেশী তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনুদানের চেয়ে ঋণকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। আর এভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহকে অতিরিক্ত ঋণ পরিশোধের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে-যা জলবায়ু দূষণকারী নীতির পরিপন্থি।

ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিদারুণভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব উপলব্ধি করছে। এ অবস্থায়ও কী জিসিএফ’র ভূমিকা ধীর গতিতেই চলতে থাকবে? এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবের কোন মন্তব্য বা বিবৃতি আছে কী। জবাবে উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেন, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের পরিস্থিতির ব্যাপারে আমার সম্যক ধারণা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি জিসিএফ আসলেই একটি সার্থক এবং গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আমরা চাই যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা যতটা সম্ভব জমা হউক, কারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া দরকার।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার