
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার নিন্দা এবং দুর্বৃত্তদের শাস্তি দাবিতে ১৮ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটিতে বিশ্বখ্যাত ইউনিয়ন স্কোয়ারে বিক্ষোভ-র্যালি হলো ‘ইউনাইটেড হিন্দুজ ইন ইউএস’র উদ্যোগে। একই সংগঠনের উদ্যোগে বড় ধরনের আরেকটি সমাবেশ হয় ৯ আগস্ট শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে এবং টাইমস স্কোয়ারে। এই সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালিন সরকারের প্রধান নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সমীপে দাবি জানানো হয় হামলা কারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের।
‘জাস্টিস জাস্টিস-উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, জাস্টিস ফর বাংলাদেশী হিন্দুজ’, ‘স্টপ কিলিং হিন্দু ইন বাংলাদেশ’, ‘স্টপ বার্নিং হিন্দু হাউজেস’, ‘স্টপ বার্ণিং টেম্পল’, ‘হিন্দু লাইভস আর ম্যাটার’, ‘স্টপ রোবিং হিন্দু হাউজেস’, ‘জাগো জাগো-হিন্দু জাগো’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-তোমার আমার ঠিকানা’, ‘মন্দির ভাঙলো কেন-জবাব চাই’, ‘সেভ বাংলাদেশী হিন্দুজ’ ‘প্রসিকিউট অ্যান্ড পানিশ-মাইনোরিটি পারসিকিউটর’ ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো ম্যানহাটান। এতে শিশু-কিশোরোও অংশ নেয় মা-বাবা-ভাই-বোনের সাথে। এই কর্মসূচির সমন্বয়কারী এবং ‘ইউনাইটেড হিন্দুজ ইন ইউএস’র সেক্রেটারি রামদাস ঘরামি ঘোষণা দেন, ইতিমধ্যেই আমরা ন্যায় বিচার চেয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি। শীঘ্রই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হোয়াইট হাউজ এবং কংগ্রেসে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। হোস্ট সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ভজন সরকার অংশগ্রহণকারি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচারে সোপর্দ না করা পর্যন্ত আমাদেরকে সোচ্চার থাকতে হবে।
ইউনাইটেড হিন্দুজ ইন ইউএসএর চেয়ারম্যান ডা. প্রভাত দাস প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে বলেন, বাংলাদেশে যখোনই সরকারের পরিবর্তন ঘটে তখোনই হিন্দুরা আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছি। সারাবিশ্বের হিন্দুরা আজ ঐক্যবদ্ধ। একইভাষায় আমরা কথা বলছি। তাই বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত থাকুন।

মানবাধিকার সংগঠক এবং মূলধারার রাজনীতিক ড. দীলিপ নাথ ৬২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু যাদুঘর তছনছের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ঘৃণ্য প্রয়াস চালানো হয়েছে। একইসাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে সংখ্যালঘুহীন করার জঘন্য একটি প্রয়াস চালানো হচ্ছে। ড. দীলিপ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ১৮ আগস্ট সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এতদসত্বেও জাতিসংঘের তদন্ত টিমকে বারবার বলা হচ্ছে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত চালানোর জন্যে। প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাবার পর শুরু হওয়া জ্বালাও-পোড়াও, হত্যাযজ্ঞ, লুটতরাজের সাথে জড়িতদের মুখোশ উম্মোচনে অন্তর্বর্তী সরকারের কেন এই নিরবতা-তা বিবেকসম্পন্ন মানুষকে ব্যথিত করছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি তদন্তের পরিধি ৫ আগস্ট থেকে বাড়িয়ে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত করা হলে সকল হত্যাকান্ডে, লুটতরাজ, ভাংচুরসহ সহিংসতায় জড়িতরা বিচারের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নব্যেন্দু বিকাশ দত্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরই শুরু হয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা। ওরা হিন্দু বাড়িতে আক্রমণ করে। মালামাল লুট করছে। মন্দির ভাংচুর করছে। সারাদেশে প্রায় ৫০ জেলায় ওরা এহেন বর্বরতা চালিয়েছে। আর এটা নতুন ঘটনা নয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসিরা বারবারই আক্রান্ত হচ্ছে, যখনই কোন নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় কিংবা অন্য কোন কারণে সরকার উচ্ছেদ হয়, তখনই ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এহেন বর্বরতার ভিকটিম হয়, দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন সদানন্দ হালদার, আশীষ ভৌমিক, প্রদীপ মালাকার প্রমুখ। অংশগ্রহণকারী সকলের হাতেই ছিল প্লেকার্ড-ফেস্টুন। ভিনদেশীরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনাবলি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং অনেকে মন্তব্য করেন, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করছেন? সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকেও দেখা গেছে।



