
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সাহারা মরুভূমি এবং ভূমধ্যসাগরকে অভিবাসীদের গণকবরে পরিণত করার পথ রুদ্ধ করার জন্যে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে জাতিসংঘের দুটি সংস্থা সোমবার নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করেছে।
আইওএম (ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন) এবং ইউএনসিএইচআর (ইউএন হাই কমিশনার ফর রিফ্যুজি) এর শীর্ষ কর্মকর্তা প্যার লিলজার্ট নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, এমন ট্র্যাজেডি বেঁচে থাকার মাত্রা পরিবার ও সম্প্রদায়ের উপর নিদারুণ প্রভাব ফেলেছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেয়ার সময় পানিতে ডুবে অথবা গভীর জঙ্গল অতিক্রমের সময় হিংস্র প্রাণীর কবলে পড়ে মৃত্যুবরণের ঘটনা অসহনীয় এক মানবিক সংকট তৈরী করছে।
দারিদ্র-পীড়িত এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত অঞ্চল থেকে ইউরোপের তুলনামূলকভাবে ধনী ও শান্তিপূর্ণ দেশসমূহে পাড়ি জমাতে সবচেয়ে মারাত্মক দুটি রুটের প্রতি ইঙ্গিত করে আইওএমের পরিচালক নিরাপত্তা পরিষদকে আরও জানান, গত বছর সাহারা মরুভূমি এবং ভূমধ্যসাগরে সবচেয়ে বেশী রিফ্যুজি এবং অভিবাসীর মুত্যু হয়েছে। সে সংখ্যা ৮৫৪২। ২০১৪ সাল থেকে এমন মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণের নথি অনুযায়ী গত বছরটি ছিল ভয়ংকর। এবং ৮৫৪২ জনের মধ্যে ৩৭% মারা গেছে ভূমধ্যসাগরে-যার উল্লেখযোগ্য একটি সংখ্যায় বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।
উদ্বেগজনক এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থা এবং ইউএনসিএইচআরের পরিচালক শিভাঙ্কা ধানপালা নিরাপত্তা পরিষদকে আরও জানান, সমুদ্র এবং স্থলপথে প্রাণ হারানোর নিদারুন পরিস্থিতির কোন শেষ দেখা যাচ্ছে না। অধিকন্তু বিশ্ব পরিস্থিতি যত টালমাটাল হচ্ছে, ততোই নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় অন্যদেশে পাড়ি জমানোর সময় মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। শিভাঙ্কা আরও বলেন, উত্তর আফ্রিকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে এ বছরের ৯ মাসে সাড়ে তিন লাখ মানুষ অন্যদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছে-যার বড় একটি অংশ হচ্ছেন সুদানী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিজ দেশ ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর সময় এক লাখ ৩৪ হাজার আফ্রিকান সমুদ্র পথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তারা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অসহনীয় পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
এদিকে, আইওএমের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাহারা মরুভূমি এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার সময় ৪৪৫০ অভিবাসী মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪% কম বলে আইওএম উল্লেখ করেছে।



