
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ‘তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা মন জানে না’ গানের সাথে ফ্যাশন শো-তে অংশ নিলেন বিভিন্ন দেশের তরুণী মডেলরা। ছিলেন বাংলাদেশী মডেল তারকা সারাহ আলমও। বহুজাতিক এ উৎসবে বাঙালি তরুণী রাইসা রফিকের ই-কমার্স ফ্যাশন হাউস ‘রায়ু’র ডিজাইনগুলোই দৃশ্যমান হয়েছে। গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই বিভিন্ন বর্ণ আর ভাষার মানুষের সম্মিলনে বর্ণাঢ্য এ উৎসবটি ছিল সবচেয়ে কম বয়েসী ডিজাইনার রাইসাকে ঘিরেই। আর তা ঝলসে উঠেছিল আনিকা রশিদের কণ্ঠে গানটি পুরো মিলনায়তনে ভিন্ন এক আমেজে আবিষ্ট করায়। এভাবেই ২০২৩ সালে ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেয়া রাইসা রফিক ইতিহাসে বিশেষ এক স্থানেও অধিষ্ঠিত হলেন। পরিচিতি পেলেন বাঙালি ডিজাইনার হিসেবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির মধ্যে অর্থাৎ ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘রায়ু’র জনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়েছে। ব্র্যান্ডটি তার স্বনির্ধারিত, কুট্যূর এবং রেডি-টু-ওয়্যার সিজনাল কালেকশনের জন্য পরিচিত, যা বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন শো-তে ব্যাপক আগ্রহের সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেই চাহিদার মধ্যদিয়েই রাইসা রফিক আজকের অবস্থানে উন্নীত হয়েছেন। চলতি ফ্যাশন উইকে তার প্রদর্শনীর জন্য রফিক দুটি স্বতন্ত্র কালেকশন উন্মোচন করেন: এর একটি হলো ‘গ্যাজ’ এবং অপরটি ‘ইচ্ছা’।

‘সিজল আর্টস’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ শো-তে রাইসা তার কালেকশনগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন: শো-এর জন্য দুটি কালেকশনের ‘গ্যাজ’ আমার পশ্চিমা অভিজ্ঞতাকে সম্মানিত করে, যেখানে রয়েছে সন্ধ্যাবেলার গাউন এবং পশ্চিমা বিবাহের পোশাক। অপরদিকে, ‘ইচ্ছা’ বাঙালি সংস্কৃতি এবং আমার শেকড়কে প্রকাশ করে, যেমন শাড়ি, সালওয়ার কামিজ এবং ঐতিহ্যবাহী সাদা এবং লাল রঙ-যা পহেলা বৈশাখকে প্রতিফলিত করে। এছাড়াও কাতান কাপড় এবং অন্যান্য বাঙালি ঐতিহ্যে ব্যবহৃত কাপড়গুলোকে আমি বেছে নিয়েছি বহুজাতিক সমাজে আমার সংস্কৃতিকে আরো জনপ্রিয়তা দিতে। আমি আশা করি এই শো-টি ফ্যাশনে বাঙালি সংস্কৃতির বৈশ্বিক পরিচিতি বাড়াবে। আমরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য আমাদের সেরাটা দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই।”

নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে এই আত্মপ্রকাশ শো-টি রায়ুর সাউন্ডস্পেস এবং ফ্যাশন সিজলের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। ফ্যাশন সিজল প্রোডাকশন প্রায় এক দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি অসাধারণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। সাউন্ডস্পেস ইন্টারন্যাশনাল, যা ওমর চৌধুরী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, তার উদ্ভাবনী পদ্ধতি এবং ফ্যাশন ও সঙ্গীতকে মেলানোর প্রতি প্রতিশ্রুতির জন্য সুপরিচিত।




