Advertisement Placeholder
এনওয়াইইউ’র হেলথ' স্টাডি সেন্টারের মতে

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি   |   মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৩০৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের বিকল্প নেই

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব এশিয়ান-আমেরিকান হেলথ’ পরিচালিত গবেষণা জরিপ অনুযায়ী নিউইয়র্ক অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের মধ্যেও ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশী। এজন্য ‘ডায়াবেটিস, রিসার্চ, আ্যাকশন ফর মাইনোরিটিজ’ তথা ড্রিম কর্মসূচিতে এই সংস্থাটি দীর্ঘদিন থেকেই প্রবাসীদের মধ্যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিসে যাতে আর কেউ আক্রান্ত না হয় সে আলোকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি নেতৃত্বে রয়েছেন এনওয়াইইউ’র ডিপার্টমেন্ট অব পপুলেশন হেলথ’র ড. নাদিয়া ইসলাম। এমনি একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারি একদল এশিয়ানের মধ্যে ৮ অক্টোবর সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয় কুইন্সে ইন্ডিয়া হোমসের অডিটরিয়ামে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে। এ সময় এই প্রকল্পের অন্যতম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গুলনাহার আলম (নাহার) এবং মামনুনুল হক উল্লেখ করেন, খাদ্যাভাস পরিবর্তনের পাশাপাশি দৈনন্দিন চাল-চলনেও পরিবর্তন সাধন করতে হবে। হাটাহাটিসহ হালকা ব্যায়ামকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারা উভয়ে আরো উল্লেখ করেন, ডায়াবেটিসে একবার আক্রান্ত হলে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব না হলেও জীবন-ব্যবস্থাকে শৃক্সখলায় আনতে পারলে তেমন কোন সমস্যা হয় না। ডায়াবেটিসকে অগ্রাহ্য করার অর্থ জটিল সব রোগকে আমন্ত্রণ জানানো। তাই যাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্তের আশংকা রয়েছে তাদের উচিত দ্রুততম সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন-ব্যবস্থাকে সাজিয়ে নেয়া।

Dream Project 2

১৫ বছর আগে শুরু এই কল্যাণমূলক প্রকল্পে জড়িত নাহার এবং মামনুন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশীরা ব্যায়ামের ব্যাপারে একেবারেই আগ্রহী নন। এটি হচ্ছে মূল সমস্যা। একদিকে ভাত বেশী খাচ্ছি, অপরদিকে সেই ভাতের ক্যালরীকে শরিরের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যে ব্যায়াম করি না। সকাল-সন্ধ্যায় সম্ভব না হলেও দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে আধ ঘন্টার জন্যে হলেও ব্যায়াম করা দরকার। সুন্দরভাবে জীবনের বাকিটা সময় নাতি-পুতিদের সাথে অতিবাহিত করতে ওষুধের পাশাপাশি ব্যায়ামের গুরুত্ব অপরিমীম।

কোর্স গ্রহণকারি ছাড়াও এ অনুষ্ঠানে ছিলেন কৌতুহলী প্রবাসীরা। পারিবারিক আবহে এই গ্র্যাজুয়েশন পার্টিতে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন ডা. ইউসুফ আল মামুন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কম্যুনিটির লোকজনের জন্যে এই কোর্সের প্রয়োজন অপরিসীম। আশা করছি যারা গ্র্যাজুয়েশন করলেন তারা বাকিটা জীবন শৃঙ্খলার মধ্যে থাকার সাথে প্রিয়-পরিচিতজনকেও এ ব্যাপারে সচেতন করতে দ্বিধা করবেন না।
এ সময় এই প্রকল্পের সাথে জড়িত জেনিফার জেনোইয়াক, শিনো মামেন, সাবিহা সুলতানা, হারুন জাফর, সিদ্রা হারুন, সৈকত, সামির আলী প্রমুখ সেখানে ছিলেন। কোর্স গ্রহণকারী বেশ ক’জন নিজেদের অভিজ্ঞতার বিবরণকালে এনওয়াইইউ’র এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেরাও ইতিমধ্যেই এর সুফল পেতে শুরু করেছেন বলে জানান।

নাহার আলম ও মামনুনুল হক আরো আরো উল্লেখ করেন, করোনার মধ্যেও আমরা থেমে থাকিনি। লক ডাউনকালে অনেক প্রবাসীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ-সহায়তা অব্যাহত ছিল। এই কোর্স প্রদান করাও হয়েছে ভার্চুয়ালে। দীর্ঘদিন পর আমরা একত্রিত হতে পেরে পরম করুণাময়ের শোকরিয়া আদায় করছি। এ সময় নাহার আলম নিজের লেখা একটি কবিতা (আশা করি পৃথিবী বদলায়ে হবে শ্রেষ্ঠতম) পাঠ করেন। কবিতাটি ছিল করোনাকালিন পরিস্থিতির আলোকে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার