
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৮১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় হিলসাইড এভিনিউর বিস্তৃত এলাকাকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ করা হয়েছে বছরখানেক আগে। সেই এলাকায় কম্যুনিটির জনপ্রিয় তাজমহল পার্টি হলের সুপরিসর দেয়ালে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ সহ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অবিকল একটি চিত্র তথা দেয়াল চিত্র’র উদ্বোধন করলেন দুই কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী একুশে পদকপ্রাপ্ত রথীন্দ্রনাথ রায় এবং কাদেরি কিবরিয়া। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই দুই কণ্ঠযোদ্ধা ১৩ নভেম্বর বিশিষ্টজনদের পাশে নিয়ে ম্যুরাল তথা দেয়াল চিত্রটির অবমুক্ত করেন।
এমন একটি উদ্যোগের প্রেক্ষাপট উপস্থাপনকালে এই দেয়াল তথা তাজমহল রেস্টুরেন্টের মালিক মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, ‘চিত্রশিল্পী টিপু আলম অনেক দিন থেকেই আমাকে বলছিলেন দেয়ালটিকে কিছু একটা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করার জন্যে। কিন্তু আমি তা আমলে নেইনি। আমার হৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি। অধিকন্তু তা সাদা রাখতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছিলাম। অতি সম্প্রতি টিপু এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে এলেন যা দেখে মনে হলো, আরে এটাই তো চাই। দেশে যাবার প্রয়োজন হবে না। সকাল-বিকাল এই ম্যুরাল দেখবো আর দেশকে মনে করবো, যেখানে আমার নাড়ি পোতা, নাড়ির টান।’
এর আগে ম্যূরালের প্রেক্ষাপট উপস্থাপনকালে খ্যাতনামা শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, এটি একটি ল্যাটিন শব্দ। যখন মানবসভ্যতার বালাই ছিল না। ভাষাও আবিস্কার হয়নি। সে সময় এমন ছবির মাধ্যমে সবকিছু প্রকাশের প্রয়াস চালানো হয়েছে। এর ব্যাপ্তি ঘটে উনিশ শতকে। দেয়ালে না এঁকে অনেকে ক্যানভাসে এঁকে তা দেয়ালে সেটে দেয়া হতো। দেয়াল এবং কখনো কখনো বাড়ির ছাদেও এমন ছবি আঁকা হতো। বলা যেতে পারে ম্যুরালের মধ্যদিয়েই মানবসভ্যতার উৎপত্তি ঘটেছে। তাই আমাদের সকলের গভীর ভালবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে বাংলাদেশের স্মৃতি হৃদয়পটে ভেসে উঠার সহায়ক এই ম্যূরালের প্রতি। এমন একটি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে উদ্যোক্তা এবং আর্টিস্ট উভয়ের প্রতিই ধন্যবাদ জানিয়েছেন রথীন্দ্রনাথ রায়। অপর কন্ঠযোদ্ধা কাদেরি কিবরিয়া বলেন, এভাবে ফিতা কেটে ম্যূরালের অবমুক্ত ঘটানো আমার জীবনে প্রথম। আজীবন তা স্মৃতি হয়ে থাকবে।
সাংস্কৃতিক সংগঠক গোলাম সারোয়ার হারুনের ব্যবস্থাপনায় পরবর্তীতে তাজমহল পার্টি হলে দুই কন্ঠযোদ্ধা বাংলাদেশের গান পরিবেশন করেন। উপস্থিত সুধীজনের মধ্যথেকে অনেকেই এই ম্যুরালের আর্টিস্ট ও উদ্যোক্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে এটি হচ্ছে তৃতীয় ম্যুরাল। এর আগে জ্যাকসন হাইটসে ব্যস্ততম ৭৩ স্ট্রিটের একটি দেয়ালে জাতীয় স্মৃতিসোধ আঁকা হয়েছিল। সেটি এখন আর দেখা যায় না। দ্বিতীয় ম্যুরালটি হচ্ছে ব্রঙ্কসে এবং মাতৃভাষা দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষে সকল অনুষ্ঠান সেই ম্যূরালের সামনে হচ্ছে।



