রবিবার ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মানবিক সংকটে ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থা

বিশেষ সংবাদদাতা   |   শুক্রবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট  

মানবিক সংকটে ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘মানবিক সংকট’ দেখা দেয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সিটি মেয়র ম্যুরিয়েল বাউসার ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। বেআইনি পথে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এবং আরিজোনা স্টেটে ঢুকে পড়া হাজার হাজার অভিবাসীকে বাস যোগে ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠিয়ে দেয়ায় এই সংকট ক্রমে ঘনিভূত হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। এহেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাইডেন প্রশাসনের কাছে গত জুলাইতে ন্যাশনাল গার্ড এবং অর্থ সহায়তা চেয়েছিলেন মেয়র বাউসার। ইতিবাচক সাড়া পাওয়া দূরের কথা হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগণের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে সেই আবেদন নাকচ করা হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ৮ সেপ্টেম্বর সিটি মেয়র বাউসার বাইডেন প্রশাসনের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টেক্সাস ও আরিজোনার রিপাবলিকান গভর্ণররা প্রতিদিন হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীর চাপে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বাইডেন প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগে মিছিল করে লোকজন ঢুকছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটদের শায়েস্তার অভিপ্রায়ে ডেমক্র্যাট শাসিত ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো এবং নিউইয়র্ক সিটিতে বাস ভরে বেআইনীভাবে ঢুকে পড়া বিদেশীদের পাঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের সিটি মেয়র এরিক এডামস এই পরিস্থিতি সামলাতে হোয়াইট হাউজের সহায়তা চেয়েছেন। এখন পর্যন্ত তা পাননি মেয়র এডামস।

নিজের সাধ্য অনুযায়ী সে সব অভিভবাসীর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছেন এডামস। কিন্তু সাধ্যে আর কুলাচ্ছে না মেয়র বাউসার প্রশাসনের। সেজন্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘জরুরী অবস্থা’ (পাবলিক ইমার্জেন্সী) জারি করলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমলে অবৈধ অভিবাসীদের জন্যে ফেডারেল সহায়তা (ফুড স্ট্যাম্প, চিকিৎসা-সেবা ইতাদি) স্থগিত করা হয়েছিল।

৮ সেপ্টেম্বর বাইডেন প্রশাসন সেই স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নেয়ার দিনই ডিসি মেয়র এই ঘোষণা দিলেন। বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর জন্যে খাদ্য এবং আবাসন ব্যবস্থা করা তার সিটির পক্ষে একেবারেই অসম্ভব বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেয়র বলেন, কয়েক সপ্তাহে বাস ভরে ৯৪০০ বিদেশী এসেছেন ডিসিতে। তাৎক্ষণিকভাবে ১০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান চেয়েছিলেন মেয়র বাউসার। বাইডেন প্রশাসন নাকচ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মেয়র বলেন, এসব বিদেশীদের সহযোগিতায় অলাভজনক সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করার জন্যে কাজ করছি। তারা এগিয়ে এলে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও সামাল দেয়া সম্ভব হবে। বাউসার উল্লেখ করেন, ‘যেভাবে আরিজোনা ও টেক্সাস থেকে বাসের বহর পাঠানো হচ্ছে তা কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে সেটি এখনও আঁচ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেরও কোন সাধ্য আমার নেই। তবে মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে যতটা সম্ভব করতে হবে আমাকে সীমিত সম্পদের মধ্যেই। তাই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা চেয়েছি।

বাইডেনের আমলে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের অধিক এবং গত ৮ মাসে ২০ লক্ষাধিক মানুষ মেক্সিকো হয়ে বেআইনীভাবে টেক্সাস ও আরিজোনায় ঢুকে পড়েছে। এদেরকে প্রতিহত করতে সীমাহীন নিরবতা অবলম্বন করছে হোয়াইট হাউস-এমন অভিযোগ ঐ দুই স্টেট গভর্ণরের। তারা লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীর চাপে হিমসিম খাচ্ছেন। এর জবাব দিতেই ডেমোক্র্যাট শাসিত সিটিতে বাস ভরে কিছু অবৈধ অভিবাসীকে পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। উল্লেখ্য, করোনা মহামারির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত সিল মেরে দিয়েছিল। গত এপ্রিলে বাইডেন প্রশাসন সে নির্দেশ উঠিয়ে নিয়েছে। ট্রাম্প আমলে আরেকটি বিধি জারি করা হয়েছিল যে, অবৈধ অভিবাসীরা ফেডারেল সহায়তা নিলে গ্রীণকার্ড পাবে না। সেই নির্দেশটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী আলেজান্দ্রো মেয়রকাস ৮ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেণ, অবৈধ অভিবাসীগণের সাথে মানবিক আচরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে ট্রাম্প আমলের অমানবিক পদক্ষেপকে রহিত করার বিকল্প ছিল না। বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীগণের সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থেও এই ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পড়েছিল।

উল্লেখ্য, আগে থেকেই সোয়া কোটির মত অবৈধ অভিবাসী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে গ্রীণকার্ড প্রদানের দাবি ঝুলে রয়েছে ৩০ বছরের অধিক সময় যাবত। এমনি অবস্থায় প্রতিদিন আরো হাজারো মানুষ সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশসমূহ থেকে মিছিল করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ছে। এসব লোকজনের সাথে চিহ্নিত এবং এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরাও ঢুকছে বলে সীমান্ত রক্ষীরা ইতিমধ্যেই ফেডারেল প্রশাসনকে অবহিত করেছে। তবুও হোয়াইট হাউস কিংবা কংগ্রেস যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা কংগ্রেসের প্রতি উদাত্ত আহবান রেখেছে অবিলম্বে এই সংকট উত্তরণে কঠোর পরিশ্রমী অবৈধদের (যারা কোন অপরাধে লিপ্ত নয়) শর্তসাপেক্ষে গ্রীণকার্ড প্রদানের বিল পাশের জন্যে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:০৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar