Advertisement Placeholder

থাইল্যান্ডে ডেকেয়ার সেন্টারে নির্বিচার গুলি, ২৩ শিশুসহ নিহত অন্তত ৩৪

বিশ্ব ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৯৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

থাইল্যান্ডে ডেকেয়ার সেন্টারে নির্বিচার গুলি, ২৩ শিশুসহ নিহত অন্তত ৩৪

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এক প্রদেশে শিশুদের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে নির্বিচারে চালানো গুলি ও ছুরি হামলায় কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ জনই শিশু। পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তা এই বন্দুক হামলা চালিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দেশটির পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।

দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, শিশুদের ডে কেয়ার সেন্টারে হামলার পর দেশটির সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান ওচা।

পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের গুলির পাশাপাশি ছুরিকাঘাতও করেছেন ওই হামলাকারী। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়।

থাইল্যান্ডের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে সম্প্রতি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দেশটির পুলিশ বলেছে, হামলাকারী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে শেষবার ব্যাংককে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বর প্লেটসহ একটি সাদা-চার দরজার টয়োটা পিক-আপ ট্রাক চালাতে দেখা গেছে।

নং বুয়া লামফু প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ২৩ শিশু, দুই শিক্ষক ও পুলিশের এক কর্মকর্তা রয়েছেন।

পুলিশের মুখপাত্র আর্চন ক্রাইটং বলেছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বন্দুকধারী সাবেক ওই পুলিশ কর্মকর্তা নং বুয়া লামফু শহরের শিশু ডে কেয়ার সেন্টারে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। গোলাগুলির পর নিজ বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করার আগে স্ত্রী এবং সন্তানকেও গুলি করে হত্যা করেছেন হামলাকারী।

জেলা কর্মকর্তা জিদাপা বুনসম বলেছেন, মাদক সংক্রান্ত একটি ঘটনার কারণে হামলাকারী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে কিছুদিন আগে চাকরিচ্যুত করা হয়। দুপুরের খাবারের সময় বন্দুকধারী যখন ডে কেয়ার সেন্টারটিতে পৌঁছান, তখন সেখানে প্রায় ৩০ জন শিশু ছিল।

তিনি বলেছেন, হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রথমে ডে কেয়ার সেন্টারটির চার থেকে পাঁচজন কর্মীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক আছেন; যিনি ৮ মাসের অন্তঃস্বত্তা।

জিদাপা বুনসুম বলেন, প্রথমে লোকজন আতশবাজির শব্দ ভেবেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে রক্তাক্ত ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলের একজন প্রতিনিধি শিশু ডে কেয়ার সেন্টারে কতজন শিশু ছিল বলে ঘটনাস্থলে থাকা এক নারীর কাছে জানতে চান। এ সময় ওই নারী বলেছেন, ‘৩০ জন…। তবে তাদের মধ্যে মাত্র একজন বেঁচে গেছে।’

হামলার এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করে হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যান-ওচা। নিজের ফেসবুক পেজে ওচা লিখেছেন, আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য তিনি সব সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় থাইল্যান্ডে বন্দুকের মালিকানার হার অনেক বেশি। কিন্তু দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অস্ত্রের হিসাব অন্তর্ভুক্ত নেই। আর এসব অস্ত্রের বেশিরভাগই বছরের পর বছর ধরে সংকটে বিধ্বস্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে অবৈধপথে থাইল্যান্ডে আনা হয়।

থাইল্যান্ডে এলোপাতাড়ি গোলাগুলির ঘটনা প্রায় বিরল। তবে ২০২০ সালে দেশটির ক্ষুব্ধ এক সেনা সদস্য ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিরোধের জেরে গুলি চালিয়ে অন্তত ২৯ জনকে হত্যা করেন। দেশটির চারটি স্থানে ঘুরে ঘুরে চালানো ওই হামলায় আহত হয় আরও ৫৭ জন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার