
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জরাজীর্ণ ভবনটি ক্রয় করা হয়েছে মইনুল ইসলামের নামে। সামনে জালালাবাদ ভবন’র সাইন লাগানোর ফলে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতিসহ অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
গত জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে বদরুল-মইনুল প্যানেলের অঙ্গিকার ছিল বিজয়ী হলে ৯০ দিনের মধ্যে নিউইয়র্কে ‘জালালাবাদ ভবন’র প্রত্যাশা পূরণ করবেন। এমন অঙ্গিকারে ভোটারেরা তাদেরকে বিপুল বিজয় দিয়েছেন।
গত ২৯ আগস্ট বিজয়ীরা অভিষিক্ত হয়েছেন অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে। সেদিনও বিদায়ী কমিটির কর্মকর্তারা প্রকাশ করেননি যে, গত আগস্ট জালালাবাদ ভবন ক্রয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। অথচ নির্বাচিত সেক্রেটারি মইনুল ইসলাম ছিলেন বিদায়ী কমিটির কোষাধ্যক্ষ। ভবন ক্রয়ের তথ্য ফাঁস হলো চলতি সপ্তাহে এস্টোরিয়াস্থ ৩৬ এভিনিউ এবং ৩১ স্ট্রিটের (৩৬-০৭ ৩১ স্ট্রিট)ভবনে ‘জালালাবাদ ভবন’র সাইন লাগানোর পর। এহেন লোকোচুরির ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্নের উদ্রেক করেছেন নয়া সভাপতি বদরুল হক খান।
তিনি বলেছেন, ভবন কেনার তথ্য গোপন করা উচিত হয়নি। এছাড়া বোর্ড অব ট্রাস্টির অনুমতি লাগে ৫ হাজার ডলারের অধিক ব্যয়ের প্রয়োজন হলে। বিদায়ী কার্যকরী কমিটি বোর্ড অব ট্রাস্টির অনুমোদন নেয়নি এবং গত নির্বাচনে আমরা যারা জয়ী হয়েছি তাদেরকেও ব্যাপারটি অঅনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বদরুল খান জালালাবাদ এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র (৯ অনুচ্ছেদের সেকশন ঘ) লংঘনের গুরুতর অভিযোগ করেছেন বিদায়ী কমিটির বিরুদ্ধে। এই ভবন ক্রয়ের স্বচ্ছ্বতা নিয়েও প্রশ্নের অবতারণা করেছেন সাধারণ সদস্য এবং সাবেক কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এর আগেও জালালাবাদের অর্থে নিউইয়র্ক সিটির পরিবর্তে ফিলাডেলফিয়ায় একটি জরাজীর্ন ভবন ক্রয় করা হয়েছিল।
সেখানেও স্বচ্ছ্বতার বালাই ছিল না। এসোসিয়েশনের তহবিল পকেটস্থ করার মানসে ঐ ভবন কেনা হয়। কয়েক বছর পর তা বিক্রি করে সমুদয় অর্থ এসোসিয়েশনের একাউন্টে রাখা হয়েছিল। সেই অর্থ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বহুল আলোচিত ভবনটি কেনা হয়েছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিকে পাশ কাটিয়ে কোন উদ্দেশ্যে এই ভবন কেনা হয়েছে এবং কেন ২৯ আগস্ট অভিষেক সমাবেশে তা প্রকাশ করা হয়নি-সে প্রশ্ন সকলের। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে ১৪৬৩ বর্গফুটের বাড়িটি ( ৬ বেডরুম, ২ বাথরুম এবং ফুল বেসমেন্ট)ক্রয়ের চুৃক্তি করার সময় ডাউন টেমেন্ট দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ডলার। এর আগে গত মার্চে বিদায়ী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম (বর্তমান কমিটির সেক্রেটারি)’র নামে বায়না-পত্র হয়েছিল।
সর্বশেষ অবস্থার আলোকে বুধবার দিবাগত রাতে সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘এখন পর্যন্ত কার্যকরী কমিটির কাউকে তারা কিছুই জানায়নি। আমি নিজেও সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং আমার কমিটির সেক্রেটারি মইনুল ইসলামকে টেক্সট করেছি ঘটনাটি সম্পর্কে জানাতে। তিনি এখন পর্যন্ত জবাব দেননি।’ বদরুল খান বলেন, ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হবার পর দায়িত্ব হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত বিদায়ী কমিটির দুই হাজার ডলারের বেশী খরচের এখতিয়ার নেই। ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে বোর্ড অব ট্রাস্টির অনুমোদন লাগে। অথচ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ব্যয় করতে তারা কারোরই অনুমতির প্রয়োজন বোধ করেনি। এর নেপথ্য অভিসন্ধি উদঘাটনে শীঘ্র¦ই বোর্ড অব ট্রাস্টির সাথে কার্যকরী কমিটির বৈঠক ডাকা হবে।’
জিলোর তথ্য অনুযায়ী বাড়িটির দলিল করা হয়েছে মেগা হোমস রিয়েল্টি ইনকের মইনুল ইসলামের নামে।



