
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২ | প্রিন্ট | ১০১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ এবং ঘৃণামূলক সহিংসতা প্রতিরোধকল্পে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি শীর্ষ সম্মেলন করার ঘোষণা দিলেন। ১৯ আগস্ট শুক্রবার হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বাইডেনের এই সম্মেলনকে ‘আমাদের গণতন্ত্র এবং জননিরাপত্তার উপর ঘৃণা-তাড়িত সহিংসতার মারাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ‘ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড সামিট’ শীর্ষক এই সম্মেলনে মূল বক্তব্য পেশ করবেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের অঙ্গিকারের পরিপূরক হিসেবে আমেরিকাকে আরো অধিক ঐক্যবদ্ধ হবার গুরত্বারোপ করবেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারিন জীন-পিয়ারে এ প্রসঙ্গে প্রদত্ত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, গত ১৪ মে নিউইয়র্কের বাফেলোতে একটি সুপার মার্কেটে বর্ণবিদ্বেষমূলকভাবে নির্বিচার গুলিবর্ষণে ১০ জন কৃষ্ণাঙ্গের প্রাণ ঝরে এবং গুলিবিদ্ধ আরো ৩ জন এখনও চিকিৎসাধীন। সেই বর্বরতার ভিকটিম পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সময় বাইডেন বলেছিলেন যে, আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে আমাদের সকলকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাইডেনের এই সম্মেলন আমেরিকার সকল বর্ণ, ধর্ম, রাজনৈতিক মতবাদের সকলকে আমেরিকার চেতনা-মূল্যবোধের ক্ষেত্রে ঐক্যের পথ সুগম করবে বলে মনে করছে হোয়াইট হাউজ। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী-নেতা, আইন শৃক্সখলা রক্ষাকারি কর্মকর্তা, সহিংসতার জন্যে চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে এখন যারা সংশোধিত হয়ে ঘৃণামূলক অপরাধ দমনে প্রশাসনের সহযোগী হয়েছে তারা সহ ফেডারেল, স্টেট এবং স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃস্থানীয়রা অংশ নেবেন এই সম্মেলনে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমলে শুরু হওয়া ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা বাইডেন আমলেও কমেনি। অধিকন্তু মুসলমান এবং এশিয়ানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় নিউইয়র্ক সিটির রিচমন্ড হীলে তুলশী মন্দিরের সামনে নির্মিত মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাংচুর করা হয়েছে। একই মূুর্তি ভাঙার প্রথম চেষ্টা চালানো হয় এ মাসের ৩ তারিখ অর্থাৎ সংঘবদ্ধ একটি চক্র অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীকে সহ্য করতে না পেরেই এ ধরনের আক্রমণ করছে এবং এর নেপথ্যে জাতিগত বিদ্বেষ প্রবল বলে অনেকে মনে করছেন। দিন-দুপুরে মন্দিরের সম্মুখে কয়েক বছর আগে নির্মিত কংক্রিটের এই মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার প্রথম প্রয়াসে ‘স্প্যানিশ’ ভাষা ব্যবহার করা হলেও ১৬ আগস্টে ৬ দুর্বৃত্ত গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে হিন্দি ভাষায় গালমন্দ করেছে বলে মন্দিরের সার্ভিলেন্স ভিডিওর উদ্ধৃতি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ রকম হিংস্র আচরণে শুধু হিন্দুরাই ভীত-সন্ত্রস্ত নন, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও আতংকগ্রস্ত বলে সকল গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে।



