Advertisement Placeholder

অবসরেও সমাজসেবা করতে চান ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি   |   শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৭৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অবসরেও সমাজসেবা করতে চান ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক

নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে টানা ২৫ বছর এমটিএ (মেট্রপলিটন ট্র্যাঞ্জিট অথরিটি)তে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরির পর সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন কম্যুনিটির নিরব সমাজকর্মীগণের অন্যতম মোহাম্মদ ফজলুল হক। এ উপলক্ষে ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে একটি পার্টি হলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় দীর্ঘ প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি বহুজাতিক সমাজে কম্যুনিটির এগিয়ে চলার আলোকপাতকালে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক সকলকে সম্প্রীতির বন্ধনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাকিটা জীবন কম্যুনিটি এবং ফেলে আসার মাতৃভূমির আর্ত-মানবতার কল্যাণে অতিবাহিত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন মৃদুভাষী ফজলুল হক। ‘কারো সাথে বৈরিতা নয়-সকলের সাথে বন্ধুত্ব’ নীতিতে থাকা লোকজন কখনোই কোন সমস্যায় পড়েন না বলে মন্তব্য করেন অবসরে যাওয়া ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক। তিনি বলেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যেন সকলের সান্নিধ্যে অতিবাহিত করতে পারি-এটাই পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সন্তান ফজলুল হক যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আগে সিলেট অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। নিউইয়র্কে অবতরণের পরই সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে অধ্যয়ন করেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষয়ে। সে সময় তিনি ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টে কাজ করেছেন শিক্ষার খরচ যোগাতে। লক্ষ্যে অবিচল থাকায় আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হয়েছেন বলে মনে করছেন ফজলুল হক। পারিবারিকভাবেও খুশী ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক বললেন, দীর্ঘ এই পথ-পরিক্রমায় ছায়ার মত পাশে পেয়েছি এবং পাচ্ছি স্ত্রী সায়েরা হককে। পেশাগতভাবে তিনি চিকিৎসক হলেও সারাক্ষণ আমাকে সহায়তা/পরামর্শ দিয়ে থাকেন কল্যাণমূলক সকল ইস্যুতে।

ডা. সায়েরা হক ২০০১ সাল থেকে কোনি আইল্যান্ড হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। এরইমধ্যে ২০০৫ সাল থেকে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে অবস্থিত ‘হক মেডিকেল অফিস’-এ রোগী দেখছেন। রোগীর প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হয়েছে সমগ্র কম্যুনিটিতেই।

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হকের ৩ কন্যা। জ্যেষ্ঠ কন্যা ফারজানা হক ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহনের পর বিশ্বখ্যাত কম্প্যুটার কোম্পানী ‘এইচপি’তে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। মেঝো কন্যা সায়মা হক ইউএসসি থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর প্রাইভেট ক্লিনিকে মা-কে সহযোগিতা করছেন। কনিষ্ঠ কন্যা নাফিসা হক পড়ছেন কর্ণেল ইউনিভার্সিটিতে।

১৯৯০ সালে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পারিবারিক কোটায় ১১৩জনকে এনেছেন এবং সকলেই ফজলুল হকের সান্নিধ্যে নিজ নিজ পেশায় মনোনিবেশ করেছেন।

ব্রুকলীনের স্থায়ী বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক অবসর জীবনে বিশ্ববিখ্যাত স্থান পরিভ্রমণ, নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা পরিচালনা ছাড়াও প্রিয় পরিচিত-প্রতিবেশীদের যে কোনো প্রয়োজনে নিবেদিত থাকার প্রত্যাশা রয়েছে। একইভাবে এই কম্যুনিটির সমস্যা-পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতেও কুন্ঠাবোধ করবো না বলে উল্লেখ করেন মো. ফজলুল হক।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার