
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ২৫ নভেম্বর বলেছেন, করোনা মহামারির পরই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ঝাকুনিতে গোটাবিশ্ব টালমাটাল অবস্থায় নিপতিত। তেমন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের ইকনোমি এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমাদের ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ এখনো বাংলাদেশের ৩২ বিলিয়ন ডলার। তবে এই রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। কারণ আপনারা সবাই জানেন, আমাদেরকে অনেক কিছুই আমদানী করতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই আমদানি করতে পণ্যমূল্য যেহারে বেড়েছে, সে তুলনায় আমাদের রিজার্ভ বাড়েনি। এর ফলে ফরেন কারেন্সীর ওপর একটু চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবুও আমাদের যে রিজার্ভ রয়েছে তার মাধ্যমে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ইমপোর্ট করা সম্ভব। আরেকটি বিষয় জেনে আপনারা খুশি হবেন যে, চলতি অর্থ বছরের গত চার মাস অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের ফরেন কারেন্সীর যে চাহিদা ছিল তার সমন্বয় ঘটেছে রেমিটেন্স এবং রফতানির মাধ্যমে। অর্থাৎ এই চারমাসে আমদানি-রফতানিতে কোনো নেগেটিভ অবস্থা ছিল না। বলা যায়, এখন পর্যন্ত পজেটিভ গ্রোথ আছে।
আফজাল করিম উল্লেখ করেন, রেমিটেন্সের প্রবাহও তেমন একটা কমেনি। গত অর্থ বছর ২১ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল বাংলাদেশে। আর চলতি অর্থ বছরের গত চারমাসে রেমিটেন্স গেছে বাংলাদেশে ৭.১৯ বিলিয়ন ডলার-যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বেশী। অর্থাৎ রেমিটেন্সের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পজিটিভ অবস্থায় রয়েছে সারাবিশ্বে এত প্রতিক’লতা সত্বেও। সুতরাং আমি বলবো, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তাতে কান দেয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই।

সোনালী ব্যাংকের এমডি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচক যদি দেখেন তাহলে প্রত্যেকটি প্যারামিটারই যথেষ্ঠ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাই কোন ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্যের কোন ঘাটতি নেই বলে উল্লেখ করে ঝানু ব্যাংকার আফজাল করিম বলেন, তাহলে তো ব্যাংকে টাকা উইথড্র করতে গেলে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরতেন। এখনও এক লক্ষ ৬৯ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এ নিয়েও শংকিত হবার কোন কারণ নেই। আরেকটি উদাহরণ দিয়ে বলি, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার সেন্ট্রাল ব্যাংকের মাধ্যমে সিএমইসি চালু করেছে, যেখানে বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং তা রিফাইন্যান্সিংয়ের জন্যে। যারা প্রান্তিক পর্যায়ের জনগন, যাদের কোলেটারেল সিকিউরিটির সামর্থ্য নেই, তাদেরকে ক্রেডিট গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশ ব্যাঙক অর্থাৎ কোন রকমের কোলেটারেল সিকিউরিটি ছাড়াই তারা ঋণ নিতে পারবেন এবং এই ঋণের জন্যে ঘোষিত প্যাকেজে বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। আফজাল করিম প্রবাসীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো বলেন, বৈধপথে প্রেরিত অর্থে আপনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। বেআইনী পথে প্রেরিত অর্থ দিয়ে কোন কলকারখানা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে পারবেন না। প্রতি পদে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, কভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির শিকার গোটাবিশ্বের মত বাংলাদেশও। কারণ, গ্লোবাল ভিলেজে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ। তার পরিপ্রেক্ষিতে আজকের এ মতবিনিময় সমাবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। সোনালী ব্যাংকের পরিচালক আতাউর রহমানও বক্তব্য রাখেন।
সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ‘সোনালী এক্সচেঞ্জ’র প্রধান নির্বাহী দেবেশ্রী মিত্র স্বাগত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রেমিটেন্সের প্রবাহ অব্যাহত রাখতে অর্থাৎ বেআইনী চ্যানেল পরিহার করে লিগ্যাল চ্যানেলে সকলেই যাতে কষ্টার্জিত অর্থ বাংলাদেশে প্রেরণ করেন সে জন্যে ফি নেয়ার প্রথা রহিত করা হয়েছে। আগে থেকেই প্রেরিত অর্থের ওপর রয়েছে ২.৫% বোনাস। এমনকি ছুটির দিনেও যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জের সকল শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
‘সোনালী এক্সচেঞ্জ’র উদ্যোগে জ্যামাইকায় একটি রেস্টুরেন্টে ‘বৈদেশিক রেমিটেন্স এবং বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির কর্পোরেট অফিসের ম্যানেজার শাহাদৎ হোসেন।
মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারি বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার আহসান হাবিব, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নারগিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট সৈয়দ মোস্তফা আল আমিন রাসেল প্রমুখ। মতবিনিময় সভার আগে সোনালী এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শনকালে আফজাল করিম প্রবাসীদের সাথে নানা বিষয়ে কথা বলেন।



