
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর সারাদেশে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সংসদ সদস্যগণের বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটতরাজ এবং অগ্নি সংযোগের মত সহিংসতা শুরু হওয়ায় জনসাধারণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় নিপতিত হয়েছে। মেট্রপলিটন সিটি যশোরে ২৪ জন নীরিহ মানুষসহ বেশ কটি স্থানে অনেক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে এবং ক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে খুন হয়েছে। এহেন অবস্থায় জাতিসংঘের বক্তব্য জানতে চাইলে ৬ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে মহাসচিবের পক্ষে তার উপ-মুখপাত্র ফারহান খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন,
ক্রমাগত সহিংসতার বিষয়ে, আমরা চাই সব পক্ষ একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে কাজ করুক। এ প্রসঙ্গে আমরা সোমবার একটি বিবৃতিতে বলেছি যে, মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেস সপ্তাহান্তে বাংলাদেশে বিক্ষোভের সময় আরও প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়ে সেনাপ্রধানের ঘোষণা এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনাসহ দেশের উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে চলেছেন। মহাসচিব সব পক্ষকে শান্ত ও সংযমের আহ্বান জানান এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক পথে উত্তরণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
মহাসচিব বাংলাদেশের জনগণের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সব ধরনের সহিংসতার পূর্ণ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে চলেছেন।
ছাত্র সমাজের কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তীতে সর্বাত্মক অসহযোগিতার কর্মসূচির সময় হতাহতের জন্যে দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ তার তদন্তে সহযোগিতা চাইলে জাতিসংঘের অবস্থান কী-সে প্রসঙ্গে ফারহান হক বলেন, আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে ইচ্ছুক, এবং আমাদের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতার অনুরোধ করা হচ্ছে তা আমরা দেখার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবো।
এদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাবের সংবাদকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শীর্ষ কূটনীতিকরা। নাম গোপন রাখার শর্তে একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা এ সংবাদদাতাকে মঙ্গলবার বলেছেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ড. ইউনূসের মত ব্যক্তিত্বকে নেতৃত্ব দেয়া দরকার। দুর্নীতি এবং অপশাসনের সকলে পড়া দেশটিকে সুপথে টেনে আনতে ড. ইউনূসের নেতৃত্ব ভীষণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন একজন ক’টনীতিক।
সিনেট লিডার বললেন
মার্কিন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ (ডেমক্র্যাটিক পার্টি) নেতা সিনেটর চাক শ্যুমার শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সোমবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, বৈধ প্রতিবাদের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহিংস প্রতিক্রিয়া তার অব্যাহত শাসনকে অকার্যকর করে তুলেছিল। আমি সাহসী বিক্ষোভকারিদের সাধুবাদ জানাই এবং হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার দাবি করছি। একটি ভারসাম্যপূর্ণ অন্তর্বতী সরকার প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ন যেটি সকলের অধিকারকে সম্মান করবে এবং দ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা নেবে।



