Advertisement Placeholder

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল আর নেই

সাইদুর রহমান প্যাটেল। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন

স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য সাইদুর রহমান প্যাটেল (৭৬) চিরপ্রস্থান করেছেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। গত ৮ আগষ্ট ভোর ৩:১৫ টায় লসঅ্যাঞ্জেলেসের এডভ্যাস্টিস হেলথ গ্লান্ডেল হসপিটালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার রোগে ভুগছিলেন। ডা. রবিআলম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর তত্ত্বাবধান করেন এবং তাঁর খাওয়া থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লেখক-সাংবাদিক তপন দেবানাথ জানান, গত ১৬ আগষ্ট লসঅ্যাঞ্জেলেসের ভারমন্ট ইসলামিক সেন্টারে সাইদুর রহমানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে লসঅ্যাঞ্জেলেস কন্স্যুলেটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে রাষ্ট্রীয় সন্মান প্রদর্শন করেন। বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত হয়ে প্রয়াত বীরের প্রতি সম্মান জানান। কমিউনিটির অনেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চিরবিদায় জানাতে হিমঘরে ঢুকে তাঁর কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করেন, আবার বেশ কয়েকজন বাইরে নিস্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকেন। সেদিন রাতেই ডা. রবি আলমের তত্ত্বাবধানে তাঁর শবদেহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত ২০ আগস্ট ঢাকার ধুপখোলা মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেলকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়। এ সময় বিউগলে করুন সুর বেজে ওঠে এবং অস্ত্র নামিয়ে তাঁর প্রতি শেষ সম্মান জানানো হয়। এ সময় ধুপখোলা মাঠ লোকে লোকারন্য হয়ে যায়।
পুরাতন ঢাকার নারিন্দায় জন্ম গ্রহন করেন সাইদুর রহমান প্যাটেল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। কোনো কোনো দিনে ২/৩ বারও তিনি ৩২ নম্বর মুজিব ভবনে যেতেন। ৭ মার্চের ভাষণের পরে তিনি দিক-নির্দেশনা পেয়ে যান কি করতে হবে। ১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাসায় একদিন প্যাটেল সাহেবকে বঙ্গবন্ধু ঘরের এক কোনায় ডেকে নিয়ে চুপেচুপে ডেকে বলেন ‘‘তোদের এলাকার সব সিভিল বন্দুকগুলো নিয়ে নিবি। বঙ্গবন্ধু হুশিয়ার করে দেন কারো উপর কোনো প্রকার জোর জবরদস্তি করবিনা।’ মৃত্যুরকয়েক মাস আগে এই প্রতিবেদকের সাথে এক একান্ত সাক্ষাতকাওে সাইদুর রহমান প্যাটেল এই কথাগুলো বলেছেন। তিনি বলেন, তার বাবার বন্দুকটি বাবাকে না জানিয়েই প্রথমে তারা অস্র সংগ্রহ শুরু করেন। এরপর এক প্রকার বিনা বাধায় সুত্রাপুর থানার সমস্ত অস্ত্র লুট করেন। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলার এক গোপন অস্তানায় মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেন। এক সময় কুমিল্লা হয়ে আগরতলা চলে যান। সেখান থেকে কলকাতা যান। সেখানে গিয়ে আরেকজনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাজঊদ্দিন সাহেবের সাথে সাক্ষাত করেন এবং একটি ফুটবল টিম গঠন করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন ও প্রীতি ফুটবল খেলা থেকে অর্জিত টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই প্রস্তাবে তাৎক্ষনিক রাজী হন। এবং এই দল গঠনের খরচ বাবদ ৮ হাজার রুপি অনুদান দেন। এরপর শুধু সামনে এগিয়ে চলা। প্রথম খেলাটি নদীয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় । ২/২ গোলে ড্র হয়। এরপর আরো কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর অনুযায়ী তারা সরকাকে ৫ লাখ রুপি দিয়েছেন বলে তিনি অস্বকীর করে বলেন, খেলার আয় থেকে তারা সরকারকে ১৬ লাখ রুপি দিয়েছিলেন। শুধু ফুটবল নয়, তিনি নৌকা বাইচ, ডুব প্রতিযোগীতারও আয়োজন করে প্রচুর টাকা যোগার করেন। এরপর ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর নিজেকে সব কিছু থেকে গুটিয়ে নেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার