বৃহস্পতিবার ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের সামনে স্লোগান হৈ হৈ রৈ রৈ জামাত-শিবির গেল কৈ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ৩১ আগস্ট ২০২২ | প্রিন্ট  

জাতিসংঘের সামনে স্লোগান হৈ হৈ রৈ রৈ জামাত-শিবির গেল কৈ

বিএনপি-জামাত জোটের কথিত র‌্যালি রুখে দেয়ার কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

‘হৈ হৈ রৈ রৈ-বিএনপি জামাত গেল কই’-স্লোগানে প্রকম্পিত হলো জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন এলাকা। ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার অপরাহ্নে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে এক র‌্যালিতে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারণার নিন্দা এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন-অভিযাত্রার ধারাবিবরণী দেন।

উল্লেখ্য, ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের ‘বলপূর্বক গুমের শিকারদের আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ঘাপটি মেরে থাকা জামাত-শিবির, একাত্তরের ঘাতকদের সহযোগী এবং বিএনপির একাংশের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশী আমেরিকান কনসার্ন সিটিজেন’ এবং ‘দ্য কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেমক্র্যাসী ইন বাংলাদেশ’ নামক দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়ার তথ্য জানাজানি হবার পর আওয়ামী পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিক এ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল।

উপরোক্ত সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী এতে প্রদত্ত বক্তব্যে বাংলাদেশকে আবারো জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্তদের মুখোশ উম্মোচন করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত সকলকে অভিবাদন জানান শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। সিদ্দিক বলেন, জাতিসংঘের মত বিশ্ব সংস্থাকেও ওরা মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়। বাংলাদেশের র‌্যাব এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যেই জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিতদের মুলোৎপাটন করেছে। এজন্যে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রশংসাও পেয়েছেন দেশপ্রেমিক এসব বাহিনী। এতদসত্বেও একাত্তরের পরাজিত শত্রæরা নবউদ্যমে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া এ সময় বলেন, আজ যখন জাতিসংঘের ভেতরে সারাবিশ্বের পুলিশ প্রধানদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে, ঠিক সে সময়ে বাংলাদেশে গণধিকৃত একটি মহল বানোয়াট অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থাশীল কোন প্রবাসী তা মেনে নিতে পারি না। আমরা সোচ্চার রয়েছি এবং জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমণের দিন পর্যন্ত রাজপথ সরব রাখবো এ ধরনের শান্তিপূর্ণ র‌্যালির মাধ্যমে। ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ’ শীর্ষক ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতা-কর্মীর মধ্যে এ র‌্যালিতে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভ’ইয়া, হাজী জাফরউল্লাহ, মাস্টার ইলিয়াস খান, নাজিম উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন এবং এ টি এম রানা।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের সঞ্চালনায় র‌্যালিতে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সৈয়দা ফরিদা রেজা নূর, পেনসিলভেনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনসুর খৈয়াম, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারিকুল হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক সেবুল মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি শাসসুদ্দিন আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসিব মামুন, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া এনাম, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাসুদুল হাসান, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক সফররত জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ শফিক গেন্দা, পেন্সিলভেনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাহিদ রেজা জন সিকদার, পেনসিলভেনিয়া ট্রাই-কাউন্টি আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়ের মোহাম্মদ মিয়া, কানেকটিকাট আওয়ামী লীগের নেতা হুমায়ূন কবীর প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন মোর্শেদা জামান, লুৎফুল করিম, আবুল কাশেম, মহিউদ্দিন দেওয়ান, দুলাল মিয়া এনাম, ডেমক্র্যাটিক লীগ অব বাংলাদেশের নেতা আতাউল গনি আসাদ প্রমুখ। ছিলেন মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ‘মুজিব সৈনিকেরা সরব হওয়ায় জামাত-শিবির পন্থিদের কথিত কর্মসূচি এ এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এভাবেই ওদেরকে তাড়িয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে নিপতিত করতে হবে। একাত্তরে যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে নারী ধর্ষন, বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে,সেই শ্রেণীর মানুষেরা এবং তাদের অনুসারিরা আজ মানবাধিকারের যিকির তোলেছে।’ বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট রাতে জাতিরজনককে সপরিবারে হত্যার সময়ে কোথায় ছিল মানবাধিকার? সে সময় স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং জাতিসংঘ কোথায় ছিল?’

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:১১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ৩১ আগস্ট ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar