রবিবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্ক সিটির উন্নয়নে বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে: মেয়র এডামস

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ৩১ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট  

নিউইয়র্ক সিটির উন্নয়নে বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে: মেয়র এডামস

নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মরত বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সংগঠন ‘বাপা’র ষষ্ঠ বার্ষিক এওয়ার্ড ডিনার’ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যকালে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামস বলেন, আমেরিকা হচ্ছে এমন একটি দেশ যেখানে বসতি গড়তে হলে মাতৃভূমির মায়া-মমতা ত্যাগের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ এ দেশটিকে নিজের মনে করতে পারলে প্রিয় মাতৃভূমিকে এখানেই নিয়ে আসা যায়। আমেরিকার মহাত্ম এভাবেই মহিমান্বিত হচ্ছে বহুজাতিক সমাজে নিজ নিজ সংস্কৃতির ফল্গুধারা প্রবাহিত রাখার মধ্য দিয়ে।

২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন বিলাসবহুল একটি পার্টি হলের এই অনুষ্ঠানে মেয়র এডামস উল্লেখ করেন, একটিমাত্র দেশ গোটাবিশ্বে, যেখানে নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্য অটুট রেখেই আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের অভিপ্রায়ে সম্মুখে এগিয়ে চলা যায়।

পুুলিশ বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশী অফিসারদের প্রশংসাকালে মেয়র বলেন, আপনারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই এই সিটির জনজীবনকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হচ্ছে। একইসাথে নিজ কম্যুনিটির সকলের প্রতি যাদে ভিন্ন কম্যুনিটির লোকজনের শ্রদ্ধাবোধ বাড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আর এভাবেই সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন সুসংহত হলে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই সিটির ইমেজ আরো উজ্জ্বল হবে। সিটি মেয়র বলেন, নিজের ভাষা, সংস্কৃতিকে কখনো ছোট ভাববেন না। তাহলে অনেক সমস্যার সহজ সমাধান হয়ে যায়। বিশেষ করে এদেশে বেড়ে উঠা অথবা জন্মগ্রহণকারি প্রজন্মও গৌরববোধ করবে তার মা-বাবার সমাজ নিয়ে। নিউইয়র্ক সিটিতে বহু ভাষা, বহুবর্ণ আর বহু জাতির মানুষ বাস করছে। সবকিছু মাড়িয়ে আমি খুব সহজেই বাংলাদেশী-আমেরিকানদের দেখতে পাই তাঁদের কর্মনিষ্ঠা আর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে।

বিশেষ সম্মানীত অতিথির বক্তব্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বিপুল করতালির মধ্যে উল্লেখ করেন, গৌরবে আমার বুকটা ভরে যায়, যখন এই সিটির নানা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের কাছে থেকে বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের সদস্যগণের ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য শুনি। সকলেই উচ্ছ¡সিত প্রশংসা করেন প্রতিটি পুলিশ অফিসারের কর্মনিষ্ঠা-দায়িত্ববোধের। বাংলাদেশের একজন নাগরিক এবং কন্সাল জেনারেল হিসেবে এরচেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে। এজন্যে আমি বাপার প্রতিটি সদস্য-কর্মকর্তাকে অভিবাদন জানাচ্ছি। কন্সাল জেনারেল প্রাঞ্জলভাষায় আরো বলেন, কর্মরত অবস্থায় জনজীবনের নিরাত্তা, শৃঙ্খলাবোধ এবং এই সিটির সামগ্রিক উন্নয়ন-কল্যাণে বাপার এই যে ভ’মিকা, তার মধ্যদিয়ে তারা প্রকারান্তরে প্রিয় মাতৃভ’মি বাংলাদেশের ইমেজকেও বহুজাতিক এই সমাজে মহিমান্বিত করছেন। কন্সাল জেনারেল উল্লেখ করেন, আপনারা অহংবোধের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। কারণ, বাংলাদেশ এখন দিপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলার অন্যতম উদাহরণ। বহুকিছু ঘটছে বাংলাদেশে যা অন্যেরা অনুসরণ করছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জাতিরজনকের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক উন্নয়ন-অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক পুরষ্কার অর্জন করেছে।
কম্যুনিটির জনপ্রিয় দুই কন্ঠশিল্পী রাজিব ও তৃণিয়া হাসানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের পর বাপার (বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন) এই বর্ণাঢ্য ডিনারের সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও এওয়ার্ড বিতরণ পর্ব শুরু হয় সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন করম চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে। তিনি বলেছেন, করোনার কারণে গত দু’বছর আমাদের এ অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। ভয়ংকর সে ঘাতকের কবলে আমরা কয়েকজন সহকর্মীসহ কম্যুনিটির প্রিয়-পরিচিত অনেককে হারিয়েছি। সে সব দিনেও বাপা থেমে থাকেনি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। খাদ্য-সামগ্রি ঘরের দরজায় পৌছে দিতেও কুন্ঠাবোধ করিনি। যাদেরকে হারিয়েছি তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

বাপার বোর্ড অব ট্রাস্টির সকলকে মঞ্চে ডেকে পরিচিতি পর্বের পর সমাপনী ভাষণ দেন বাপার ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এরশাদুর সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, সিটি মেয়রের (এশিয়ান বিষয়ক) উপদেষ্টা ফাহাদ সোলায়মান, কম্যুনিটি লিডার গিয়াস আহমেদ, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নুরুল আজিম, কম্যুনিটি লিডার মাহাবুবুর রহমান টুকু এবং ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, পিজি গ্রæপের সিইও পার্থগুপ্ত, ইউনাইটেড টেকনোলজি কোম্পানী ‘প্র্যাট এ্যান্ড হুইটনি’র সহযোগী পরিচালক মোহাম্মদ ইসলাম, এটর্নী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, কাজী আজম, মাকসুদ চৌধুরী, ফিরোজ আলম প্রমুখ।

আগত অতিথিগণকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত ছিলেন বাপার মিডিয়া লিঁয়াজো জামিল সরোয়ার, কম্যুনিটি লিঁয়াজো মাহবুবুর জুয়েলসহ কর্মকর্তারা। এ উৎসব ঘিরে কম্যুনিটির সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্বকারিগণের সমাগম ঘটিয়ে বাপা আবারো প্রমাণ করলো যে, তারা সত্যিকার অর্থেই প্রবাসীদের সাথে মূলধারার সমন্বয়ে সেতৃবন্ধনের দায়িত্ব পালন করছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩১ অক্টোবর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar