রবিবার ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তেলের ইস্যুতে সৌদিকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে : বাইডেন

বিশ্ব ডেস্ক   |   বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট  

তেলের ইস্যুতে সৌদিকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে : বাইডেন

তেল উৎপাদন কমানোয় সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রিয়াদকে এর ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

তার এ ঘোষণার একদিন আগেই প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বব মেন্ডেজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রিসহ সব ধরনের সহযোগিতা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করতে হবে।

১১ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জো বাইডেন বলেন, সৌদি আরব যেভাবে তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য অবশ্যই ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তবে রিয়াদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে সে বিষয়ে কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জ্যঁ-পিয়েরে বলেছেন, সৌদি সম্পর্কিত নীতি পর্যালোচনা করা হবে। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা এই কাজে কে নেতৃত্ব দেবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। কারিন বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহের এক বৈঠকে জ্বালানি তেলের উৎপাদন দৈনিক রেকর্ড দুই লাখ ব্যারেল কমানোর ঘোষণা দিয়েছে রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও এর মিত্ররা (একসঙ্গে বলা হয় ওপেক প্লাস)। তাদের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমা বিশ্বে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষোভের পাশাপাশি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যদিও রাশিয়া এই জোটের অন্যতম প্রধান সদস্য, কিন্তু বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক হিসেবে ওপেক প্লাসের যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রধান নিয়ন্ত্রক সৌদি আরব। এ কারণে উৎপাদন কমানোর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাইডেন প্রশাসনের ক্রোধের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় রিয়াদ।

এমনিতেই এই মুহূর্তে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় হাবুডুবু খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিবাদের জেরে রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবররাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে এই শীতে অবস্থা কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই ইউরোপীয়দের।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমা এবং তার প্রভাবে আরেক দফা দাম বাড়ার নিশ্চিত আশঙ্কাকে পশ্চিমারা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছে। যদিও ওপেক বলেছে, তাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী নভেম্বর থেকে। কিন্তু গত ৫ অক্টোবর সিদ্ধান্ত জানানোর পার থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

এমন পরিস্থিতি আটকাতে পশ্চিমা দেশগুলো কয়েক মাস যাবৎ প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। নির্বাচনী প্রচারণার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে সৌদি সরকারকে বিশ্বে অচ্ছুৎ বানিয়ে ফেলার অঙ্গীকার করেছিলেন, সেই তিনি গত ১৫ জুলাই জেদ্দায় গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তেলের উৎপাদন বাড়াতে অনুরোধ জানান। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ইউরোপীয়রাও চেষ্টা চালিয়ে গেছে যেন সৌদি আরব বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ায়।

কিন্তু বুধবারের ঘোষণাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, সৌদি আরব পশ্চিমাদের এসব দাবিকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। এমনকি সেদিন ভিয়েনায় ওপেক প্লাস জোটের বৈঠকে তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় মাত্র ৩০ মিনিটে। অর্থাৎ, ২৪টি দেশের জোটে এই প্রস্তাব নিয়ে কোনো মতবিরোধই ছিল না।

অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষক ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তকে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মুখে অপমানজনক চপেটাঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিকও খোলাখুলি বলেছেন, ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে বিবাদে রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছে সৌদি আরব।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগোবে, তা ভেবে দেখার জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলবেন বাইডেন। আর আমার মনে হয়, তিনি এখনই সেই কথোপকথন শুরু করতে চাইবেন। আমার মনে না, এটি এমন কিছু যার জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:২৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar