Advertisement Placeholder
নিউইয়র্কে সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন

বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য যাদের সহ্য হচ্ছে না তারাই মিথ্যাচারে লিপ্ত

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   সোমবার, ০১ অগাস্ট ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১১২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য যাদের সহ্য হচ্ছে না তারাই মিথ্যাচারে লিপ্ত

ড. এ কে এ মোমেন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মার্কিন মুল্লুকেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারনাকারিদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেন, ‘কিছু লোক আছে এই প্রবাসে। বাংলাদেশে গত এক যুগে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেটি তাদের সহ্য হচ্ছে না। হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে। এজন্যে তারা সারাক্ষণ অপপ্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। বানোয়াট কিছু গল্প-কাহিনী রটাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের পজিটিভ ইমেজগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হোক।’
ড. মোমেন উল্লেখ করেন, ‘গত ১২/১৩ বছরের সাফল্য অকল্পনীয়। সকল সেক্টরে সাফল্য এসেছে। শুধু আমাদের জিডিপি বাড়ছে তা নয়, গত ১২ বছরে জিডিপি গড়পরতা ৬.৬% ছিল। কোভিডের আগের বছরে ৮.১৫% ছিল। সারাবিশ্বে সর্বোচ্ছ। করোনাকালেও ছিল ৬.৯৮%। এটা মিরাক্যুল বলতে হবে। অলৌকিক ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। দারিদ্রসীমাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেভাবে আমরা এগুচ্ছি, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ অতি-দারিদ্র মুক্ত একটি দেশে পরিণত হবে। আমরা সে হার ৩% এ নিয়ে আসতে চাই।

অর্থাৎ বাংলাদেশ খুবই ভালো করছে। শিশু মৃত্যু কমেছে। মাতৃ মৃত্যু কমেছে। বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারি একটি দেশ যেখানে পরিবার পরিকল্পনা তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৯৮%, সেটি কমে এখন ১.২২% হয়েছে। জন্মহার আমরা জোর করে কমাইনি। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণকে অধিক জনসংখ্যার কু প্রভাব সম্পর্কে সজাগ করতে পেরেছি। এসব বিষয় সুবিস্তারে গণমাধ্যমে আশা উচিত।’
জাতিসংঘে পরমাণু বিস্তাররোধ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অংশ নিতে ৩১ জুলাই নিউইয়র্কে এসেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিনই অপরাহ্নে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন হোটেল কক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘এনআরবি কানেক্ট টিভি’কে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ড. মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের নেতা, তার মত সেক্রিফাইসিং লিডারশিপ তো সারাবিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি সেজন্যে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস, কন্স্যুলেট রয়েছে, সবগুলোতে বঙ্গবন্ধু কর্নার চালু করেছি।

এর উদ্দেশ্য হলো, বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ-তিতিক্ষা, আদর্শ, মূল্যবোধ, চিন্তাধারা ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, শান্তি এবং স্থিতি, উন্নয়নের অপরিহার্যতা ইত্যাদি চিন্তা-ধারাকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা। এর সাথে শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে চলমান অভাবনীয় সাফল্যের কাহিনী বিস্তারিতভাবে প্রকাশ ও প্রচার করাই হচ্ছে এ সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’
ড. মোমেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, ভাগ্য গড়ার অপূর্ব সুযোগের উর্বর ভূমি।

তিনি বলেন, কোভিডের ভয়ংকর একটি পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই শুরু হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ। এর আগে দুনিয়াতে অনেক যুদ্ধ হয়েছে। ইরাক যুদ্ধ, কুয়েত যুদ্ধ, ইয়েমেন, লিবিয়া, ইরান যুদ্ধ আফগানিস্তানে যুদ্ধ, কঙ্গো, সোমালিয়ায় যুদ্ধ হলো। মুজাম্বিকে হলো। যুদ্ধ তো লেগেই আছে। ঐসব যুদ্ধ আমাদেরকে ততটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। কিন্তু বর্তমানের ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বিভিন্ন রকমের অবরোধ হওয়ায় তার ধকল কোন না কোনভাবে আমাদেরকেও পোহাতে হচ্ছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তবে কোন ধরনের পরিস্থিতি তৈরী হবার আগেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সাশ্রয়ী হতে বলেছি সকলকে। ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫ সালে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার। তা নিয়েও বাংলাদেশ বড়াই করতো সে সময়। এখন আমাদের সব ধরনের ব্যয় করার পরও রিজার্ভের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং চিন্তার কোন কারণ নেই। এতদসত্বেও কিছু লোক অহেতুক বক্তব্য দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে তারা ফায়দা লুটতে চায়।
১ আগস্ট সোমবার অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের সেই শীর্ষ বৈঠক। সেটিতে যোগদানের পরদিনই কম্পোডিয়ার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার