
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিতর্কের মঞ্চে উঠেই দিপ্ত প্রত্যয়ে হেঁটে গিয়ে ট্রাম্পের সাথে করমর্দন করলেন কমলা হ্যারিস। ছবি-সংগ্রহ।
নিজে এগিয়ে গিয়ে স্বতস্ফ’র্তভাবে ট্রাম্পের সাথে করমর্দন করে বিতর্ক শুরুর দৃশ্যপট পাল্টে দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস আমেরিকানদের সমর্থনের ক্ষেত্রে আরেকধাপ এগিয়ে গেলেন। রিপাবলিকান তথা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ফক্স টিভি-সহ শীর্ষস্থানীয় সবগুলো মিডিয়াই মঙ্গলবার রাতে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ৯৫ মিনিটের এই বিতর্কে কমলা হ্যারিস জিতেছেন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
আর মধ্যদিয়ে ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিস তার বিজয়ের পথ আরেক দফা সুগম করলেন বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। তবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের চেয়ে অনেকটা সংযত থাকার চেষ্টা করেছেন কমলা তথা প্রতিপক্ষকে আক্রমণের ক্ষেত্রে। যদিও গতানুগতিক মিথ্যাচার এবং সত্যকে অস্বীকারের প্রবণতা থেকে নিজেকে বিরত রাখার ন্যূনতম চেষ্টা ট্রাম্পের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি বলে আমেরিকান ভোটারেরা মনে করছেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি লেলিয়ে দেয়ার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা আবারো অস্বীকার করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হবার কথাও স্বীকার করলেন না। বললেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে গাজায় যুদ্ধ শুরুই হতো না। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো উল্লেখ করলেন যে, কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট হলে দু’বছরের মধ্যেই বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব মুছে যাবে। কারণ, কমলা ইসরায়েলকে ঘৃণা করেন। অপরদিকে, কমলা বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে তা করতে হবে। গাজার পুনর্গঠনের জন্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে নিজের অবস্থান জানান কমলা।
উল্লেখ্য, এ অনুষ্ঠানেই ট্রাম্পের সঙ্গে হ্যারিসের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হয় এবং হ্যারিস এগিয়ে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেন। বিতর্কে স্বভাবসুলভাবে আক্রমণাত্মক রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ট্রাম্পকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেন সাবেক আইনজীবী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস।
বিতর্কের শুরু থেকেই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনের মতো শরীরিক সামর্থ্য তার আছে কি না, তার অগণিত আইনি সমস্যা ও গর্ভপাতের সীমা নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন হ্যারিস। অপ্রত্যাশিত এ আক্রমণের মুখে রক্ষণাত্মক অবস্থানে গিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যান ট্রাম্প।
বিভিন্ন জনমত জরিপগুলোতে হোয়াইট হাউজের দৌড়ে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ মুখোমুখি বিতর্ক একটি প্রচার পরিবর্তনকারী মুহূর্ত ছিল। এই সুযোগকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টায় উভয় প্রার্থীই জোরালোভাবে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সাবেক আইনজীবী ও ইউএস সিনেটর হ্যারিস (৫৯) বারবার ট্রাম্পকে বিরক্ত করে তাকে মিথ্যা ভরা জবাব দিতে প্ররোচিত করেছেন, আর তাতে ট্রাম্প (৭৮) দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে হ্যারিস বলেন, লোকজন ‘একঘেয়েমিতে ভুগে ক্লান্ত হয়ে’ আগেভাগেই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশগুলো ছেড়ে চলে যায়। ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে উঁচু গলায় এর জবাব দেন। হ্যারিসের জনসভাগুলোতে উপস্থিত লোকজনের পরিমাণ দেখে হতাশ হয়ে ওঠা ট্রাম্প এসময় বলেন, “আমাদের জনসমাবেশগুলো, আমাদের জনসমাবেশগুলোই সবচেয়ে বড়, রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য সব সমাবেশ।”
“আবারও সীমা ছাড়া (মিথ্যাচার) কথাবার্তা,” উত্তরে হাসতে হাসতে বলেন হ্যারিস।
দুই প্রার্থী অভিবাসন, পররাষ্ট্র নীতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিতর্কে জড়ান; কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিগত বিবরণের গভীরে কেউই প্রবেশ করেননি। হ্যারিসের আক্রমণাত্মক ধরন ট্রাম্পকে চাপে রাখতে সফল হয়।
হ্যারিসকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে বর্ণবাদী ও লিঙ্গবাদী আক্রমণের মতো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে আসা ট্রাম্প বিতর্কের প্রথম দিকে এ ধরনের অপমান করা থেকে অনেকটা বিরত ছিলেন, কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে হ্যারিসের আক্রমণের মুখে তিনি ততই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন।
এরই এক পর্যায়ে তিনি প্রতিপক্ষের বর্ণ নিয়ে মন্তব্য করলে জবাবে হ্যারিস বলেন, “এটি একটি শোচনীয় ঘটনা যে আমাদের একজন যিনি প্রেসিডেন্ট হতে চান তিনি তার পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে মার্কিন জনগণকে জাতিগতভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।”
একজন পর্ণ তারকাকে গোপনে অর্থ প্রদান নিয়ে অপরাধী সাব্যস্ত হওয়া, তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন হ্যারিস। জবাবে ট্রাম্প কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করার জন্য ফের হ্যারিস ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে অভিযুক্ত করেন।
প্রতারণার কারণে ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন বলে ফের মিথ্যা দাবি করেন ট্রাম্প। হ্যারিসকে ‘মার্কসবাদী’ বলে অভিহিত করেন এবং অভিবাসীরা সহিংস অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে বলে মিথ্যা দাবি করেন ট্রাম্প।
৫ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আট সপ্তাহ আগে ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ৯০ মিনিটের এ বিতর্ক পেনসিলভেনিয়া স্টেটের ফিলাডেলফিয়া সিটিতে ন্যাশনাল কন্সটিটিউশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এবং টেলিভিশনে তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক কোটি ভোটার। তার সঞ্চালনায় ছিলেন আয়োজক এবিসি টিভির সাংবাদিক ডেভিড মুইর এবং লিন্সে ডেভিস। সঞ্চালকেরা কমলার পক্ষ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক কংগ্রেসওম্যান তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’এ লিখেছেন, এটি মূলত: তিন জন বনাম একজন’র বিতর্ক ছিল। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের সাথে কমলার এটি ছিল প্রথম বিতর্ক। নির্বাচনের আগে দু’জনের মধ্যে আর কোন বিতর্ক হবে বলে এখোন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করেনি।
গত নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে বলে ট্রাম্পের দাবিকে আমলে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্রে কোন আদালতই। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন যে, বিচারকেরা পক্ষপাত দুষ্ট ছিলেন। তারা তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেননি। এমনকি, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন কোর্টে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার ব্যাপারটিও ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতা বলে মন্তব্য করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমলা হ্যারিস বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এমন একজন প্রেসিডেন্ট দেখতে চাই যিনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোটারদের ইচ্ছাকে স্বাগত জানাবেন, ট্রাম্পের মত অবজ্ঞা করবেন না। ট্রাম্প নিজে হুংকার দিয়ে ইতিপূর্বে বলেছেন যে, জয়ী হলে ক্ষমতার প্রথম দিন তিনি ‘স্বৈরশাসক’ হবেন অর্থাৎ আমেরিকার সংবিধানের পরিপন্থি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এভাবে টাম্প তার অতীতের গোয়ার্তুমিকে সামনে আনার হুমকি দিয়ে মূলত: আমেরিকার সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সাথে তামশা করার চেষ্টা করেছেন। এমন মানুষকে আমেরিকার ভোটারেরা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে বলে বিতর্কের পর অনেকে মন্তব্য করেছেন। কমলা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প নিজের স্বার্থের বাইরে কিছু করেন না এবং করার ইচ্ছাও নেই। অপরদিকে, ট্রাম্প বলেছেন যে, কমলার নিজের কোন কিছু করার পরিকল্পনা নেই। নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে পড়া জো বাইডেনের ছায়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন কমলা-যা অনেক আগেই আমেরিকানরা প্রত্যাখান করেছেন।
গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কমলা ও ট্রাম্প নিজের পরিকল্পনার কথা জানান। ট্রাম্প এ সময় মিথ্যাচারের আ্শ্রয় নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে আসার কথা বলার চেষ্টা করেন। এমনকি ডেমক্র্যাটরাও গর্ভপাতের পক্ষে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে কতটা সক্ষম হয়েছেন তা ব্যালট গণনার পরই অনুধাবন করা সম্ভব হবে বলে টিভি দর্শকদের বড় একটি অংশ মন্তব্য করেছেন। নির্জলা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে ট্রাম্প ডেমক্র্যাটদের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বেআইনীভাবে আগতরা এখোন আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। ওহাইয়োতে অবৈধ অভিবাসীরা আমেরিকানদের পোষা-পাখী খাচ্ছে। স্প্রিং ফিল্ডে বসবাসরতরা কুকুর-বিড়ালের মাংসও খাচ্ছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। এসময় সঞ্চালক ডেভিড মুইর ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তার এমন দাবি আদৌ সত্য নয়, বিশ্বাসযোগ্য নয়। কমলা বলেছেন যে, মানবিকতাসম্পন্ন একটি নীীতর ভিত্তিতে অভিবাসনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে যাবো-যা ছিল বাইডেনের নীতি। শুরুতেই কমলা মাঝারি ও স্বল্প আয়ের আমেরিকানদের কল্যাণে নিজের পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দেন। চিকিৎসা-ব্যবস্থা তথা হেল্থ ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে কমলা তার অবস্থান উপস্থাপন করলেও ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। বিতর্কে স্থান পায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আফগানিস্তান পরিস্থিতিসহ অর্থনীতি-বেকারত্ব। কমলা জানান, ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ ত্যাগের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অথনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। সে সময় ১৬ জন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। ট্রাম্প গরিব আমেরিকানদের চেয়ে ধনাড্যদের স্বার্থকে এখনো প্রাধান্য দিচ্ছেন। ধনকুবের কর্পোরেশনগুলোর করছাড় দেবেন ট্রাম্প-অভিযোগ কমলার। কমলা বলেছেন যে, ইতিমধ্যেই তিনি মাঝারি আয়ের মানুষকে বাড়ি ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করতে ২৫ হাজার ডলার করে অনুদান দেয়ার অঙ্গিকার করেছেন। যারা নতুন পারিবারিক জীবন শুরু করেছেন তাদের জন্যেও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। অপরদিকে, ভিনদেশের পণ্য আমদানির ওপর শুল্ককর বাড়ানোর কথা বলেছেন ট্রাম্প। সেই অর্থে তিনি আমেরিকানদের ট্যাক্স কমাবেন বলে উল্লেখ করেন। চীনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন চীনের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের শুল্ক এনেছেন। এমনকি ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়ার পরও ট্যাক্সের সে ধারা অব্যাহত ছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রসঙ্গে কমলা বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি লংঘন করেছে রাশিয়া। আমরা যদি ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থা না নিতাম তাহলে পুতিন কিয়েভে বসে ইউরোপের বাকি অংশের ওপর লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন। পুতিন একজন স্বৈরশাসক। তিনি সহজেই তাকে (ট্রাম্প) কব্জা করতে পারবেন। যুদ্ধে ইউক্রেনের বিজয় দেখতে চান কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি চাই এ যুদ্ধ বন্ধ হোক। ট্রাম্প আরো বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ইউরোপ অনেক কম অর্থ প্রদান করছে।
শেষ অংশে ট্রাম্প বলেন, বাইডেন ও কমলা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট। অপরদিকে কমলা বলেন, ট্রাম্প খুব সহজেই বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হন। তাকে (ট্রাম্প) নিয়ে বিশ্ব নেতারা হাসাহাসি করেন।
সঞ্চালক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেন, দেশপ্রেম লালন করে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। পরে কিছু বলেননি। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, আমার বক্তব্যে সহিংসতার কোন আহবান ছিল না। বরঞ্চ ক্যাপিটল হিলে কোন বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় হাউজের তৎকালিন স্পিকার ন্যান্সী পেলসীর দোষারোপ করেন ট্রাম্প।
বিতর্কে উভয় প্রার্থীই চেষ্টা করেন সিদ্ধান্তহীন ভোটারকে কাছে টানার। সে চেষ্টায় কে কতটা সফল হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বিতর্র্কের কয়েক ঘন্টা পর পর্যন্তও। তবে ফক্স টিভি, সিএনএন, এবিসি, সিএনবিসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিতর্কে জিতেছেন কমলা হ্যারিস এবং নির্বাচনের বৈতরণী পাড়ি দিতে বিতর্কে ট্রাম্পের মিথ্যাচার প্রকারান্তরে ডেমক্র্যাটদের এগিয়ে দিয়েছে। সিএনএন পরিচালিত জরিপে অংশগ্রহণকারিদের ৬৩% বলেছেন যে, বিতর্কে কমলা ভালো করেছেন। ট্রাম্পকে সাপোর্ট দিয়েছেন ৩৭%। জরিপে অংশ নেয়া ডেমক্র্যাট ভোটারের ৯৬% ভাবছেন যে, কমলা সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো প্রেসিডেন্ট হবার যোগ্যতা প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছেন।



