Advertisement Placeholder

বিচারের জন্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া উচিত : সাবেক বিচারপতি সিনহা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   রবিবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৮৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিচারের জন্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া উচিত : সাবেক বিচারপতি সিনহা

বাংলাদেশের প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তথা এস কে রায় (৭৩) কানাডায় নির্বাসিত জীবন ছেড়ে মাতৃভূমিতে ফিরতে চান। তবে এজন্যে দরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশে ফিরে তিনি বাকিটা জীবন বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ নিয়ে কোন জটিলতা সৃষ্টি হলে তার ব্যাখ্যা অথবা বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা সমাধানে সহযোগিতা করতে চান। সরকার তাকে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করতে চাইলে বিনা বাক্যব্যয়ে সহযোগিতা দিয়ে যাবেন বলেও বাংলাদেশ প্রতিদিনকে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে উল্লেখ করেন। যেসব কারণে তাকে অপদস্ত হতে হয়েছে এবং চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে অপমানজনকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে-সে সব নিয়ে পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তবে তিনি শেখ হাসিনার বিচার চেয়েছেন। আর এই বিচারের মুখোমুখী করতে ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নিয়ে যাবার পরামর্শও দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একুশতম প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাকে নিয়োগ করা হয় ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। পচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার মামলার বিচারে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেন এস কে সিনহা। বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম এবং ত্রয়োদশতম সংশোধনীর পক্ষে ঐতিহাসিক রায়ও প্রদান করেন এস কে সিনহা। তবে শেখ হাসিনার বিরাগভাজন হয়েছেন ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করায়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এই সংশোধনী পাস হয়। জাতীয় সংসদকে ক্ষমতা দেয়া হয় কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেই বিচারপতিকে অপসারণের। এই সংশোধনীকে বেআইনী এবং অসাংবিধানিক হিসেবে রায় দেয় হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ২০১৬ সালের ৫ মে। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি সরকার আপিলেট ডিভিশনে দরখাস্ত করে। এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ একই বছরের ৩ জুলাই সরকারের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাই কোর্ট প্রদত্ত রায়কে বহাল ঘোষণা করেণ। ১ আগস্ট রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সিনিয়র মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে এস কে সিনহার কঠোর সমালোচনা করেন।

সুপ্রিম কোর্টের ঐ রায়কে নাকচ করে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে একইবছরের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে একটি রেজ্যুলেশন পাস করা হয়। সে সময় এস কে সিনহা একমাসের ছুটি নেন এবং ১৩ অক্টোবর অষ্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। বিচারপতি সিনহার অনুপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেয়া হয় বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়াকে। এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমে জানান যে, ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্যে বিচারপতি সিনহা অষ্ট্রেলিয়া গেছেন। এ তথ্য অস্বীকার করেন বিচারপতি সিনহা। সে সময় বিএনপি অভিযোগ করেছিল যে, বিচারপতি সিনহাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এমনি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে অনেক নাটকিয়তা শেষে বিচারপতি সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে এসাইলাম মঞ্জুর না হওয়ায় সিনহা কানাডায় গমন করেন এবং সেখানে তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রার্থনা মঞ্জুর হয়। সিলেটের সন্তান সিনহা সেই থেকে কানাডার টরন্টোতে বাস করছেন। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করা ব্যতিত খুব একটা জনসমক্ষে আসেননি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর সাবেক এই বিচারপতি প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে যাবার আকুতি প্রকাশ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট নিউইয়র্ক থেকে টেলিফোনে বিচারপতি এস কে সিনহার এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়। এখানে তা প্রশোত্তর আকারে উপস্থাপন করা হলো।

প্রশ্ন : পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিছু বলবেন কি?
উত্তর : এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেক আগেই আঁচ করেছিলাম। বিভিন্ন বক্তব্যেও বলেছিলাম যে, শেখ হাসিনার পতন যে কোন মুহূর্তে। আজ হবে, কাল হবে, নাকি এক বছর পর হবে, তার পতন হবেই। কারণ হলো একটি স্বৈরশাসক একটি দেশকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে চালিয়ে যেতে পারে না। তা হলে ইতিহাস ভুল হয়ে যাবে। আমার আভাস সঠিক ছিল।

প্রশ্ন : আপনার আভাসের বাস্তবায়ন ঘটায় এখোন আপনার কেমন লাগছে?

উত্তর : আমার আভাসের প্রতিফলন ঘটেছে জেনে খুশী হলাম। তবে আমি মনে করি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অনেক বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আছেন, প্রফেসর ইউনূস খুব একজন ভালো মানুষ সবদিক দিয়েই, তাই তাঁরা ভালো করবে। এদের চাওয়া পাওয়া কিছুই নেই। একটি জিনিষ হলো, আপনার যদি কোন প্রত্যাশা না থাকে, অর্থাৎ আমি কাজ করলাম বিনিময়ে কী পাবো, এটা যদি না থাকে যে কোন নেতার, তাহলে দেশের মঙ্গল হবেই। আমি একটি উদাহরন দিতে পারি মহাত্মা গান্ধীর। উনি রাজনীতি করেছেন এতো অত্যাচার, জোর-জুলুম সহ্য করে, উনি কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিছুই প্রত্যাশা করেননি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এতো বেশী জনসংখ্যা, এতো ভাষা-ভাষী, জাতপাত হওয়া সত্বেও এখনো গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে বলেই দেশটি টিকে আছে। আমি আশা করি আমার দেশের এডভাইজার যারা আছেন, বিশেষ করে যারা সিনিয়র, তারা নিজেদের ব্যক্তিগত কোন প্রত্যাশা করেন না, তারা দেশের ভালো চাচ্ছেন, জনগণের ভালো হউক-এটাই প্রত্যাশা করছেন; এর চেয়েও ভালো প্রত্যাশা করছেন তারা যাতে একনায়কতন্ত্র দেশটিকে দুর্ভিক্ষে নিপতিত করেছে, ব্যাংকগুলোকে লুটে নিয়ে অর্থনৈতিক সেক্টরে কঠিন একটি সংকট এনে দিয়েছে, লুটের এই টাকাগুলো উদ্ধারের পরিকল্পনা করে এবং দুর্নীতিবাজদের যদি সাজা দিতে পারে, আরেকটি বিষয় হলো আইনের শাসন কায়েম করা। এটা খুবই কঠিন। আইনের শাসন কায়েম করা খুব কঠিন। আইনের শাসনের জন্যে নিজেকে নিজের আয়নায় দেখতে হবে, তাদেরও চেহারা সে আয়নায় দেখতে হবে। তবে অবশ্যই আইনের শাসন একদিনে হয় না। সময় লাগে, প্র্যাকটিস লাগে। আইনের শাসন কায়েম হলে গণতন্ত্র অটোম্যাটিকেলি চলে আসবে। কথা হলো, যারা গণতন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন তাদেরকে আইন মোতাবেক চলতে হবে। যদি গণতান্ত্রিক চর্চা ঠিক মত হয় তাহলে মানুষের যে অধিকার, অধিকারবোধ-এটা জেগে উঠে। মানুষের অধিকার বোধ যদি জাগে তাহলে কে অন্যায় করছে তারা তার প্রতিবাদ করবেই। এভাবে প্রতিবাদ জোরালো হলেই আইনের শাসন কায়েম হবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি একটির সাথে আরেকটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ইংরেজীতে বলে ভাইস ভার্সা।

প্রশ্ন : অধিকারবোধ হচ্ছে গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত?

উত্তর : অবশ্যই। অফিস-আদালতে ঘুষ গ্রহণের প্রবণতা, এটা কী আমেরিকার মত উন্নত দেশে সম্ভব? যদি কেউ ঘুষ চায় তাহলে নির্ঘাত তাকে জেলে যেতে হয়। একজন নাগরিকের প্রত্যাশা রাষ্ট্রের প্রতি। এটা থাকতে হবে এবং গণতন্ত্রের চর্চাও থাকতে হবে।

প্রশ্ন : যে কারণে আপনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, এখোন ফিরে গিয়ে সে সব ব্যাপারে কিছু কি করতে চান? আইনগত কোন পদক্ষেপ?

উত্তর : আমার আসলে কোন কিছুই করার আকাঙ্খা-আশা নেই। দেশে গেলে হয়তো এটুকু করতে হবে-দেশে মেধার বড় অভাব। আইনের শাসনের ক্ষেত্রে অনেক ত্রুটি আছে। আমি এখানে থাকলেও অনেকে বাংলাদেশ থেকে টেলিফোন করেন, এখানকার সচেতন মানুষেরাও জানতে চান, আমেরিকা থেকেও নানা বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। এটুকু আমি প্রত্যাশা করি যে, কিছু লোক উপকৃত হবে। অনেকদিন আগে থেকেই বিচারকগণ আমার কাছে আসতেন, আলাপ-আলোচনা করতেন উদ্ভূত কোনো পরিস্থিতি অথবা আইনের জটিলতা সম্পর্কে। আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে অথবা ভুল ধারণা থাকলে সেটি আমি ভেঙ্গে দিতে পারবো। আইনজীবীরা যদি আসেন কমপ্লিকেটেড ম্যাটার নিয়ে, আমি তাদেরকে এডভাইস দিতে পারবো। দেশে ফেরার পর এ ধরনের একটি ব্যবস্থা করা হলে আমারও সময় কেটে যাবে, জনগণও উপকৃত হবে।
প্রশ্ন : এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে সিস্টেমটা কী হবে বলে আপনি মনে করছেন?

উত্তর : কোন মামলার ব্যাপারে সরকার যদি আমার মতামত চায় তাহলে আমি সেটি দিতে পারবো। তা করতে আমি প্রস্তুত আছি।

প্রশ্ন : কবে নাগাদ ফিরতে চাচ্ছেন?

উত্তর : কবে নাগাদ সরকার আমার সিকিউরিটি দেবে, আমার ফ্যামিলির নিরাপত্তার প্রশ্ন। আমার স্ত্রীর সিকিউরিটির প্রশ্ন। সিকিউরিটির ব্যাপারে নিশ্চয়তা পেলেই আমি চলে যাবো।

প্রশ্ন : দেশে কী স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেনি?

উত্তর : স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি এখোন পর্যন্ত। গভর্নমেন্ট এখনো, পুলিশ ফোর্স বা অন্য ফোর্সগুলো, বিশেষ করে পুলিশ ফোর্স পুরোপুরি কন্ট্রোল নিতে পারেনি। পুলিশ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারলেই স্বাভাবিক অবস্থা আসবে, তখোন অবশ্যই আমি ফিরবো। সাথে সিকিউরিটির প্রসঙ্গটিও রয়েছে। ৩/৪দিন আগে শুনলাম যে, মিলিটারির পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি একজন ব্যবসায়ীকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এটা তো খুব খারাপ জিনিষ। বাংলাদেশে এই যে খারাপ প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে, তা দূর করতে হবে। সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে হবে প্রত্যেকটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার।

প্রশ্ন : দেশ থেকে আপনাকে জোরপূর্বক বিতাড়ন করা, চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিরুদ্ধে কি আইনগতম কোন পদক্ষেপ নেবেন?

উত্তর : শুনেন, আমার ব্যক্তিগত কোনো ক্রুধ, অনুরাগ, বিরাগের চেয়ে আমি দেশে এমন কোনো অন্যায় যাতে না হয় সেদিকেই জোর দিচ্ছি। এর চেয়ে বড় জিনিষ হলো শেখ হাসিনা হত্যা করেছে, শেখ হাসিনা লুট করেছে, শেখ হাসিনা ডাইরেক্টলি না করলেও তার লোকজন লুট করেছে, সে সময় সে ( শেখ হাসিনা) চোখ বন্ধ করে ছিল, তাই তাকেই চুরির সে দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ সকলেই তার লোক। কেউ ব্যাংকের ডাইরেক্টর হওয়া, চেয়ারম্যান হওয়া, ব্যাংক থেকে বড় অংকের লোন শেখ হাসিনার অনুমতি ছাড়া কেউ পাননি। যার পরিপ্রেক্ষিতে সবকিছুর দায়িত্ব শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে। এবং আইন এখানে পরিস্কার-হত্যা এবং লুটতরাজের দায় শেখ হাসিনাকে নিতে হবে। টিভির টক শো-তে একজন অতিথি গতকাল (শুক্রবার) বলেছেন যে, গুম-অপহরণের বিচারের কোনো আইন নেই। শুনে আমি হাসলাম। প্রকৃত সত্য হচ্ছে আইন আছে। আর সে আইনের প্রয়োগ কীভাবে করতে হয় সেটি না জানার দায় তাদেরই। দেশের প্রচলিত আইনেই সবগুলো গুম-অপহরনের বিচার সম্ভব। এবং আশা করি সংশ্লিষ্টরা তা করবেন।

প্রশ্ন : শেখ হাসিনা আর কতদিন ভারতে থাকতে পারবেন? আপনার কী ধারণা? ভারত কী তাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেবে?

উত্তর : এটা উভয় দেশের সরকার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবেন অন্তবর্তী সরকার কীভাবে তাকে ফিরিয়ে আনবে। তবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেহেতু হত্যা মামলা হয়েছে, তাই অপরাধের বিচারের স্বার্থেই তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেয়া উচিত। শেখ হাসিনার মত একজন নেত্রী এতো প্রতাপশালী ছিল, সে পালিয়ে যাবে এটা আমার চিন্তার মধ্যে ছিল না। তার হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ কর্মী ছিল, দেশপ্রেম ছিল বলে দাবি করেছেন, তাহলে দেশপ্রেম থাকলে কি কেউ পালিয়ে যায়? তার তো ফেস করা উচিত ছিল। কারণ, সে দুর্নীতিবাজ ছিল, আইনকে শ্রদ্ধা করতো না, গুরুতর অপরাধ করেছে বলেই সে পালিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বড় বড় বুলি আউড়েছে তার সবগুলো ছিল মিথ্যা। এগুলো সে বিশ্বাস করতো না। তাই সরকারের উচিত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে ভারত সরকারকে জানানো যে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতির অনেক মামলা রয়েছে, তাই তাকে প্রত্যার্পণ করো।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর এখনো নির্যাতন চলছে বলে শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

উত্তর : আইন শৃঙ্খলার অবনতি হলে যা হবার তাই হয়। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা অনেক আগে থেকেই ঘটছে। স্বাধীনতার পর মোট জনসংখ্যার ১৭% ছিল সংখ্যালঘু। এখন তা ৪% অথবা ৫% এ নেমে এসেছে। বাংলাদেশ যদি নিরাপত্তা দিতো অর্থাৎ আক্রমণকারিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতো তাহলে সংখ্যালঘুরা দেশ ত্যাগ করতো না। এমন অত্যাচার কখনোই কাম্য নয়। আমি মনে করি অপরাধীরা যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেত, তাহলে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু হীন হয়ে পড়ার মত অবস্থা দেখতো না। আমি মনে করি, হিন্দু কম্যুনিটি চোখ বন্ধ করে আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট দিয়েছে। দুয়েকজন ছাড়া কেউই অন্য কোন দলকে সাপোর্ট দেয়নি। যারা এতো অন্যায় করলো তাকেও (আওয়ামী লীগকে) দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দেয়া, কেন? অথচ আওয়ামী লীগ আমলে যতগুলো আক্রমণ, নির্যাতনের ঘটনা হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘটেছে, একটিরও বিচার হয়নি। এতো অন্যায়-অবিচার সত্বেও শেখ হাসিনার প্রতি হিন্দুরা অবিচল আস্থা শীল ছিল বলেই অন্য দলের লোকজনের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের হিন্দুরা।

প্রশ্ন : আপনার শারিরীক অবস্থা কেমন? এতদিন হলো কানাডায় রয়েছেন, কীভাবে কাটছে সময়?

উত্তর : মোটামুটি ভালো। লেখাপড়া করেই সময় কাটছে। আরেকটি বই লিখেছি। শীঘ্রই প্রকাশ করবো প্রথমে ইংরেজীতে। পরবর্তীতে ভালো কোন অনুবাদক পেলে বাংলাতেও প্রকাশের ইচ্ছা আছে। এত ত্যাগের পরও কেন আমাদের দেশে গণতন্ত্রের চর্চা হয় না। কেন আইনের শাসন বারবার মুখ থুবড়ে পড়ে। এসব নিয়ে গবেষণামূলক লেখা। কোথায় সমস্যা, কীভাবে ওভারকাম করা যায়, ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা থাকবে। এটি নতুন প্রজন্মের জন্যে পাথেয় হয়ে থাকবে।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার