
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১৩৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

লক্ষাধিক বাংলাদেশিসহ প্রায় সোয়া কোটি কাগজপত্রহীন অভিবাসীর টানা তিন দশকের প্রতিক্ষার চির-অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ডেমক্র্যাটরা বারবার ভোট নিয়েছে এসব অভিবাসীকে বৈধতা প্রদানের। কংগ্রেসের উভয়কক্ষে বেশ কয়েক দফা তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতাসহ হোয়াইট হাউজেও অধিষ্ঠিত হয়েছেন। অর্থাৎ সিনেট ও হাউজে বিল পাশের পর প্রেসিডেন্ট কর্তৃক স্বাক্ষরেও কোনো সমস্যা ছিল না। তবুও বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা তাঁদের নির্বাচনী অঙ্গিকারের পরিপূরক অভিবাসন বিল পাশে আন্তরিক কোন পদক্ষেপই নেননি।
সর্বশেষ নির্বাচনে জো বাইডেনেরও অন্যতম অঙ্গিকার ছিল অভিবাসন ইস্যুটি। গত দু’বছর কংগ্রেসে ডেমক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠও ছিলো। তবুও কমপ্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাস করার আন্তরিক উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে ডেমক্র্যাটরা। ইউএস সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনমতে অটুট রেখেছে তারা। অর্থাৎ ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ভোটে ডেমক্র্যাটরা গত দু’বছরের মত সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখছে।
জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন বসলেই রিপাবলিকানদের কব্জায় যাবে হাউজ। অর্থাৎ আর কোন সুযোগই থাকবে না অভিবাসন ব্যবস্থাকে সংস্কারের। জানুয়ারিতে হাউজে রিপাবলিকান পার্টির নেতা হবেন কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাককার্থি। তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র নিরাপদ করার পরই কেবলমাত্র অভিবাসন ইস্যুটি সামনে আসতে পারে। এ অবস্থায় ঝুলে থাকা অভিবাসনের কার্যক্রম (পারিবারিক কোটায় আত্মীয়-স্বজনের যুক্তরাষ্ট্রে আনা)ও চাঙ্গা হবে বলে কেউই মনে করছেন না।
বিশ্বখ্যাত এবং সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশী প্রচার সংখ্যার দৈনিক ‘ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল’-এ ২৬ নভেম্বর এ নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি সেক্টরে শ্রমিকের সংকট চলছে। তাই জানুয়ারির আগেই মৌসুমী শ্রমিকের জন্যে (এইচ-২এ) ভিসা ইস্যুর একটি বিল পাশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই ভিসায় আগতরা যাতে তিন বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারে-সে ব্যবস্থার প্রস্তাবনা চলছে ডেমক্র্যাট শিবিরে। ভিসার কোটাও ২০ হাজার থেকে বৃদ্ধির কথা উঠেছে। একইসাথে কাগজপত্রহীন ১০ লাখ কৃষি শ্রমিককে গ্রিনকার্ড প্রদানের ব্যাপারেও ডেমক্র্যাটরা আলোচনা শুরু করেছেন বলে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সোয়া কোটি অভিবাসীর প্রসঙ্গটি হারিয়ে যেতে বসেছে। ১০ লাখ কৃষি শ্রমিককে গ্রিনকার্ড প্রদানের বিল পাশ হলে অপর এক কোটি ১৫ লাখ কাগজপত্রহীন অভিবাসীর ভাগ্য একেবারেই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। অথচ এরা সকলেই কঠোর শ্রম দিচ্ছেন এবং ৯০% এর অধিক কোন ধরনের অপরাধে লিপ্ত নেই।
৪০% এর মত ট্যাক্স প্রদানও করছে। অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত সংগঠনের পক্ষ থেকে দেন-দরবার অব্যাহত থাকলেও সোয়া কোটি অভিবাসীর ভাগ্য প্রসন্নে কেউই আন্তরিক উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেন-সে প্রশ্ন ক্রমে জোরদার হচ্ছে। অপরদিকে, ১০ লাখ কৃষি শ্রমিকের গ্রীণকার্ডের বিল উত্থাপনের জন্যে খামার-মালিকেরা লবিস্ট ভাড়া করেছেন। গত নির্বাচনে কংগ্রেসের গুরুত্বপূণ প্রার্থীদের মোটা অংকের চাঁদা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।



