
নিজস্ব প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২২ | প্রিন্ট | ২৬৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রবাসের সুপরিচিত সংগঠন শ্রীকৃষ্ণ ভক্তসংঘ ১৯ এবং ২১ আগষ্ট যথাক্রমে সংঘের নিজস্ব মন্দির ও উডসাইডস্থ গীতা টেম্পলে (দিব্যধাম ) পরম আরাধ্য অবতার পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তথা জন্মাষ্টমী মহোৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করে। কর্মসূচির বিশেষ আকর্ষণ ছিল ব্যস্ততম রাজপথ দিয়ে বর্ণাঢ্য প্যারেড। ধম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের আমেরিকানরা ধর্মপ্রাণ বাংলাদেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের এ প্যারেড কৌতুহলী দৃষ্টিতে অবলোকন করে।
১৯ আগস্ট পূর্ণ তিথিতে সকাল ১১টায় ভগবানের অভিষেক, পূজা, ভোগ আরতির মধ্য দিয়ে পুরোহিত শ্রীমৎ জগদীশ ব্রহ্মচারী পরম পুরুষোত্তমের মহা আগমন বার্তা ভক্তপ্রাণে মন্দ্রিত করেন। তাকে সহযোগিতা করেন জয়শ্রী রায়, শিপ্রা রায়, মমতা ভৌমিক, অঞ্জলি সরকার , তপতি পোদ্দার। গীতা পারায়ণে ১৮জন স্বনামধন্য গীতা পাঠক ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী শ্রীগীতার মন্ত্র আস্বাদন করেন অবিরাম ধারায়। পরিচালনায় ছিলেন কম্যুনিটি লিডার রূপকুমার ভৌমিক। নবদ্বীপ থেকে আগত প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামীর সুললিত কণ্ঠে কৃষ্ণের জন্মকথা শ্রবণ করে ভক্তরা ভক্তি রসে আপ্লুত হয়ে পড়েন। শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনামে অংশগ্রহন করেন সবিতা দাস, জয়শ্রী রায়, শান্তি সাহা, হেনা আচার্য, শম্পা রায়, অঞ্জলি সরকার, শিপ্রা রায়, তপতি পোদ্দার, বিদুৎ , সজল প্রমুখ। গীতা চর্চায় আগ্রহী ভক্তদের মাঝে স্বর্গীয়া মাতার পরম আত্মার শান্তি কামনায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গীতা দান করেন ভক্ত প্রবরপ্রাণ সুশীল কুমার সাহা ।

দ্বিতীয় দিন ২১ আগষ্ট ছিল সংঘের ২২ তম শুভ জন্মাষ্টমী প্যারেড ও নগর কীর্তণ। উল্লেখ্য, ২০২০ -এ করোনা মহামারীর কারণে প্যারেড নগর কীর্তনের আয়োজন না হওয়ায়, এটি সংঘের ২২ তম আয়োজন। নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে দিব্যধাম সেবাশ্রম মন্দিরে বিকাল ৩টায় একটি সুসজ্জিত মঞ্চে ‘কৃষ্ণ মন্দির গীতা স্কুল’র ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ত্রী, বেদমন্ত্র, প্রনাম মন্ত্র ও শান্তি মন্ত্রের সুধাস্নিগ্ধ স্বরে পবিত্র উচ্চারণে দিনের উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। একে একে ইন্দ্রপুরীর নৃত্য ছন্দে আগত ভক্তকুলের মন প্রাণ ভরিয়ে দেয় অনিন্দিতা, জয়া, কৃষ্টি, সপ্তর্ষী, ঋষিকা , তমা ও বিদিশা। দর্শকের ম‚হুর্ম‚হু করতালীতে প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীরা অনুপ্রাণিত হয়। আহ্বান ও প্রার্থনা সংগীতাসরে অংশগ্রহন করেন সবিতা দাস , শম্পা রায়, জয়শ্রী রায়, স্বপ্না মল্লিক, মমতা ভৌমিক, অঞ্জলি সরকার, শিপ্রা রায়, সাবু নাথ। মৃদঙ্গে সংগত করেন রাজউৎস ও পলাশ নন্দী, করতালে ছিলেন সতীশ শর্মা। এরপর গীতা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের মায়েদের সমন্বয়ে পরিবেশনায় এবং অধ্যক্ষ রঞ্জিত রায়ের পরিচালনায় ‘যমুনা পুলিনে’ ( ব্রজ গোপালের মেলা)- মঞ্চস্থ হয় বিশেষ নাটক ‘বালো গোপালের লীলা ও নন্দোৎসব’। পুরো নাটকটি এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের মনমুগ্ধকর প্রাণবন্ত আর অনবদ্য অভিনয়ে অসাধারণ উপস্থাপনায় দর্শক নন্দিত হয়। শেষে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য প্যারেড ও নগর কীর্তণে সকল মন্দির ও সংগঠন তথা সর্বস্তরের সনাতনীদের অংশগ্রহনে একটি হিন্দু মিলন মেলায় পরিণত হয়। মায়েদের সরবঔলুধ্বনি, শঙ্খ ধ্বনি, কাসর, ও ডান্কার, বাজনা এবং মুখে কৃষ্ণ নাম – সব মিলিয়ে প্যারেডটি যেন মহানন্দ যজ্ঞে মেতে ওঠে “আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে।” প্যারেডটি জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ততম রাজপথ প্রদক্ষিণ করে পুণরায় দিব্যধাম মন্দিরে ফিরে আসে ।
জন্মাষ্টমী মহোৎসব-২০২২ এর উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং সংঘের একনিষ্ঠ নিবেদিত ভক্ত প্রবর প্রাণ সুরেশ চন্দ্র রায় সকল ভক্ত চরণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামীতে এই মহোৎসবকে আরও বেগবান এবং অক্ষুণ্ন ধারায় এগিয়ে নেবার জন্যে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করেন। সংঘের চেয়ারম্যান ডা. প্রভাত চন্দ্র দাস জন্মাষ্টমী মহোৎসব বিশেষ করে প্যারেডে আগত ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
প্রতিবছরের মত এবারও বার্ষিক মুখপাত্র “সত্যম” যথারীতি প্রকাশিত হয়। প্রসাদ এবং মহোৎসবের সার্বিক সহোযোগীতা ও তত্বাবধানে ছিলেন মহেশ্বর প্রভু, কিশোর বিশ্বাস , প্রনব কুমার রায় রনো, ইন্দ্রজিত মজুমদার, সুকান্ত দাস টুটুল, সুভাস সাহা, অমরেন্দ দাস, বিমল সরকার, পংকজ রায়, নিতাই, সুশীল সাহা, রবীন্দ্র শীল, দীলিপ নাথ, সুরেশ রায়, সুমন মিত্র, সুরঞ্জন বণিক, তরুন সাহা, রঞ্জন ভট্টাচার্য, রূপকুমার ভৌমিক, সুধন্য সেন । প্যারেড পরিচালনায় ছিলেন সুকান্ত দাস টুটুল, দীলিপ নাথ, পংকজ রায়, সুমন মিত্র, সুরঞ্জন বণিক, প্রদীপ কুন্ডু, রবীন্দ্র শীল, শ্যামল মল্লিক, তরুন সাহা, সুভাস সাহা, শিতাংশু গুহ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় ও উপস্থাপনায় ছিলেন রঞ্জিত রায় ও প্রদীপ কুন্ডু ।



