
বিশেষ সংবাদদাতা | সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | ১১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রচলিত রীতি অনুসরণ না করে যারা বেআইনীভাবে হজ্বব্রত পালন করছিলেন তারাই মূলত: অসহনীয় দাবদাহের শিকার হয়ে মারা গেছেন। সৌদি প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদ্বেগজনক এ তথ্য জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত চলতি বছরের হজ্বব্রত পালনের সময় মক্কায় প্রচন্ড দাবদাহে ১৩ শতাধিক হাজির মৃত্যু হয়েছে। এর অধিকাংশেরই হজের অনুমতি ছিল না।
এজন্যে তারা প্রচন্ড গরমের সময় নিজেদের রক্ষায় বিদ্যমান সুবিধাগুলো পাননি বলেও সৌদি হজ্ব মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৩ জুন গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। হজ্বব্রত পালনে আগ্রহীদের তালিকা তৈরীর জন্যে সৌদি সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত সংস্থাকে যথাযথ ফি প্রদান করেছিলেন। সংস্থাগুলো সে দায়িত্বটি পালন করেনি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আর এহেন প্রতারণার অসহায় ভিকটিম হয়েছেন উপরোক্ত ব্যক্তিরা। সৌদি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্তরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস দিয়ে মক্কায় চলাচলের সুবিধা পেয়েছেন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে তারা বিশ্রামও করেছেন। যারা তালিকাভুক্ত ছিলেন না-তারা এসব সুযোগ পাননি। এরফলে ১২০ ডিগ্রির ওপর তাপমাত্রা প্রবাহিত হবার সময় অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন প্রকাশ্য রাস্তায় এবং এক পর্যায়ে মৃত্যুমুখে পতিত হন অনেকের দৃষ্টির সীমানাতেই।
সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রী ফাহদ আল জালাজেল রবিবার সৌদির স্টেট টিভিতে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন, দাবদাহে নিহত ১৩০১ জনের মধ্যে ৮৩% এরই হজ্বব্রত পালনের অনুমতি ছিল না। এবার হজ্বব্রত পালনের সময় মক্কার তাপমাত্রা ছিল বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ। এমনি অবস্থায় দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এহেন দু:খজনক পরিস্থিতির ভিকটিম হয়েছেন অনেকে। হজ্বব্রত পালনের অনুমতি না থাকায় এসব মানুষকে অসহনীয় তাপমাত্রায় পথ চলতে হয় বাধ্য হয়ে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, প্রতি বছরই ২০ লক্ষাধিক মানুষ মক্কায় হজ্বব্রত পালনের সময় কিছু মানুষ দাবদাহে, আবার কেউ কেউ জটিল রোগে আক্রান্ত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তবে এবারের মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিক বলে সর্বত্র সমালোচনা শুরু হওয়ায় সৌদি মন্ত্রী এমন মন্তব্য করলেও মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেননি। এমনি ভয়ংকর দাবদাহে এর আগে ১৯৮৫ সালে ১৭ শতাধিক হাজির মৃত্যু হয় বলে সৌদি সরকারের নথিতে পাওয়া গেছে।
সৌদি সরকারের কঠোর নির্দেশ সত্বেও চলতি বছর কমপক্ষে ৪ লাখ বিদেশি মক্কায় হজ্বব্রত পালনের চেষ্টা করেন বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই। এসব বিদেশির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে ২৩ জুন নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে। এদিকে, দাবদাহে তিউনিশিয়ার ৫০ হাজির মৃত্যুবরণের ঘটনায় দেশটির ধর্ম মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জর্দানের ৯৯ হাজির মৃত্যু হয়েছে। সে দেশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে। কারণ, এরা অনুমোদন ছাড়াই সৌদিতে গিয়েছিলেন। মিসরের হজ্ব বিষয়ক ১৬টি কোম্পানীর লাইসেন্স কেড়ে নেয়া হয়েছে। কায়রোর আল-ইমান ট্যুর কোম্পানীর মালিক ইমান আহমেদ নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, হজ্বব্রত পালনকেও অনেকে ব্যবসা হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং তারা ধর্মপ্রাণ মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতিকে পূজি করে এহেন বিপদে নিপতিত করতে কসুর করছে না।



