Advertisement Placeholder

ইউএস ‘ওয়েস্টার্ন’ ও সাউদার্ন’ কমিটি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি   |   শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৮৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইউএস ‘ওয়েস্টার্ন’ ও সাউদার্ন’ কমিটি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ

নভেম্বরের নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীগণকে বিজয়ী করে আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক কল্যাণে মার্কিন জনপ্রতিনিধিগণকে উদ্বুদ্ধ করার অভিপ্রায়ে আওয়ামী লীগের পশ্চিমাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতে বসবাসরত সভাপতি শেখ হাসিনা কর্তৃক এই দুই অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য হ্রাস করা হচ্ছে বলে শোনা গেছে। উল্লেখ্য, এক যুগ আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে স্টেট সমূহের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন শেখ হাসিনা-এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির মত শুধু স্টেট কমিটি নয়, শেখ হাসিনা চার অঞ্চলে ভাগ করে আওয়মী লীগের কমিটির পথে হাঁটছেন। সময়ের প্রয়োজনে এমন পদক্ষেপের সুফল কতটা আসবে তা নিয়ে রয়েছে আশংকা। যেমনটি দেখা যাচ্ছে বিএনপির ক্ষেত্রে।

স্টেট সমূহে কমিটি গঠিত হবার পর তিন বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো লবিং করতে সক্ষম হয়নি এসব কমিটি।
১৫টি স্টেটের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ‘পশ্চিমাঞ্চলীয় আওয়ামী লীগ’র সভাপতি হচ্ছেন রবি আলম (ক্যালিফোর্নিয়া) এবং সেক্রেটারি শফিকুল আলম বরকত (টেক্সাস)। তারা কমিটির অবশিষ্ট পদগুলো পূরণ করবেন। এই অঞ্চলের আওতায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ওকলাহোমা, কলোরাডো, ওয়াইওমিং, মন্টানা, আইডাহো, ওয়াশিংটন, ওরেগন, নেভাদা, ইউটাহ, আরিজোনা, নিউ মেক্সিকো, আলাস্কা এবং হাওয়াই স্টেট। পশ্চিমাঞ্চলীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অবিলম্বে উপরোক্ত ১৫ স্টেটের নতুন কমিটি গঠিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। তারা স্বাধীন স্বত্বা নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে বলেও সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন।

একইভাবে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান-সহ ১১ স্টেট নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় আওয়ামী লীগের কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। এর সভাপতি হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান (ফ্লোরিডা) এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক (জর্জিয়া)। এই অঞ্চলের আওতায় অপর স্টেটগুলো হচ্ছে টেনেসি, আলাবামা, সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা, কেন্টাকি, লুইঝিয়ানা, মিসিসিপি, আরকানসাস। এছাড়া দুটো ইউএস টেরিটরি ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ড এবং পর্টোরিকোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিটি স্টেট থেকে অন্তত একজন অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এ দুজনকে। এই আঞ্চলিক সংগঠন কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে সবাইকে নিয়ে কাজ করবে। এই এগারো স্টেটের আওয়ামী লীগের কমিটিসমূহ নতুন করে গঠন এবং পুনর্গঠনের দায়িত্ব এই কমিটির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

এরপর ওয়াশিংটন ডিসি, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যামশায়ারসহ ২২ স্টেটের সমন্বয়ে হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আওয়ামী লীগ। এর নেতৃত্বে কে আসবেন সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এমন নেতা প্রয়োজন যারা চাঁদাবাজি-ধান্দাবাজির আশেপাশে থাকবেন না, মিথ্যার বেসাতি করে দলকে বিব্রত করবেন না, এবং যাদের সিটিজেনশিপ স্ট্যাটাস থাকবে। কারণ, ইতিমধ্যেই দলীয় হাই কমান্ডের মুখে এমোন কয়েকজনের নাম উচ্চারিত হয়েছে যাদের মধ্যে অভিবাসনের মর্যাদাহীনরাও রয়েছেন। যারা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বাস করছেন তাদের পক্ষে মার্কিন রাজনীতি আর প্রশাসনে দেন-দরবার করা কতটা সম্ভব তা সংশ্লিষ্ট কারো অজানা নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না, নানাবিধ কারণে কোন ফেডারেল ভবনে প্রবেশাধিকার রহিত করা হয়েছে বৈধ কাগজপত্রহীনদের। তাহলে হোয়াইট হাউজ, ক্যাপিটল হিল কিংবা স্টেট ডিপার্টমেন্টে দেন-দরবার কীভাবে করবেন নন-সিটিজেনরা।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আরো বলাবলি করছেন, গত ১৫ বছরে এই প্রবাসেরও বেশ কিছু নেতা নানাভাবে মোটা অর্থ বানিয়েছেন বাংলাদেশে ব্যবসা-লাইসেন্স-পারমিট-বদলি বাণিজ্যের মধ্যদিয়ে। কেউ কেউ ব্যাংক-বীমার লাইসেন্সও পেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ গণভবনে এবং তার আশেপাশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও মোটা অংকের ডলার সহ পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাদের টিকিটিরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। আওয়ামী লীগের চরম এই দুঃসময়ে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে দেনদরবারের জন্যে প্রয়োজন মোটা অংকের অর্থ। সেটির জোগান কে দেবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে দুটি কর্মসূচি পালিত হয় ‘শেখ হাসিনাকে ষড়যন্ত্র করে ভারতে চলে যেতে বাধ্যকরার নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার’ দাবিতে।

উভয় কর্মসূচিতেই ছিল না ব্যানার। পুরনো কর্মসূচির ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছিলেন নেতা-কর্মীরা। এর আগে গত কয়েক বছর বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস, জাতীয় শোক দিবস ইত্যাদি উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতারা মিশন/কন্স্যুলেটের দেয়া ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে ছবিতে পোজ দিচ্ছেন। অথচ একটি ব্যনার অথবা ফুলের তোড়া তৈরী করতে একশত ডলারের মত ব্যয় হয়। এই অর্থও তারা ব্যয় করতে নারাজ।

শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ উপলক্ষে আলোচনা-সেমিনারের জন্যেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ঐ নেতারা (৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হবার আগে)) বেছে নিতেন জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজা অথবা নবান্ন রেস্টুরেন্টের বহিরাঙ্গনকে। কোন অডিটরিয়ামে করলে অর্থ ব্যয়ের ভয়ে তারা এমন ফটো-সেশনের আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের এই চরম সংকটে এমন ব্যক্তিবর্গকে নেতৃত্বে নেয়া প্রয়োজন-যারা ফটো সেশনের চেয়ে দেন-দরবারকে গুরুত্ব দেবেন-এমন প্রত্যাশা তৃণমূলের কর্মীদের।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার