
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৩২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘শুভ শুভ শুভদিন-শেখ হাসিনার জন্মদিন’ এবং জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত পরিবেশে কেক কেটে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করলো বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখা এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের সময়ের সাথে মিলিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার (বাংলাদেশ সময় ২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল) রাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিনের এ অনুষ্ঠান হয় জ্যাকসন হাইটসে একটি পার্টি হলে। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে।
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন কম্যুনিকেশন ডাইরেক্টর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। প্রধান অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট এডভোকেট মশিউর মালেক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা আছেন বলেই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরেছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শি নেতৃত্ব গুণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। মশিউর মালেক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন মহলে বলাবলি হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমলা বেষ্ঠিত হয়ে পড়েছেন। এমন অপবাদ থেকে জনগণের নেতা শেখ হাসিনাকে পরিত্রাণে দেশ ও প্রবাসের মুজিব-সৈনিকদের সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ সম্মানীত অতিথি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন। সেই দেশকে সমৃদ্ধি দিতে নিরন্তরভাবে সচেষ্ট রয়েছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। তার জন্মদিনে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছি তার দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্য। ফরিদা ইয়াসমিন উল্লেখ করেন, দেশে আমরা যারা আছি তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, প্রবাসীদেরকেও চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। কারণ শেখ হাসিনাই আমাদের শেষ ঠিকানা। বাঙালির শেষ ঠিকানা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার কিছু হলে কে ধরবে হাল বাংলাদেশের। আমরা কিন্তু কিছুই দেখছি না। শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখা, শেখ হাসিনাকে ভাল রাখা, তার পাশে থেকে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে তাঁর উন্নয়ন-অভিযাত্রাকে অব্যাহত রাখা, আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, যারা যে দেশটির জন্যে ৩০ লাখ শহীদ হয়েছেন, সেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা কাজ করছেন।

বিশেষ অতিথি একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী-কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুৃর একটি নির্দেশ ছিল, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শক্রুর মোকাবেলা করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমরা দুর্দন্ড প্রতাপশালি পাক বাহিনীকে পর্যুদস্ত করেছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ¯^প্নের সেই বাংলাদেশ আজো রচিত হয়নি। তবুও আমাদের শেষ ভরসাস্থল হচ্ছেন শেখ হাসিনা। এজন্যে তার জন্মদিনে পরম করুণাময়ের কাছে তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের সেই ধারাকে থামিয়ে দিতে পুনরায় গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি। ওরা মনে করছে শেখ হাসিনাকে শেষ করতে পারলেই বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বিশ্ব মানচিত্র থেকে। এজন্যে হায়েনার দল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ওদের সম্পর্কে সজাগ থাকার সংকল্প গ্রহণের দিন হচ্ছে শেখ হাসিনার জন্মদিন।
নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় গৃহিত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার শতায়ু কামনা করছি।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাঙালি জাতির জনক এবং তার কন্যা শেখ হাসিনা হলেন বাংলাদেশের উন্নয়নের পথিকৃত। শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে উঠবে। এজন্যে আমরা বাংলাদেশের মানুষের নেতা থেকে বিশ্বনেতায় পরিণত শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি ৭৬তম জন্মদিনে।
কেক কাটার আগে শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নারী সম্পাদক সবিতা দাস।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল বাশার চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল বারি বকুল, প্রচার সম্পাদক এনামুল হক, দফতর সম্পাদক আব্দুর রহমান, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার ভ’ইয়া। বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন বাবু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মামুন চৌধুরী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন ফারুক, চট্টগ্রাম সমিতির প্রেসিডেন্ট আহসান হাবিব, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিটন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক এটিএম মাসুদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত তালুকদার, ভাইস প্রেসিডেন্ট সমীরুল ইসলাম বাবলু, কবি সালেহা চৌধুরী প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেক কাটার পর নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগেও কেক কাটেন নেতৃবৃন্দ।



