Advertisement Placeholder

৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরাতে চীনের সহায়তা চেয়েছে ঢাকা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন

প্রতিদিন ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরাতে চীনের সহায়তা চেয়েছে ঢাকা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সীমান্তের শূন্য রেখায় প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করেছে। এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২০ অ‌ক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অ‌তি‌থি ভবন পদ্মায় চীনা রাষ্ট্রদূতের স‌ঙ্গে বৈঠক ক‌রেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের স‌ঙ্গে আলাপকা‌লে এ কথা জানান মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মূলত রোহিঙ্গা নিয়ে আলাপ হয়েছে। চীনকে বলেছি, সম্প্রতি আমাদের সীমান্তের শূন্য রেখায় প্রায় ৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গা আছে। আমরা বলেছি, ওদের মিয়ানমারের ভেতরে নিয়ে যাও। কারণ এগুলো এখানে থাকলে আমাদের একটা ভয় থাকে। ওদের শূন্য রেখায় রাখা যাবে না।

সীমান্ত ইস্যু নিয়ে চীনকে জানানোর পর পরিস্থিতি ভালো হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে প্রায়ই বোমা আসছিল। আমাদের বর্ডার এলাকার লোক আতঙ্কে ছিল। আমরা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছি। পরে আমরা চীনের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছি। চীনকে বলার পর বোমাবাজি কমে গেছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে চীনা দূত সুখবর দেবেন জানিয়ে মোমেন বলেন, তিনি বলেছিলেন সুখবর দেবেন। কিন্তু সুখবর তেমন নতুন কিছু দিতে পারেননি। আমি বলেছি, আপনি বলেছিলেন, সুখবর দেবেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, আশা করছিলাম। কিন্তু এখনও কিছু হয়নি। শুধু বলছেন যে, তারা (মিয়ানমার) এখনও এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে রোহিঙ্গাদের নেওয়ার জন্য। ওটাই সুখবর।

ড. মোমেন বলেন, আমরা বলেছি, আপনারা যে প্রজেক্ট নিয়েছেন (ত্রি-পক্ষীয় উদ্যোগ) সেটা অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে, এটা ভালো নয়। আমাদের কত আশা, আমরা শুধু চিন্তা করি এ মাসে হবে; ওই মাসে হবে। এজন্য একটা তাগাদা দেওয়া প্রয়োজন। তারা (চীন) চেষ্টা করছে। তারা (চীন) তো ওই দেশের মালিক নয়। এ সমস্যা মিয়ানমার করেছে। তাদেরকেই সমাধান করতে হবে। এর বিকল্প কোনো কিছু নেই।

আগের চুক্তিতেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি আছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের যে চুক্তি হয়েছে সে অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি আছে মিয়ানমার। তারা (মিয়ানমার) বলেছে, তারা (মিয়ানমার) ভেরিফিকেশনের পরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তারা এখনও বলছে, আমরা ওদের নিরাপত্তা দিতে রাজি। রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যাতে রোহিঙ্গারা সেখানে স্বেচ্ছায় যেতে পারে।

তবে পূর্ব অভিজ্ঞতায় মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিতে কতটা আন্তরিক হবে সেটা নিয়েও শঙ্কা মোমেনের। তিনি বলেন, এতদিন ধরে যে অবস্থা, মনে হয় না তাদের সে আগ্রহ আছে। এর আগে দুবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি।

পরপর দুই বার ব্যর্থ বাংলাদেশ এখন আর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দিন তারিখ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে চায় না বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কথার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা জানতে চান রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবর্তন কবে শুরু হচ্ছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এখনও কিছু কাজ বাকি। ভেরিফিকেশন বাকি।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কোনো আলাপ হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মোমেন বলেন, এটা আমি জানি না। আজকে এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আমি কিছুই জানি না। আজকে আমার মেজর আলোচনা ছিল রোহিঙ্গা।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার