
বিশেষ সংবাদদাতা | শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট | ৬৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ফাহিম সালেহ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ‘পাঠাও’র সিইও ফাহিম সালেহকে (৩৩) নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডে জড়িত তার সাবেক সহকারী টাইরেস হাসপিলকে (২৫) দোষী সাব্যস্ত করেছে নিউইয়র্কের আদালত।
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার ২৪ জুন ম্যানহাটানস্থ সুপ্রিম কোর্ট এ মামলায় তার সাবেক সহকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ২০২০ সালে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে নিজ এপার্টমেন্টে বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ এমন নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের শিকার হন।
আদালতে তার সাবেক সহকারী টাইরেস হাসপিল জানায়, প্রেমিকাকে আকৃষ্ট করার জন্য নানা উপহার কিনতে তিনি ফাহিমের অর্থ চুরি করেছিলেন। পরে এ বিষয়টি আড়াল করতেই তিনি ফাহিমকে হত্যা করেন। তবে তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন বিচারক। আদালতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, হাসপিল ফাহিমের চার লাখ ডলার চুরি করে। এরপর বিষয়টি আড়াল করতে হত্যার পর তার ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ফাহিমের লাশ খন্ড-বিখন্ড করে। এ ঘটনায় হাসপিলকে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ফাহিম সালেহ রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ছাড়াও নাইজেরিয়াভিত্তিক স্কুটার স্টার্ট-আপ গোকাদা’র প্রধান নির্বাহী ছিলেন।
২০২০ সালের ১৩ জুলাই নিজ অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন ফাহিম। এ ঘটনার তখন তার ব্যক্তিগত সহকারী হাসপিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ওই বছরের ১৩ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আইনজীবীরা বলছেন, হাসপিল ফাহিমকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়। আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছিল হাসপিল।
অন্যদিকে হাসপিলের আইনজীবীদের দাবি, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে হাসপিল। এ জন্য তার সাজা কমানোর দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। যদিও আইনজীবীদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন জুরিবোর্ড।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় হাসপিলের সাজা ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়েছে। এ মামলায় তার ২৫ বছর কারাদন্ড হতে পারে।
সালেহ ম্যানহাটন ভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদারও ছিলেন।
সালেহ সৌদি আরবে একটি বাংলাদেশী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রচেস্টার, নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরুর আগে তার বাবা-মা কাজের জন্য ঘন ঘন বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তিনি অল্প বয়স থেকেই নিজেকে প্রোগ্রামার বানাতে চেয়েছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রকল্প তৈরি করেছিলেন। যেমন তার পরিবারের জন্য একটি ওয়েবসাইট, একটি কিশোর সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এবং একটি প্র্যাঙ্ক ডায়াল পরিষেবা-যা ১ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যবসা করেছে। যখন তিনি বড় হন, সালেহ বলেছিলেন যে তিনি এমন কিছু তৈরি করতে চান যা “মানবতার বৈধ মূল্য যোগ করে”। হাই স্কুলে থাকা অবস্থায় তিনি তার প্রথম প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। তিনি প্র্যাঙ্কডায়াল থেকে আয় তার পরবর্তী উদ্যোগের তহবিলে ব্যবহার করেছিলেন।প্র্যাঙ্কডায়াল কিছুটা বিতর্কিত ছিল কারণ এটি হয়রানির হাতিয়ার হিসাবে অপব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও নেপালের জনপ্রিয় রাইড কোম্পানি পাঠাও-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কোম্পানিটির মূল্য ছিল ১০ কোটি মার্কিন ডলার।২০১৮ সালে, সালেহ নাইজেরীয় মোটরবাইক ট্যাক্সি কোম্পানি গোকাদার সাথে কাজ শুরু করে, যার লক্ষ লক্ষ ডলার তহবিল ছিল এবং দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ২০২০ সালে লাগোসের কর্তৃপক্ষ মোটরবাইক ট্যাক্সি নিষিদ্ধ করার পর কোম্পানিটি একটি ধাক্কা খেয়েছিল। ফাহিম কলম্বিয়ার পিক্যাপ নামে আরেকটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করেছিলেন। বন্ধুরা সালেহকে “উন্নয়নশীল বিশ্বের ইলন মাস্ক” বলে ডাকতেন। তার মোট সম্পদের মূল্য ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বলে অনুমান করেছে।



