
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ৯৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধজনিত কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক দাতাগনের কাছে ৫১.৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চেয়েছে জাতিসংঘ। চলমান এই যুদ্ধের কারণে খাদ্য ও সার পরিবহনে ব্যাঘাত জলবায়ু সম্পর্কিত বিপর্যয়ের সাথে যুক্ত হয়েছে। এরফলে আধুুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের দিকে ধাবিত করছে গোটাবিশ্বকে। ক্রমে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আশংকা বৃদ্ধি করছে।
বৃহস্পতিবার জেনিভায় জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারি মার্টিন গ্রিফিথস গণমাধ্যমে ধনীক শ্রেণীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজন বেড়ে যাচ্ছে। কারণ আমরা ইউক্রেন যুদ্ধ, কোভিড মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনের পথপরিক্রমায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং আশংকা করছি যে, সামনের বছর এহেন নাজুক পরিস্থিতিকে আরো ভয়ংকর করতে পারে। অর্থাৎ ২০২৩ সালে এ বিশ্বের প্রতি ২৩ জনের মধ্যে একজনেরই অর্থ-খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হবে।
জাতিসংঘের ধারণা, চলতি বছরের তুলনায় অভাব/সংকটে পড়া মানুষের সংখ্যা সামনের বছর ২৫% বেশীহবে, যা বিশ্বের তৃতীয় জনবহুল দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার চেয়েও অধিক।
মার্টিন গ্রিফিথস উল্লেখ করেন, এটি একটি অবিশ্বাস্য রকমের সংখ্যা এবং খুবই হতাশা ব্যঞ্জক। বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ত্রাণ চাহিদা মেটাতেই যেখানে জাতিসংঘ হিমসিম খাচ্ছে, তার সাথে যোগ হতে চলেছে নতুন এ পরিস্থিতি।
তিনি উল্লেখ করেছেন, একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশী সহায়তা লাগবে ইউক্রেনে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সংস্থাসমূহ চলতি বছর ইউক্রেনের এক কোটি ৩০ লাখের বেশী দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা দিয়েছে এবং সামনের বছর ইউক্রেন ছাড়াও ইউক্রেনিয়ান শরণাথীদের জন্যে আশপাশের দেশসমূহ আরো ৫.৭ বিলিয়ন চেয়েছে। জাতিসংঘের মতে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবেলায় চলতি বছর সবচেয়ে বড় অংকের নগদ-সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। যা আগের বছরের মাত্র ১১ হাজার জনকে ছাড়িয়ে ৬০ লাখে দাড় করিয়েছে। জাতিসংঘের ধারণা, চলতি ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ৫৩টি দেশে অন্তত: ২২ কোটি ২০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পতিত হবে। এরমধ্যে ৫টি দেশ ইতিমধ্যেই দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়েছে। গ্রিফিথস বলেছেন, ৩৭টি দেশে ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১০ কোটির মত। এটিও অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছেন বলে উল্লেখ করেছেন গ্রিফিথস।
কোভিড১৯ এর ক্রমাগত বিস্তার, আফ্রিকার কিছু অংশে ইবোলার প্রত্যাবর্তন এবং কলেরার প্রাদুর্ভাব, একইসাথে ৩০টি দেশে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তোলেছে। জনস্বাস্থ্যের জন্যে যা বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ। গ্রিফিথস বিশেষভাবে উল্লেখন করেন, আগের চেয়ে চলতি বছর মানবিক সহায়তা প্রাপ্তির পরিমাণ কমেছে। আগে জাতিসংঘ যে সহায়তার আহবান জানিয়েছে তার ৬০% থেকে ৬৫% পর্যন্ত সংগৃহিত হয়।
চলতি ২০২২ সালে তা অর্ধেকেরও নীচে নেমে এসেছে। বছরের শুরুতে জতিসংঘ ৪১ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা চেয়েছিল। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে সহায়তার পরিমাণ ৫১ বিলিয়ন ডলারে বাড়ালেও পাওয়া গেছে মাত্র ২৪ বিলিয়ন ডলারের মত অর্থাৎ প্রয়োজনের অর্ধেক। জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নর্দিক এবং ইউরোপের মত মূল দাতা দেশগুলো তাদের অঙ্গিকার পূরণে অনেকাংশে সক্ষম থাকলেও প্রাপ্তির ব্যবধান কমেছে কারণ, নানাবিধ সংঘাতে প্রয়োজন ক্রমেই বৃদ্ধি করছে অর্থাৎ দুর্দশার কবলে পড়া জনগোষ্ঠির সংখ্যা বেড়েই চলছে।



