রবিবার ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে বরিশাল কার্যত বিচ্ছিন্ন

প্রতিদিন ডেস্ক   |   শুক্রবার, ০৪ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট  

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে বরিশাল কার্যত বিচ্ছিন্ন

আগামীকাল শনিবার বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে বিএনপির এই সমাবেশের আগে সব ধরনের গণপরিবহন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়েছে বরিশাল।

আগের বিভাগীয় সমাবেশগুলোর অভিজ্ঞতায় এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। শনিবার সমাবেশ হলেও সেজন্য আগেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন বহু নেতাকর্মী। মাটিতে ত্রিপল আর বস্তা বিছিয়ে রাত কাটিয়েছেন তারা।

পরিবহন ধর্মঘটের ডাকার পর বিভাগের বিএনপির নেতা-কর্মীদের সমাবেশে যোগদানের জন্য উপযুক্ত সময় ছিল বৃহস্পতিবার। এই দিন কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন পরিবহনে করে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এসে উপস্থিত হন। ভোলার বিএনপি কর্মী মোস্তফা বলেন, ভোলা থেকেই কয়েকশ মানুষ এখানে আছি। আমাদের উপজেলার নেতারা আমাদের খাওয়াচ্ছেন। ট্রলার ভাড়া দিয়েছেন। কাউখালীর আরেক যুবদল কর্মী রাসেল আকন বলেন, আমাদের জন্য নেতারা পর্যাপ্ত কম্বলের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু যত মানুষ সবাইকে কম্বল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে অনেকেই কষ্ট করছেন।

ছাত্রদলকর্মী রায়হান বলেন, আমরা গলাচিপা থেকে এক সঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষ এসেছি।

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চর মাইনকা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন সিকদার বলেন, অসম্ভব দুর্ভোগ-দুর্দশা সহ্য করে সমাবেশস্থলে এসেছি। সরকার সব বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ট্রলার ভাড়া করে কয়েক হাজার মানুষ এসেছি। এতো কষ্ট করছি শুধু ভোটাধিকার ফেরত পাওয়ার জন্য। ১৫ বছর ধরে ভোট দিতে পারি না। অথচ দেশ স্বাধীন হয়েছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েই।

৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের সম্পাদক আব্দুর রহিম সরদার বলেন, কষ্ট করছি আরও করব। কিন্তু ভোট না দিয়ে মেম্বার-চেয়ারম্যান-এমপি নির্বাচনের খেলা আর দেখতে চাই না।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বরগুনা থেকে ৪১টি ট্রলার নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা করেন দলের কর্মীরা। তাদের দাবি, সড়কপথে কোনোভাবেই বরিশাল যেতে না পেরে শেষে এ পথ বেছে নেন তারা।

বরগুনা জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদ মোল্লা বলেন, সরকার ও সরকারি দলের দুরভিসন্ধি আমরা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম। এ কারণে যুবদলের নেতা-কর্মীদের নৌপথে বরিশাল যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল।

বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুজ্জামান টিটু বলেন, হঠাৎ করে ধর্মঘট ডেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বরগুনা জেলা বাস মালিক সমিতি। এ কারণে সড়কপথে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বরিশালে পৌঁছেছেন। যারা বাকি ছিলেন তারা বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলারযোগে বরিশাল রওনা দিয়েছেন।

বরিশাল থেকে অভ্যান্তরীণ ও দূর পাল্লার বাস, ইজিবাইক চলাচল আগেই বন্ধ ঘোষণা করেন মালিক-শ্রমিকরা। এরপর বুধবার রাতে বন্ধ করা হয় স্পিডবোট সার্ভিস। আর বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা-বরিশাল রুটের লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করা হয়। আর বিকেলে ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চলাচলও দু’দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা আসে। জেলা ট্যাক্সি ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ নুরুজ্জামান জলিল বলেন, শহরে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় মাইক্রো চালকদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে, যদি হামলা হয় তাহলে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এই ক্ষতির মুখে যেন না পড়তে হয় এজন্যই আপাতত না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা-বরিশাল রুটের লঞ্চ চলাচল মূলত পূর্বঘোষণা ছাড়াই বন্ধ হয়। লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় ব‌রিশাল-‌ভোলা রুটে যাতায়াতাকারী নিয়‌মিত যাত্রীদের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রা‌ফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের প‌রিদর্শক ক‌বির হোসেন জানান, ভোলায় আওলাদ নামক এক‌টি লঞ্চে বুধবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে শুধু ভোলা রুটে লঞ্চ চলছে না। তবে ব‌রিশালের লঞ্চ মা‌লিক স‌মি‌তি লঞ্চ বন্ধের কারণ জানাতে পারেনি।
হোটেলে হোটেলে যাচ্ছে পুলিশ : বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোর ‘খোঁজ-খবর’ নিচ্ছে পুলিশ। হোটেল মালিকরা বলছেন, নতুন করে বোর্ডার বা অতিথি তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

হোটেল শামস-এর ব্যবস্থাপক মানিক হাওলাদার বলেন, নতুন বোর্ডার নিতে পারব না এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসন থেকে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, কক্ষ ভাড়া দেওয়ার যে নীতিমালা রয়েছে তা যেন অনুসরণ করা হয়। ভাড়া যিনি নেবেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি তুলে রাখাসহ হালনাগাদ তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখতে বলা হয়েছে।

হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের উপ-ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান লিটন বলেন, নগরীর ভালো হোটেলগুলো বোর্ডার ভাড়ার নীতিমালা অনুসরণ করে, আমরাও করি।

হোটেল স্যাডোনা ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক জহির বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে আমাদের হোটেলে বোর্ডারের চাপ বেশি। তবে ১ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত একটি সিটও খালি নেই।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:০৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ নভেম্বর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar