Advertisement Placeholder
গবেষণার তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে ৮৫ বছরে হারিকেন-জলোচ্ছ্বাসে অন্তত ৩৬ লাখ মানুষের মৃত্যু!

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৫৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রে ৮৫ বছরে হারিকেন-জলোচ্ছ্বাসে অন্তত ৩৬ লাখ মানুষের মৃত্যু!

হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ স্টেটে ১৬২ জনের প্রাণহানীর তথ্য নিশ্চিত করেছে ফেডারেল ও স্থানীয় প্রশাসন। দুর্গত এলাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিপূর্ণভাবে স্থাপিত হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে উদ্ধারকারীরা ধারণা করছেন।

কারণ, এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া দফতর, দমকল ও নৌবাহিনী ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে রেডক্রস এবং অন্যান্য সেবাদানকারী সংস্থা অকুস্থলে কাজ করছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও প্রতি বছরের হারিকেনের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত কম্যুনিটিকে গ্রাস করে-যা অনেকে অনুধাবনে সক্ষম হয় না বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

গবেষকরা বৃহস্প্রতিবার গণমাধ্যমে পিলে চমকানোর মত তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন, হারিকেন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির জের বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়-ক্ষতি বিশেষ করে হতাহতের যে সংখ্যা বা তালিকা প্রকাশ করা হয় সেটি যথার্থ নয়। সর্বশেষ এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সেই গবেষণা টিমের প্রধান ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কলের অধ্যাপক রাচেল ইয়ং ২ অক্টোবর বলেছেন, ১৯৩০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৮৫ বছরে আটলান্টিক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসমূহে আঘাতকারী ৫০১টি ঘূর্ণিঝড়/জলোচ্ছাসের পরবর্তী সময়ের (এসব অঞ্চলের) পরিবেশ-পরিস্থিতি গবেষণা/গভীর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে, গড়ে একেকটি হারিকেনের কারণে ৭ হাজার থেকে ১১ হাজার পর্যন্ত মানুষের প্রাণহানী ঘটছে। উপরোক্ত ৮৫ বছরে সে সংখ্যা কমপক্ষে ৩৬ লাখ এবং সর্বোচ্চ ৫২ লাখের মধ্যে।

এই গবেষণা টিমের অপর সদস্য স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ-সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সলোমন হ্যাসিয়েং বলেছেন, এমন পরিস্থিতির ভিকটিমের ২৫% হচ্ছে নবজাতক এবং ১ বছর থেকে ৪৪ বছরের মধ্যেকার জনসংখ্যার ১৫%। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এভাবে মৃত্যুর মিছিল বাড়তে থাকে কিন্তু স্বাভাবিক দৃষ্টিতে কেউই বিবেচনায় আনতে চান না যে, ভয়ংকর ঘুণিঝড়/জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবেই বিরাট এই জনগোষ্ঠি বলি হয়েছে।

ড. হ্যাসিয়াং বলেন, এসব মৃত্যু যে ঐসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেই ঘটেছে তা এখনও প্রমাণিত সত্য। গবেষকরা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে ডায়াকেটিস, আত্মহত্যা, নবজাতকের মৃত্যু ছাড়াও হৃদরোগে আক্রান্ত এমনকি ক্যান্সারের বিস্তারও ঘটেছে। যদিও হারিকেন/প্রলংকরী জলোচ্ছ্বাসের কদিনের মধ্যেই মৃত্যুবরণকারীদের সংখ্যা প্রশাসনিকভাবে প্রকাশের পর পরবর্তী ধ্বংসলীলা বা মৃত্যুকে ঐ সংখ্যার সাথে যোগ করা হয় না। সময়ের পরিক্রমায় প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই শুধু নন-ঐ কম্যুনিটির সচেতন জনসমাজও তা আমলে নেয়ার অবকাশ পান না।

সর্বশেষ এই হেলেনের গতি-প্রকৃতি আলোকে ড. হ্যাসিং আরো বলেন, কী ধরনের ভয়াবহতার ছাপ রেখেছে। চোখে না দেখলে যা বিশ্বাসই করা যায় না। ১৫ ফুট থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের থাবা গ্রাস করেছিল বিস্তীর্ণ জনপদকে। বাড়ি-ঘরের ছাদে আশ্রয় নিয়েও অনেকে বাঁচতে পারেনি। নিমেষেই সবকিছু সয়লাব এবং গুড়িয়ে ফেলা হয়েছে মাইলের পর মাইল। এজন্যেই প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা এবং ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে নর্থ ও সাউথ ক্যারলিনার স্টেট গভর্ণররা বলেছেন। হেলেনের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত ৬ স্টেটের মধ্যে আরও রয়েছে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া এবং টেনেসী। এক সপ্তাহ পরও এসব স্টেটের ১২ লাখের অধিক বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন রয়েছে। অনেক এলাকার সাথে এখনো যোগাযোগ পুনস্থাপন করাও সম্ভব হয়নি। তবে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকালে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার