শুক্রবার ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আঙ্কটাডের হুশিয়ারি: পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ২০০৭ সালের চেয়েও ভয়াবহ মন্দায় পড়বে বিশ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট  

আঙ্কটাডের হুশিয়ারি: পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ২০০৭ সালের চেয়েও ভয়াবহ মন্দায় পড়বে বিশ্ব

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বিশ্বের মন্দা-পরিস্থিতি সামলাতে এক্ষুণি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির এই ছবি ব্যবহার করেছে।

বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন-আঙ্কটাড (UNCTAD ) কর্তৃক ৩ অক্টৈাবর সোমবার প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদূর প্রসারি পরিকল্পনায় অর্থনীতিতে রাজস্ব ও আর্থিক নীতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে বিশ্ব একটি বৈশ্বিক মন্দা এবং দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার দিকে এগুবে। এমন অভিমত পোষণের পরও আশার বাণী শুনিয়েছেন এই সংস্থার প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান,মন্দার কবল থেকে সরে আসার এখনও সময় আছে। আর সেটি হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নীতি-নির্দ্ধারণে স্বচ্ছতা। তবে বর্তমানের গতি-প্রকৃতি কোনভাবেই শুভ ফল আনবে না। সবচেয়ে বেশী নাজুক পরিস্থিতিতে নিপতিত মানুষকে আরো কষ্টে নিপতিত করবে যদি নীতি-নির্ধারকরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম না হয়।

আঙ্কটাড আরো সতর্ক করেছে যে, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যেকার বিশ্বমন্দার চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতি সামনে আসবে যদি এক্ষুণি সঠিক কর্মপন্থা অবলম্বন করতে বিলম্ব করা হয়।
আঙ্কটাড বলেছে, অত্যধিক আর্থিক কড়াকড়ি এবং অপর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনীতিকে আরও জটিল সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। নাজুক অবস্থায় নিপতিত বিশ্বের সামনে আশার বাণী উল্লেখ করে আঙ্কটাড বলেছে যে, উৎপাদিত পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা, ভোক্তা এবং বিনিয়োগকারিদের আস্থার সংকট এবং ইউক্রেন যুদ্ধজনিত পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী মন্থরতা ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে যখন গোটাবিশ্ব আক্রান্ত হলে উন্নয়নশীল বিশ্বে তার প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশী। যার মধ্যে অনেক দেশই ঋণখেলাপির নিকটে চলে যাবে। যখন জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ তীব্র হয় তখোন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে আর্থিক সংকটও বাড়ে।

আঙ্কটাডের ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছর বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হবে ২.৫% এবং সামনের বছর তা আরো কমে ২.২% হতে পারে। এমন মন্থরতা কভিড পূর্ববর্তী অবস্থার নীচে নামাবে এবং উৎপাদন হ্রাস পাবে ১৭ ট্রিলিয়ন ডলারেরও অধিক। এহেন অবস্থা সত্বেও শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসমূহ সুদের হার বাড়াচ্ছে, প্রবৃদ্ধি হ্রাসের হুমকি দিচ্ছে, অর্থ সংকটে পড়া জনজীবনকে আরো কঠিন পরিস্থিতিতে নিপতিত করা হচ্ছে।

ল্যাটিন আমেরিকার মাঝাারি আয় এবং আফ্রিকার স্বল্প আয়ের দেশসমূহে চলতি বছরের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা খুব ধীর গতিতে হলেও জনসাধারণকে ধকল পোহাতে হবে কঠিনভাবে। বিশ্ব ঋণ পরিস্থিতির আলোকপাতকালে আঙ্কটাড মনে করছে, নিম্ন আয়ের ৬০% দেশ এবং উদিয়মান অর্থনীতির দেশসমূহের ৩০% ঋণের দায়ে জর্জরিত হতে পারে। করোনা মহামারির আগেই যেসব দেশ আর্থিক মন্দার কবলে পড়েছিল, সেগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতি আরো নাজুক অবস্থায় ফেলতে পারে। ঋণগ্রস্ত উন্নয়নশীল বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা আরো মহাসংকটে ফেলতে পারে যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব না হয়।
এদিকে উন্নয়নশীল দেশসমূহ ইতিমধ্যেই তাদের রিজার্ভের মধ্য থেকে ৩৭৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে তাদের চলতি বছরের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায়। আর এ অর্থের পরিমাণ হচ্ছে আইএমএফ কর্তৃক সম্প্রতি বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় দ্বিগুণ। আইএমএফ এ অর্থের বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিল দেশসমূহের রিজার্ভ সুরক্ষার্থে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:১৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar