
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের উভয়কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট রাখতে সক্ষম না হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অপসারণ (ইমপিচ) করা হবে। এমন আশংকার কথা প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেই প্রকাশ করেছেন বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে।
বাইডেন বলেছেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই অবহিত হয়েছি যে, যদি তারা (রিপাবলিকান) ইউএস সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয় তাহলে আমাকে ইমপিচ করা হবে। তবে আমি জানি না কিংবা বুঝতে পারছি না কী কারণে ওরা আমাকে ইমপিচ করবে।’ ক্যালিফের্নিয়ার কংগ্রেসনাল ডিিস্ট্রক্ট-৪৯ এর ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী মাইক লেভিনের পুননির্বাচনের এ সমাবেশ হয় সান দিয়েগো সিটিতে। বাইডেনের এমন বক্তব্যের সময় সমাবেশের সকলেই হাস্যরসে মেতে উঠেন, অর্থাৎ কেউই এমন আশংকাকে আমলে নিতে চাননি। তবে বাইডেন আরো উচ্চস্বরে উল্লেখ করেন, ‘আমি মজা করছি না। তামাশাও নয়।’ বাইডেন বলেন, ‘সাম্প্রুতিক সময়ে তারা বলেছেন আমাদেরকে থেমে যাওয়া উচিত।
জয়ী না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাতে ওদের বিরুদ্ধে (ট্রাম্প) কোন কথা না বলি।’ গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রিপাবলিকানদের এমন অভিসন্ধির কথা প্রকাশ করে। সম্ভবত: সে দিকে ইঙ্গিত করেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন ভোটারদের সতর্ক করলেন। ডেমক্র্যাটদের বিরাট বিজয় প্রদানের জন্যে ভোটারের প্রতি এমন অভিব্যক্তির গুরুত্ব অপরিসীম বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টির নেতা কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাককার্থি গত মাসে একটি গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, আমি মনে করছি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে ইমপিচমেন্টের মত কঠিন একটি প্রক্রিয়ায় কারোরই যাওয়া উচিত নয়।
উল্লেখ্য, রিপাবলিকানরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তবে ম্যাককার্থি হবেন স্পিকার। আরো উল্লেখ্য, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক কংগ্রেসওম্যান মারজোরি টেইলর গত বছর বাইডেনকে ইমপিচের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন কিন্তু তারা সংখ্যলঘিষ্ট হওয়ায় সেটি আমলে আসেনি। সিনেটে বাইডেনকে ইমপিচ করতে রিপাবলিকানদের জোরালো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রয়োজন নেই। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ঠ। তবে বাইডেনকে শাস্তি প্রদান এবং হোয়াইট হাউজ থেকে অপসারণ করতে হলে সিনেটের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন লাগবে। রিপাবলিকানরা মনে করছেন যে, বাইডেনের পুত্র হান্টার বাইডেনের ব্যবসায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতারণার ব্যপারগুলো বাইডেনকে অপসারণের হাতিয়ার হতে পারে। এছাড়া, আফগানিস্তান থেকে পাততাড়ি গুটানোর ব্যাপারটিও বাইডেনকে ইমপিচের অন্যতম কারণ হবে বলে ভাবছেন রিপাবলিকানরা।
এহেন অবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ময়দানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সী পেলসির বাসায় হামলা এবং তার স্বামীকে গুরুতরভাবে জখম করার ঘটনা ছাড়াও বেশ কয়েকজন কংগ্রেসমানকে হুমকি দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারাও শংকিত। ট্রাম্পের সমর্থক, যারা গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল এখনও মেনে নেয়নি, তারা সুযোগ খুঁজছেন সহিংসতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে। এমন অশংকা বাইডেনের মত সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামাও করেছেন।



