
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন এটর্নী অশোক কর্মকার। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বাংলাদেশে কোটা সংস্কারের পথ বেয়ে শেখ হাসিনার পতনের পরই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিপূরণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ৭ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার এই সংবাদ সম্মেলন থেকে অন্তর্বতীকালিন সরকারের প্রধান নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস সমীপে এ আহবান জানিয়ে উল্লেখ করা হয়, উদ্ভ’ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পাই যে এটা ছিল পরিকল্পিত। সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করার আগে অপরাধীরা নির্বিচারে পুলিশকে আক্রমণ করেছিল, পুলিশ যখন নিজেদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়, তখোন এই অপরাধীদের নিষ্ঠুর মুখোশ বেরিয়ে আসে। হিন্দু সংখ্যালঘুদের অপদস্থ করে। এতে গোটা সম্প্রদায় বিস্মিত।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের গভর্নিং বডির চেয়ারপার্সন এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে হিন্দুসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও অকুন্ঠ সমর্থন ছিল। প্রবাসে জনমত তৈরীতে আমরাও কাজ করেছি। এতদসত্বেও কেন টার্গেট করা হলো হিন্দু জনগোষ্ঠিকে। ইমিগ্রেশন এবং মানবাধিকার বিষয়ক খ্যাতনামা এটর্নী অশোক কর্মকার ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা চলে যাবার পর উদ্ভ’ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেনা প্রধান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। বাস্তবে তেমন কোন আলামত দেখা যায়নি। অধিকন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে পুলিশও দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়নি। এভাবেই দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তপনার ক্ষেত্র তৈরী করা হয়েছে এবং ওরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ চালিয়েছে। এটর্নী অশোক বলেন, প্রশাসন যদি প্রমাণ করতে চায় যে, তারা দুর্বৃত্ত দমনের পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তরিক, তবে তার প্রমাণ দিতেই অবিলম্বে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার করতে হবে। অন্যথায় যে কারণে শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে, একইপরিণতি তাদেরকেও বরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন এটর্নী অশোক কর্মকার।
ঐক্য পরিষদের সভাপতি নয়ন বড়ুয়া বলেন, ‘ছাত্র-জনতার এক দফা দাবি পুরণের পরই সারা বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরী এবং হিন্দুসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্যারিসে গনমাধ্যমের কাছে ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেছেন যে গণ অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের অবস্থা স্বাভাবিক। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং নোবেল বিজয়ী বিশ্ব বাঙালির আস্থার স্থল ড. ইউনূসকে অন্তর্বতীকালিন সরকারের প্রধান হিসেবে মনোনীত করায় আমরা তাঁর এমন মন্তব্যে হতবাক হয়েছি। এতদসত্বেও আশা করছি তিনি শপথ গ্রহণের পর অন্যসব হত্যাকান্ডের মতো সংখ্যালঘু হত্যাকান্ডসহ বাড়ি-ব্যবসা-মন্দিরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। এজন্যে দ্রুত বিচারের জন্যে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহবান জানানো হয়। উল্লেখ করা হয় যে, ৫ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে হাজারো মন্দিরে হামলা, হাজার হাজার বাড়িতে লুটতরাজ, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্ররা তাদের দাবিতে জয়ী হলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে ভারতে যাবার পরই শুরু হয় সহিংসতার আরেক অধ্যায়। উচ্ছৃঙ্খল জনতা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ শুরু করে। তাদের মন্দির, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নারীদের শ্লীলতাহানী করে। লিখিত বক্তব্যে রয়েছে, হামলা, লুট, অগ্নি সংযোগ এবং নৃশংসভাবে হিন্দুদের হত্যা এবং নারীদের সম্ভ্রমহানীর প্রারম্ভে দুর্বৃত্তরা ভালো মানুষ সেজে হিন্দুদের রক্ষা করতে এসেছে বলে ভিডিও ধারণ করে। এবং এরপরই ওদের মুখোশ উম্মোচিত হয় এবং অসভ্যতার চরমে উঠে।
‘সেভ হিন্দুজ ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে এ সংবাদ সম্মেলনে আরো কথা বলেন ঐক্য পরিষদের নেতা উমা চক্রবর্তী এবং গীতা চক্রবর্তী।
এদিকে, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ৯ আগস্ট শুক্রবার অপরাহ্ন ৩টায় জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করবে ‘ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ’র সদস্য-কর্মকর্তারা। এ সময় বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নৃশংসতার বিবরণ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মহাসচিব বরাবরে প্রদান করা হবে বলে জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান ডা. প্রভাত দাস। সাধারণ সম্পাদক রামদাস ঘরামি সকল সচেতন প্রবাসীকে এ কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমরা হিন্দুদের ঘর বাড়ি মন্দিরে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।



