
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২২ | প্রিন্ট | ৯২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অর্ধডজন সিটির মেয়র, স্টেট সিনেটর-অ্যাসেম্বলীম্যানসহ ডেমক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ এবং প্রবাসে সামজিক উন্নয়ন ও আর্ত-মানবতার কল্যাণে অভূতপূর্ব অবদান রাখার জন্য ‘কংগ্রেসনাল প্রোক্লেমেশন’ এবং নিউজার্সি স্টেট পার্লামেন্টের উভয়কক্ষের ‘যৌথ প্রক্লেমেশন’ পেলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া। ২৩ আগস্ট নিউজার্সির আটলান্টিক সিটির সেন্ট ক্যাসেল ষ্টেডিয়ামে ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আটলান্টিক কাউন্টি’র উদ্যোগে বাংলাদেশ মেলায় বিপুল করতালির মধ্যে কংগ্রেসম্যান জেফ ভ্যান ড্র এবং স্টেট সিনেটর ভিনসেন্ট পলিস্টিনা, অ্যাসেম্বলীম্যান ডনাল্ড এ গার্ডিয়ান ও চার্লস এস সুইফট স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রক্লেমশন হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন’র ব্যানারে দীর্ঘদিন যাবত তিনি বাংলাদেশ ও প্রবাসের আর্ত-পীড়িত মানুষদের সেবা করে আসছেন। একইসাথে প্রবাস প্রজন্মে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাঙালি কালচার জাগ্রত রাখার বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর সরব উপস্থিতি থাকে। মার্কিন কংগ্রেসের এই স্বীকৃতি সামনের দিনগুলোতে মানবতার সেবামূলক কার্যক্রমে আরো উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন কাদের মিয়া। উল্লেখ্য, এই মেলাতেও প্রধান অতিথি ছিলেন কাদের মিয়া।
হাজারো প্রবাসীর প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতিতে মেলার উদ্বোধনী বক্তব্যে কাদের মিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি সংস্কৃতির লালন ও বিকাশের জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশ মেলার মাধ্যমে যে প্রচেষ্ঠা চলছে তাকে আরও বেগবান করাই হচ্ছে আমার মূল লক্ষ্য। আমি গত এক যুগ ধরে এই এসোসিয়েশনের কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থেকে নিউজার্সির আটলান্টিক কাউন্টিতে আমার কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এই ‘বাংলাদেশ মেলা’র মাধ্যমে বিদেশে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলাদেশের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি তুলে ধরার যে ধারাবাহিক প্রচেষ্ঠা শুরু হয়েছে তার সাথে আমি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরে খুবই ধন্য মনে করছি। কাদের মিয়া বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আটলান্টিক কাউন্টির বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রশংসা এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অতিথির মধ্যে আরো ছিলেন নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ভিনস প্যালিস্টিনা, কংগ্রেসম্যান জেফ ভেন ড্রর প্রতিনিধি মোহাম্মদ ওমর, এ্যাসেম্বলীম্যান ডন গার্ডিয়ান, আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল, প্লেজেন্টভিল সিটি মেয়র জুডি এম ওয়ার, নর্থফিল্ড সিটির মেয়র আরল্যান্ড চোও, এগ হারবার সিটির মেয়র লিসা, এবসিকন সিটির মেয়র কিম্বারলী হরটন, আটলান্টিক সিটির কাউন্সিলম্যান আনজুম জিয়া এবং জর্জ টিবিটসহ ডেমোক্রেট ও রিপাবলকান পার্টির নেতৃবৃন্দ। ৬ হাজারের অধিক বাংলাদেশীর এই মহামিলনে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী আটলান্টিক সিটির সেন্ট ক্যাসেল ষ্টেডিয়াম পরিনণত হয়েছিল এক খন্ড বাংলাদেশে । পুরো মাঠের চারিদিকে বাংলাদেশী পণ্যের সমাহার এবং দেশীয় স্বাদের আহারে ব্যস্ত ছিলেন প্রবাসীরা। করোনার কারণে বাংলাদেশ থেকে নামীদামী শিল্পীরা আসতে না পারলেও বাংলাদেশের কিংবদন্তী শিল্পী তপন চৌধুরীর সংগীত পরিবেশন ছিল দর্শকের কাছে খুবই আনন্দায়ক। মেলার অধিকাংশ সময় প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের গান প্রাণভরে সকলে উপভোগ করেন। প্রবাসী শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন নিলাদ্রী চৌধুরী, জয়ন্ত সিনহা, জলি দাস এবং ইশরাত শর্মী। তাদের গানের তালে পুরো ষ্টেডিয়াম ছিল মুখরিত। গানের ফাঁকে মূলধারার রাজনীতিবিদদেরকে হাজারো বাংলাদেশির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আটলান্টিক কাউন্টির সভাপতি শহীদ খান এবং সাধারন সম্পাদক সোহেল আহমেদ।
আশরাফুল হাসান বুলবুলের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্যা নিবেদিতা ভট্রাচার্যের কোরিওগ্রাফিতে ছোট ছোট মেয়েদের দেশীয় গানের সাথে নৃত্য পরিবেশনা ছিল দেখার মত। শত ব্যস্ততার মাঝেও সামাজিক উন্নয়ন এবং লিডারশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অবদান রাখার জন্য মেলায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সন্মাননা প্রদান করা হয়।

মেলায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব আটলান্টিক সিটি ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন সভাপতি আকবর হোসাইন,বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব আটলান্টিক সিটির সাধারন সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং নিউজার্সী ষ্টেট কমিটির সভাপতি মোঃ শাহীন, বিএনপি অব নিউজার্সী ষ্টেট সাউথ সভাপতি সৈয়দ মোঃ কাউছার এবং সাধারন সম্পাদক রহমান বাবুল, সাউথজার্সী মেট্রো আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুল ইসলাম শাহজাহান, রিয়েল ষ্টেট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা হারুন ভূইয়া, কমিউনিটি নেতা তোলন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা আবুল হোসেন, সাংবাদিক এবং কমিউনিটি নেতা সাঈদ দোহা , আটলান্টিক সিটির সিটি হলের কমিউনিটি এফেয়ার্স কর্মকতা মিল্টন চৌধুরী, খসরু কামাল এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আটলান্টিক কাউন্টির সাবেক সভাপতি সেলিম সুলতান, ট্রাষ্টিবোর্ড প্রধান কাঞ্চন বল, সাউথজার্সী মেট্রো আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ভূইয়া, প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবিবসহ নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ সাউথজার্সীতে বসবাসরত নতুন প্রজন্মকে মেলায় নিয়ে এসে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে মেলার আয়োজন করেন বলে জানান আয়োজকরা। মেলার আহবায়ক মোঃ আলী হোসেন এবং সদস্য সচিব ফরহাদ সিদ্দিকী আরো জানান, দীর্ঘ একটি বছর ধরে আটলান্টিক কাউন্টির বাংলাদেশীরা অপেক্ষায় থাকেন এই মেলার জন্য। আটলান্টিক সিটিসহ পার্শ্ববর্তী সিটিতে বসবাসরত দশ থেকে বারো হাজার বাংলাদেশী তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরে অন্যান্য বারের মত এবারও আনন্দিত এবং উল্লসিত। তারা আরও বলেন, এবারের বাংলাদেশ মেলাকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আটলান্টিক কাউন্টির সভাপতি শহীদ খান এবং সোহেল আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রায় ৫০ জনের একটি টিম রাতদিন তাদের কার্যক্রম চালিয়েছেন।
বাংলাদেশ মেলায় ছিল রকমারী স্টলসহ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী পণ্যের সমাহার। সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিল র্যাফেল ড্র। এই র্যাফেল ড্রয়ের প্রথম পুষ্কার ছিল দুই ভরি ওজনের গলার স্বর্ণের হার। অনুষ্ঠানের শেষাংশে বাংলাদেশের প্রথিতযশা গীতিকার কবির বকুলের উপস্থিতি এবং বক্তব্য প্রদান ছিল উপস্থিত সকলের কাছে খুবই সন্মানজনক।



