
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৪৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ফাইল ছবি
কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারকে আকৃষ্ট করতে কমলা হ্যারিস কিছুটা সচেষ্ট হলেও ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের তুলনায় তা কম বলে নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজ পরিচালিত সর্বশেষ এক জরিপে জানা গেছে।
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে অংশগ্রহণকারী কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের প্রতি ১০ জনের ৮ জনই কমলা হ্যারিসকে ভোট দানের কথা জানিয়েছেন। জো বাইডেনের ব্যাপারে এমন মনোভাব পোষণকারী (নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে যাবার আগ মুহূর্তে অর্থাৎ গত জুলাইতে) কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের হার ছিল ৭৪%। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে ৯০% কৃষ্ণাঙ্গের ভোট পেয়েছিলেন জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ী করতে নতুন প্রজন্মের ভোটারের পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরাও সংকল্পবদ্ধ বলে মনে করা হলেও বাস্তবে তার হান্ড্রেড পার্সেন্ট প্রতিফলন ঘটছে না বিভিন্ন জরিপে।
এমনি অবস্থায় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কমলা হ্যারিসের বর্ণ পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের অবতারণা করায় স্বল্প শিক্ষিত ভোটারের অনেকেই বিভ্রান্ত। আর এমন বিভ্রান্তি দূর করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোট ব্যাংকের পুরোটাই কমলার পক্ষে নিশ্চিত করার অভিপ্রায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মাঠে নেমেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ব্ল্যাক ভোট-জরিপের ফলাফল
উল্লেখ্য, সর্বশেষ এই জরিপ অনুযায়ী কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ভোটের ১৫% ট্রাম্পকে সমর্থন দানের কথা জানিয়েছেন। গত নির্বাচনে ট্রাম্পকে ৯% কৃষ্ণাঙ্গ ভোট দিয়েছিলেন। কেন এই অবস্থা-তা নিয়ে চলছে নানা পর্যালোচনা। যদিও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের নারী ভোটারের শতভাগ কমলার পক্ষে রয়েছেন। পুরুষ ভোটারের এই ভিন্নমতের অবসানে বারাক ওবামা কতটা অবদান রাখতে সক্ষম হন সেটি এখনও দেখার বিষয়।
জরিপ অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এবং অর্থনৈতিক ইস্যুকে স্বল্প ও মাঝারি আয়ের আমেরিকানরা প্রাধান্য দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মুরুব্বিয়ানা অটুট রাখার ব্যাপারটিও কোন কোন ভোটারের সামনে আসছে। এর ফলে ৫ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের বিজয়কে এখনও পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত ভাবতে পারছেন না।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে এবং ইমিগ্রেশন ইস্যুতে জো বাইডেনের ভূমিকায় মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ কাটিয়ে উঠতে এখনও পর্যন্ত সক্ষম হননি কমলা হ্যারিস। মুসলিম ভোট ব্যাংকের এই স্থবিরতায় যোগ দিয়েছে নতুন প্রজন্মের অনেক ভোটার। তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, কমলা কিংবা ট্রাম্প-কাউকেই ভোট দিতে চান না। এমন নাজুক পরিস্থিতির প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে ট্রাম্পের জন্যে তেমন কোন সমস্যা না হলেও কমলার জন্যে তা মঙ্গল বয়ে আনবে না। কারণ, এই শ্রেণীর ভোটারের ৯০% বরাবরই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিলেন। ইতিহাস রচনায় আগ্রহী ডেমোক্র্যাটদের তাই সামনের তিন সপ্তাহে আরও সক্রিয় হতে হবে মুসলিম আমেরিকান ও নতুন প্রজন্মের ভোটারকে কাছে টানতে।



