Advertisement Placeholder

অভিবাসীদের নিয়ে সুর পাল্টালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

বিশ্ব ডেস্ক   |   রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৮৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অভিবাসীদের নিয়ে সুর পাল্টালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন কলেজ থেকে স্নাতক হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ পাবেন, যা তাদের এ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেবে। তার এ ঘোষণায় আশান্বিত হয়ে উঠেছিলেন অভিবাসীরা।

এর আগে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ড্রোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর অবস্থান ছিল। তাই নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি নির্বাচিত হলে, মার্কিন কলেজ থেকে স্নাতক করা বিদেশি শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়। অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের ইউটার্ন নেওয়ার নেপথ্যে বড় কোনো কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গ্রিন কার্ড হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য একটি পরিচয় নথি।সূত্র: এনডিটিভি।

ট্রাম্প বলেন, শিক্ষার্থীরা মার্কিন কলেজ থেকে স্নাতক করার পর ভারত ও চীনের মতো তাদের দেশে ফিরে যায়। পরে তারা অনেক কোটিপতি হয়ে যায়। তাই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই প্রতিলিপি করার চেষ্টা করছেন।

আগামী নভেম্বরে হওয়া মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় সংস্করণ দেখা মিলতে পারে। যেখানে অভিবাসন এবং অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাসন ভোটারদের জন্য মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।

ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুর দিকে নির্বাচনি প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসীদের ‘মানুষ নয়, পশু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন, তিনি সর্বদা একটি যোগ্যতাভিত্তিক আইনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে সমর্থন করেন।

তিনি ‘অল-ইন’ পডকাস্টে বলেছেন, তিনি মার্কিন কলেজ থেকে স্নাতক হওয়া শিক্ষার্থীদের ডিপ্লোমার অংশ হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড অফার করার পরিকল্পনা করছেন, যা তাদের দেশে তাদের অবস্থান চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

পডকাস্টটি চামাথ পালিহাপিটিয়া, জেসন ক্যালাকানিস, ডেভিড স্যাকস এবং ডেভিড ফ্রিডবার্গ দ্বারা হোস্ট করা হয়েছিল— সবাই ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, যাদের মধ্যে তিনজনই অভিবাসী৷

পডকাস্টে কথা বলার সময়, ট্রাম্প ‘গল্পগুলো স্মরণ করেছিলেন যেখানে লোকেরা একটি শীর্ষ কলেজ থেকে বা একটি কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছিল, এবং তারা মরিয়া হয়ে এখানে থাকতে চেয়েছিল, তাদের একটি কোম্পানির জন্য একটি পরিকল্পনা ছিল, একটি ধারণা ছিল এবং তারা পারে না। তাই তারা ফিরে যায়। তারা ভারত ও চীনে ফিরে যায়। সেখানে তারা একটি বেসিক কোম্পানি করে… এবং তারা হাজার হাজার লোককে নিয়োগ করে। অনেকে-বিলিওনিয়ার হয়ে ওঠে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ‘আমরা হার্ভার্ড, এমআইটি, সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় থেকে লোকদের হারিয়েছি’।

তিনি STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত) ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি অর্জনের পর বিদেশি ছাত্রদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার বিষয়ে তার প্রথম মেয়াদি নীতির পুনরাবৃত্তি করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘যে কেউ একটি কলেজ থেকে স্নাতক হয়, আপনি সেখানে দুই বছর বা চার বছরের জন্য যান। আপনি যদি স্নাতক হন বা আপনি একটি কলেজ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি পান, তবে আপনি এই দেশে থাকতে পারবেন।’

‘আমরা মেধাবী লোকদের বাধ্য করি, যারা কলেজ থেকে স্নাতক হয়, যারা সেরা কলেজ থেকে তাদের ক্লাসে এক নম্বর হয়, আপনাকে এই লোকদের নিয়োগ করতে এবং লোকদের রাখতে সক্ষম হতে হবে।- যোগ করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ক্লাসের শীর্ষে থাকা কিছু স্নাতক কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তিও করতে পারে না। কারণ তারা মনে করে না, যে তারা দেশে থাকতে পারবে, তবে এটি একদিন শেষ হতে চলেছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো তার প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিপরীতে ছিল, যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন, যার মধ্যে গ্রিন কার্ড এবং ভিসার বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত এক মিলিয়নেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে এবং এই সংখ্যাটি আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়। মূলত ভোটার ও সমর্থন টানতে ট্রাম্প ভোটের আগে এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার