
স্পোর্টস ডেস্ক: | সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মা চেয়েছিলেন তাঁর একমাত্র মেয়ে বেলি ড্যান্স শিখুক। কিন্তু বছর ১১ হতে বাবা ভর্তি করিয়েছিলেন তায়কোয়ান্দো ক্লাসে। প্রাথমিক স্কুলে থাকতেই ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার পরও মায়ের ইচ্ছা ছিল ওসব মারপিটের খেলা ছেড়ে মেয়ে অন্তত আইস স্কেটিং করুক। এসব নিয়ে যখন পরিবারে টানাপোড়েন, তখন কিশোরী ভিভিয়ান কং ঠিক করলেন এমন কি কিছু নেই, যেখানে বাবা-মা দু’জনেরই মন রক্ষা করা যায়। ঠিক তখনই তাঁর সামনে আসে ফেন্সিং। যেখানে তায়কোয়ান্দোর মতো গতি যেমন আছে, তেমনি বেলি ড্যান্সের মতো ছন্দও আছে। আর তলোয়ার হাতে সেই ফেন্সিংয়ে একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে কংয়ের।
তিন-তিনবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়ে হংকংয়ের ‘সোর্ড কুইন’ পদবি পেয়ে যান। হংকংয়ের সেই সোর্ড কুইনই এবার অলিম্পিকে স্বর্ণ এনে দিয়েছেন তাঁর দেশকে। ফ্রান্সের অঁরি মালো ব্রেটনকে সাডেন ডেথে ১৩-১২ পয়েন্টে হারিয়েছেন। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এই ইভেন্টে দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ফেন্সিংয়ে ‘ইপি’ ইভেন্টে অপেক্ষাকৃত ভারী তলোয়ার নিয়ে খেলতে হয়।
সেখানে কংয়ের চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর ইনজুরি। গত তিন বছরে লিগামেন্টে দুটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। এ অবস্থায় নিজেকে ফিট করে অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় তাঁর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে আনন্দাশ্রু কংয়ের। ‘অলিম্পিকের ইতিহাসে দুটি পদক ছিল হংকংয়ের। সেখানে তৃতীয় পদকটি এনে দিতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। মনে পড়ছে ছোটবেলার কথা। বাবা-মা দুইজনের ইচ্ছাতেই তলোয়ার হাতে নিয়েছিলাম। বাবা আমাকে বলেছিলেন– তোমার যদি তায়কোয়ান্দো ভালো লাগে আর বেলি ড্যান্সও করতে চাও, তাহলে ফেন্সিং খেলতে পার। ভালোবেসেছিলাম এই খেলাটিকে।’
বছর ত্রিশের এই ফেন্সার ছয় বছর পর্যন্ত কানাডাতে বেড়ে উঠেছিলেন। এর পর দেশে ফিরে ফেন্সিংয়ের পাশাপাশি স্যান্টফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবিদ্যায় পড়ালেখা করেন। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো তাঁর বাঁ পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। দু’বছর পর ডান পায়েরটি।
‘একটা সময় মনে হয়েছিল, কখনও বুঝি আর ফেন্সিংয়ে নামতে পারব না। কিন্তু এর পর নিজের খাদ্যাভ্যাস এবং আরও অনেক কিছু করে নিজেকে ফিট করেছি। এখন যোগ ব্যায়াম আর পেন্টিংয়েও অনেক সময় কাটায়।’ হংকংয়ের এই সোর্ড কুইনের লড়াকু মানসিকতা দেখে ফরাসি প্রেসিডেন্টও আপ্লুত ছিলেন। গ্যালারি থেকে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান।



